আখাউড়া পৌরসভার টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নাম উপজেলা শিক্ষা অফিসের খাতায় নেই !

23

আখাউড়া পৌরসভার টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির নাম উপজেলা শিক্ষা অফিসের খাতায় নেই। কোমলমতি ৪৫ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ একরকম অনিশ্চিত! এ কথা কথা জানে না শিক্ষা অফিসার। ওই বিদ্যালয়ের দায়-দায়িত্ব শিক্ষা অফিসের না বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা। অথচ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে পা রেখেছে। দীর্ঘদিন পার হলেও বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হয়নি। এ পর্যন্ত এক পয়সাও সরকারি অনুদান পৌঁছেনি বিদ্যালয়টিতে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের ঘরটি ভেঙে পড়ায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

স্কুল ভাঙাচুরা, প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে পাঠদান

বিদ্যালয়টি টিনের চাল, বেড়া, দরোজা-জানালা ভেঙে পড়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে এখন পাঠদান করানো হচ্ছে। এ কথা জানার পর অবশেষে বিদ্যালয়টির দায়িত্ব নিয়েছেন আখাউড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে আখাউড়া পৌরসভার টানপাড়া গ্রামবাসী টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয় সেই সময়ে। প্রথম দিকে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বিদ্যালয়টির ঘর দরোজা ভেঙে পড়ার ফলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তিসহ সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কারণ তারা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী। শিক্ষকরাও বিনা পয়সায় পাঠদান করাচ্ছেন। ৩৩ শতক ভূমির ওপর বিদ্যালয়টি দুই চালা টিনের ঘর, টিনের বেড়ায় নির্মিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উন্নয়নের হাত না লাগার কারণে ধীরে ধীরে ঘরটি ভেঙে পড়ে যায়।

বেসরকারি বিদ্যালয় হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে ওই বিদ্যালয়টির নাম নেই বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূরজাহান বেগম। তিনি প্রথমে জানান আখাউড়াতে কোন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। পরে তিনি অন্যদের জিজ্ঞেস করে জানান, ‘ওই বিদ্যালয়ের দায় দায়িত্ব আমাদের নেই।’

টানপাড়া গ্রামের ইয়াছমিন বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে ওই স্কুলে টুতে পড়ত। স্কুলটি ভেঙে যাওয়ার কারণে ভয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’

টানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বছর খানেক আগেও ১৩৮ জন শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কারণে বর্তমানে ৪৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি ভাঙচুরার কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণেও কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আমরা শিক্ষকরাও বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মহসিন মিয়া মন্টু বলেন, ‘এলাকার ছোট ছোট শিশুদের কথা চিন্তা করে ও সকল নিয়ম কানুন মেনেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। অবশেষে আমরা গ্রামবাসীরা মিটিং করে এবং সবার সম্মতিক্রমে চলতি মাসের ২৪ তারিখে আখাউড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নিকট বিদ্যালয়টি হস্তান্তর করেছি। যতদিন পর্যন্ত নতুন ভবন না হচ্ছে ততদিন এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে পাঠদান করানো হবে আগের মতোই।’

উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু ওই বিদ্যালয়ে বই প্রশ্নপত্র দিয়ে থাকি। সরকারি বিদ্যালয়ের কাজ করে ওই বিদ্যালয়ের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘গ্রামবাসী পৌরসভার কাছে স্কুলটি হস্তান্তর করেছেন। এই প্রাইমারী স্কুলটিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু করার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ পৌরসভার এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে স্কুল ভবনসহ সকল কার্যক্রমের ব্যয় গ্রহণ করা হবে। আগামী মাস থেকে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।’