আটপাড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় মামলা: ৬দিনেও আসামী ধরা পড়েনি

96

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : ২৫ মার্চ নেত্রকোণা জেলায় আটপাড়া উপজেলার খিলা গ্রামে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে । হামলায় কমপক্ষে ১০/১২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে খিলা গ্রামে পাওনা টাকা আদায় করতে গেলে একই গ্রামের মো: হাশেম তার সন্ত্রাসী দল-বল নিয়ে পাওনাদার সম্রাট মিয়ার বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করে সড়কি, বল্লম, রামদা, রড, লাটিসহ মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুর চালায়। পরিকল্পিত এই হামলায় নারী-পুরুষ-শিশুসহ ১০-১২জন গুরুতর আহত হয় অনেকে। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত এলোপাথারী আক্রমণে সম্রাট মিয়া (৩৫), হোসনে আরা (৪০), ওয়াজিবুল (১৮) রবিন (১৮) কাশেম (৬০) মুখলেছ (২২), জসিম (২৫) ওবায়দুল (১৬)সহ আরো অনেকে মারাত্মকভাবে জখম ও আহত হয়। হোসনে আরা, রবিন, কাশেম, মুখলেছ, জসিম, ওবায়দুল তিনদিনের চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরলেও ওয়াজিবুলের অবস্থা আশংকাজনক ফলে গতকাল তাকে আটপাড়া হাসপাতাল থেকে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ত্রাসীদের রাম দাঁয়ের কোপে সম্রাট মিয়ার মাথা খন্ডিত হয়ে যায় এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রচন্ড রক্তক্ষরণের সাথে বমি শুরু হয়, সম্রাট মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেললে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে আটপাড়া সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সম্রাট মিয়ার আশংকাজনক অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐদিনেই ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠান। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক ঘন্টা চিকিৎসার পর সম্রাট মিয়ার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে কতর্ব্যরত ডাক্তার তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাম দায়েঁর প্রচন্ড আঘাতে সম্রাট মিয়ার মাথার মস্তিস্ক কেটে দেবে গিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ৩ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে । ঘটনার দিন থেকে সম্রাট মিয়া এখন পর্যন্ত অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতৃুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সম্রাট মিয়ার অবস্থা খুব আশংকাজনক ও নাজুক। উন্নত চিকিৎসা না হলে যেকোন মূহুর্ত্বে অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

আটপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। যার নম্বর-১৪৩১৯। এ ঘটনায়  দফায় দফায় পুলিশ গেলেও আসামীদের ধরা সম্ভব হয়নি।

সন্ত্রাসী হামলার ৬দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও আসামীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে । এই নিয়ে এলাকায় জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।