আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত দেশীয় উদ্ভাবনসমূহ নিয়ে ইনোভেশান ল্যাবের মতবিনিময়

64

 অনিন্দ্যবাংলা :  আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত দেশীয় উদ্ভাবনসমূহ নিয়ে এটুআই-ইনোভেশন ল্যাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আই ল্যাব অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইটিইএক্স-২০১৯ সম্মাননা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রজেক্টের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা।

মতবিনিময়কালে বক্তারা বলেন, উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা ও মেধাস্বত্ত্বের বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। আর মেধাস্বত্ত্বের মাধ্যমে সেই উদ্ভাবনকে নিরাপদ রাখতে হবে।রবিবার (১২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে এটুআই (একসেস টু ইনফরমেশন) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ ও নীতি নির্ধারকরা।

মতবিনিময় সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর  প্রতিমন্ত্রী  জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি। প্যানেল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ এবং সঞ্চালনা করেন এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত হিউম্যান রিসোর্স প্ল্যানিং চিন্তাধারার। ইনোভেটিভ প্রজেক্টগুলোকে পাইলটিং করার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মাননীয় মন্ত্রী আই ল্যাবকে নতুনভাবে আই ওপেনার ল্যাব বলে আখ্যায়িত করেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-এর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আবিষ্কারের সুফল এ জাতি পাবে না যদি আমরা মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ না করি। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এটি একটি আবশ্যিক বিষয়। আই ল্যাবে সকল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেধাসত্ত্ব সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ করা উচিত বলে দাবী করেন মন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি বলেন, তরুণদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমস্যার সমাধান, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে আমাদের উচিত শিল্প উদ্যোক্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের উদ্ভাবনের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করা। আর এই সমন্বয় সাধনের সাথে সৃষ্টিশীলতা ও যৌথ বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আগামী ২০ বছরের মধ্যে একটি উদ্ভাবনী জাতিতে পরিণত হবে।

এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ বলেন, আমাদের উদ্ভাবনী পণ্যের সাথে বাণিজ্যিক পণ্যের একটা যোগসূত্র তৈরি করতে হবে এবং এর জন্য সরকারের সবগুলো সুযোগকে এক সুঁতোয় বাধতে হবে।

ইনোভেশন ল্যাব একটি সমন্বিত মডেল নিয়ে কাজ করছে, এতে যুক্ত হয়েছে ১৩৭ টি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও বাণিজ্যিক চিন্তাবিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেন্টর প্যানেল। ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট, পেটেণ্ট ও কপিরাইট এর কারণে ইনোভেশন ল্যাব একটি আলাদা রূপ লাভ করেছে (সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বোধনকৃত ডিজিটাল কপিরাইট প্ল্যাটফর্ম এটুআই ইনোভেশন ফান্ড এর অর্থায়ন ও আই ল্যাবের প্রত্যক্ষ কারিগরি সহায়তাতেই শুরু হয়েছে)।

সম্প্রতি বৃহত্তর এশিয়ার প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এবং প্রতিযোগিতা আইটিইএক্স (ITEX) ২০১৯ এ গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও এটুআই এর আই ল্যাব বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বছর আই ল্যাব এর গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ স্বর্ণ পদক এবং অন্য ৪ টি উদ্যোগ সিলভার পদক (পাম্পিং ওয়াটার ফ্রম ডাউনহিল সোর্স টু আপহিল, ইউজড কুকিং ওয়েল, স্মার্ট হোয়াইট ক্যান এবং পিএনপিকে) অর্জন করে। গ্রামীণ ই-কমার্স উদ্যোগ ‘একশপ’ শুধু স্বর্ণ পদকই নয়, ২১ টি দেশের মধ্যে সেরা আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ট্রফিও অর্জন করেছে। এবারের আয়োজনে ২১ টি দেশের ১,৩২৭ টি উদ্ভাবন উপস্থাপিত হয়েছিল। আইটিইএক্স ২০১৮ তেও এটুআই-এর আইল্যাব অংশগ্রহণ করে এবং দুইটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক অর্জন করে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এর ইনোভেশন ল্যাব (আই ল্যাব) গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশে তারুণ্য নির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগের একটি সূতিকাগার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটুআই এর আইডিয়া ব্যাংক বা সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড (এসআইএফ) এর মাধ্যমে বিগত তিন বছরে ১৪,০০০ এরও বেশি উদ্ভাবনী আবেদন পর্যালোচনা, ২,০০০ এরও বেশি আবেদন নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা ও ২১৭ টি উদ্যোগকে বাস্তবায়ন উপযোগী করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদ সংস্থার সিনিয়র সাংবাদিকগণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিভাগ এবং এটুআই এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অর্জনের বিভিন্ন দিক মিডিয়াতে তুলে ধরা এবং মিডিয়ার সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্যানেল আলোচনার শেষে একটি ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।