আপেলের উপকারিতা : প্রতিদিন একটি আপেল খান !

50
ক্যাপশন
ক্যাপশন
অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : পৃথিবীতে তিন আপেল বিখ্যাত। আদম-হাওয়ার আপেল, নিউটনের আপেল আর  স্টিভজবসের আপেল কম্পিউটার ও ফোন। কিন্তু জীবনে বাঁচার জন্য খাদ্য অপরিহার্য। খাদ্যের তালিকায় ফল-মূল একান্ত অপরিহার্য। ফলের নাম আসলেই আপেলের নাম সবার আগে আসে।

আপেলের উপকারিতা কেউ জানুক আর নাই বা জানুক সবার কাছেই যে এটি খুব প্রিয় এই কথা কিন্তু শতভাগ প্রমাণিত। প্রকৃতিতে যে ফলগুলো পাওয়া যায় তাদের মধ্যে খুবই পরিচিত এবং সবারই অতি প্রিয় একটি ফল হলো আপেল। ছোট বড় সবারই প্রিয় ফলের তালিকায় একদম উপরের দিকেই অবস্থান এই ফলটির। আপেলকে শুধু একটি ফল বলা ভুল হবে। একে বলা যেতে পারে একটি প্রাকৃতিক ঔষধ।

আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াতে যেতে হলে হাতে করে কিছু ফল কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার নিতেই হয়। যুগ যুগ ধরে এটি একটি বাঙালী ঐতিহ্য হিসেবে পালন হয়ে আসছে। যে কোন অনুষ্ঠানের জন্যই ফল কিনতে গেলে সবারই মাথায় প্রথম যে ফলের কথা আসে তা হলো আপেল। শুধু অনুষ্ঠান নয়, অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলে সেখানেও এই ফলের যথেষ্ট কদর রয়েছে। অবশ্য বেশিরভাগ মানুষই আপেলের উপকারিতা না জেনেই কেবল চিরাচরিত নিয়ম পালন করতেই আপেল কিনেন। তবে তারা যদি আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানত তাহলে তারা বুজতে পারতো যে তারা কত দামী একটি ফল কিনেছেন। আজ আমরা জেনে নিবো আপেলর স্বাস্থ্য গুণাগুণ সম্পর্কে কিছু না জানা তথ্য।

আপেলের উপকারিতা

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় কেন আপেল খাবেন? বেশিরভাগ মানুষই হয়তো উত্তর দিবে যে এটি একটি সুস্বাদু এবং মজাদার ফল তাই খাই। কিন্তু যদি জানতে চাওয়া হয় যে এই ফলটির স্বাস্থ্য উপকারিতা কতটুকু? শরীরের জন্য এই ফলটি কতটা উপকারী তাহলে কি কিছু বলতে পারবেন? আগেই বলেছি যে আপেলকে শুধু একটা ফল হিসেবে না ডেকে একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে ডাকাই মনে হয় ভালো হবে। এই কারণে একটা প্রবাদ বাক্য রয়েছে।

প্রতিদিন একটি আপেল খান, ডাক্তারের প্রয়োজন দূরে সরান, অতি পুরনো একটি কথা। আপেল খেলে কেন ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তা কমবে? এমন কি আছে যা আপেলের উপকারিতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আপেলের উপকারিতা

একটু দামী হলেও আপেল সত্যি সত্যিই খুব উপকারী একটি ফল। এটি রোগ প্রতিরোধক ও পুষ্টিকর একটি ফল যা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আপেলে আছে শর্করা, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ, পেকটিন ও ম্যালিক এসিড। এতে শর্করার পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ। ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি এবং এগুলোর উপস্থিতি আপেলের ছালে এবং ছালের সাথে লাগানো মাংসল অংশেই বেশি। আপালের ছালে আপেলের মাংসল অংশের চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি ভিটামিন-এ আছে। এই কারণেই আপেলের উপকারিতা এত বেশি। খনিজ লবণের মধ্যে আছে প্রচুর পটাশিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ। সোডিয়াম এর পরিমাণ খুবই সামান্য।

আপেল হচ্ছে শর্করা শক্তির উৎস। এই শর্করা খাদ্যনালীতে ধীরে ধীরে ভেঙ্গে হজম হয় বলে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আপেল খাওয়া কোনো অসুবিধার নয়। ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি দাঁতের মাড়ির জন্য খুবই উপকারী। এই ভিটামিন-সি শরীরের অন্যান্য কাজ যেমন: কোলাজেন তৈরীতে, ক্ষত শুকাতে, খাদ্যনালী থেকে লৌহ শোষণ করতে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও পাকস্থলির ক্যান্সার রোধ করতে এই ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপেলের ছালে কোয়ার্সিটিন নামক এন্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি হওয়া ফ্রি রেডিক্যাল দূর করে। আপেলের উপকারিতা গুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো এই এন্টি-অক্সিডেন্ট। আপেলের গুণাগুণযে কত বেশি তা এই এন্টি-অক্সিডেন্টের ভূমিকা থেকেই বুজা যায়। কোয়ার্সিটিন আলজেইমার্স ডিজিজ ও পারকিনসনিজম নামক অসুখ প্রতিরোধেও সহায়ক। এই এন্টি-অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। কমিয়ে দেয় পাকস্থলি ও কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আঁশ রক্তচাপ কমায়। কমায় হার্ট এটাকের ঝুকিও। আপেলের লৌহ রক্তশুন্যতায় উপকারী। পেকটিন আঁশ ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এল.ডি.এল কমায়। আপেলের ম্যালিক এসিড শরীরের ইউরিক এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে বাতের ব্যথা দূর করতে পারে। সুতরাং আপেল বাতের ব্যথায় ও খুব উপকারী।

আপেল সাধারণত খোসা সহই চিবিয়ে খাওয়া হয়। আপেলের খোসাতেও রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাগুণ। আপেলের খোসাতে অরসালিক এসিড নামে একটি বিশেষ ধরনের জৈব এসিড পাওয়া যায়। এই এসিডটির রয়েছে বেশ কিছু গুণ। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো মানবদেহের পেশির ক্ষয়রোধ করতে এটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মানুষের বয়স বেশি হলে কিংবা ডায়াবেটিস থাকলে খুব দ্রুত মাংসপেশীর ক্ষয় হতে থাকে। এই কারণে শরীরের বয়সের ছাপ পড়ে এবং শরীর ক্রমশ দূর্বল হতে থাকে। এই সমস্যা গুলো থেকে মুক্তি পেতে আপেল খুবই ভালো একটি ঔষধ হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়াও আপেলের এই রাসায়নিক উপাদানটি রক্তে চর্বির পরিমাণ কম রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রেও ভালো কাজ করে আপেল। এটি সত্যিই আপেলের উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

আমরা অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ চা খেয়ে নিই নিজেকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য। চা এ ক্যাফেইন থাকে যা আমাদের শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। যদিও আপেলে ক্যাফেইন পাওয়া যায় না কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন সকালে একটি করে আপেল খান তাহলে হয়তো খুব দ্রুত আপনার কাছে সতেজতা অনুভব হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার শরীরে একটি সতেজ ভাব তৈরী হবে। কারণ আপেলে রয়েছে ফ্রুকটোজ নামক মিষ্টি পদার্থ। এছাড়াও আপেলে রয়েছে প্রচুর ফাইবার।

দাঁতকে সাদা ও সুন্দর করতে আপেলে কোন জুড়ি নেই। আপেল হয়তো আপনার ব্রাশকে পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। কিন্তু আপেল চিবিয়ে খেলে এই সময় মুখে প্রচুর পরিমাণ স্যালাইবা উৎপন্ন হয়। এর ফলে মুখে কোন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকলে সেগুলো মারা যায়। এছাড়াও স্যালাইবা দাঁতের ক্ষয় দূর করে এবং দাঁতকে সাদাও সুন্দর রাখে।

আপেল খেতে হবে ভালোভাবে চিবিয়ে। তাহলেই হজম শেষে এর সকল উপাদান নিতে পারবে শরীর। ভালোভাবে না চিবিয়ে টুকরো টুকরো আপেল গিলে ফেললে সেই টুকরো গলাতে পাকস্থলিকে প্রচুর বেগ পেতে হয়। এতে পেটে ব্যথা হতে পারে। আপেল চিবিয়ে খেলে দাঁতও পরিষ্কার হয় যা টুথ ব্রাশের মতো কাজ করে। আর খাওয়ার আগে অবশ্যই আপেলটিকে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। মনে রাখা উচিৎ একদম খালি পেটে আপেল খাওয়া উচিৎ নয়। তাহলে আপেলে থাকা এসিডের কারণে বদ হজম হতে পারে। আর সবসময় ফলমূল ধুঁয়ে খেতে হবে। ফলের ত্বকে পোকামাকড় থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন স্পোর বাতাসের মাধ্যমে ফলের ত্বকে পড়ে, যা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।