আমরা চাই না এ সোনার বাংলায় আর কোন নিমতলী, চকবাজার, বনানী অগ্নিকাণ্ড হোক 

31

আজকের বনানী অগ্নিকাণ্ডে চলে যাওয়া মানুষদের আত্মার চির শান্তি কামনা করি, আহতদের আশু সুস্হতা প্রার্থনা করি। সহমর্মিতা, গভীর শোক ও সমবেদনা।

ফেবুকে সংলিষ্ট কিছু ছবি ও ভিডিও দেখে দেখে মনটা আরও খারাপ হলো।
– কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে মানুষ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যেতে পারে। এখন ভাল কিন্তু দশ সেকেন্ড পর কঠিনতর পরিস্হিতি হতে পারে। আর প্রমান দরকার নাই।
– যারা বা যে পরিবার আজ আক্রান্ত তারা কি ঘটনার আদৌও কিছুক্ষন আগে ভেবেছে! আমরাও কখনোই ভাবি না।
– আক্রান্ত প্রতিটি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কত চেষ্টা করলো, কেউ কেউ লাফিয়ে পরলো। কেউ দড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে, দড়ি ছিঁড়ে নিচে পাখির মত পরে গেল। কেউ কেউ ফোন করে বলেছে ” সিঁড়ির ব্যবস্হা করো, না করলে মারা যাবো।” ওরা বুঝতে পারছিল, ওরা মারা যাচ্ছে।
– যারা চুলার পূড়ে যাওয়া সবজির গন্ধ সহ্য করতে পারে না, তাদের আজ দরজা জানালা আটকানো ধোয়াময় ঘরে জীবন মৃত্যুর সন্দ্ধিক্ষনে থেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা করতে কতোইনা শারিরীক ও মানুষিক কষ্ট হয়েছে।
– দরজার লক গুলো ছিল ডিজিটাল। ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাওয়াতে দরজা আর খুললো না। অন্ধকারে কার্ড পান্চ কিংবা আংগুলের ছাপ দেওয়া গেল না, কোন ভাবে দিলেও ইলেক্ট্রিসিটি ছাড়া এই দরজা খোলার চেষ্টা বিফল।
– এক পর্যায়ে দেখা গেছে ফায়ারসার্ভিস কাজ করার সময় কিছু অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তাদের আক্রমণ করে কাজ বাধাগ্রস্তও করেছে।
– এত এত লোক ওখানে ভীড় জমিয়েছে, যারা ব্যস্ত ছিল ছবি তুলতে, ভিডিও করতে। যা আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে কোন কাজে তো আসেই নাই, আরো বাঁধা তৈরী করেছে।
– আর এখন নির্দিষ্ট কিছু ছবিই আর কিছু নির্দিষ্ট ভিডিও বার বার, আর বার বারই অনেকে শেয়ার করছে! কি লাভ আছে এতে! উত্তর আমি খুঁজে পাই নাই।

একই ছবির ভীড়ে আমার ফ্রেন্ডলিষ্ট এর একজনের পোষ্ট ছিল, “আমি কুর্মিটোলার কাছে,বনানীর কাছে,এমনকি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ও কাছে।আমার রক্তের গ্রুপ এবি পজিটিভ। দয়া করে আমাকে জানান।” ধন্যবাদ আপনাকে Turna Mithila

ভাবছিলাম সাধারন কিছু বিষয়ঃ
– নতুন শহর গুলোতেও যে ভাবে বড় বিল্ডিং গুলো উঠছে, অতিসত্বর তা স্থগিত করে, পরিকল্পনা করে, বিল্ডিং কোড মানিয়ে নতুন বিল্ডিং তৈরীর অনুমোদন দেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় রাস্তার ব্যবস্হা রাখা দরকার। পাশাপাশি দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে নিরাপদ দুরত্ব নিশ্চিত রাখা। আমরা চাই না, ঢাকার মত নিকৃষ্ট আরো কোন শহরের সৃষ্টি এই সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা সোনার দেশে হোক।
– ফায়ার সার্ভিস আজও নিঃসন্দেহে সাধ্যমত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু ঢাকা সহ অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরের ফায়ারসার্ভিস কে আরও আধুনিকায়ন করা আশু প্রয়োজন।
– বড় বিল্ডিং গুলোতে Fire Extinguisher/অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র প্রতিটি ফ্লোরে প্রয়োজনীয় সংখক আইন করে নিশ্চিত করা, হালনাগাদ রাখা ও বসবাসকারী ব্যক্তিদের এ যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
– বড় বিল্ডিং গুলোর জরুরি বহির্গমন ব্যবস্হা রাখা।
– যে অফিস গুলোতে দরজা ডিজিটাল লক, সেখানে জরুরী অবস্থায় লক খোলার ব্যবস্হা রাখা।

আমরা চাই না এ সোনার বাংলায় আর কোন নিমতলী, চকবাজার, বনানী অগ্নিকাণ্ড হোক।
নতুন শহর গুলো গড়ে উঠুক সর্ব্বোচ্চ আধুনিকায়ন ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, শান্তি ও নির্বিঘ্ন বসবাস এর উপযোগী হয়ে।

এক টিভি চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী আজ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন প্রান হারিয়েছেন। এত দূর্ঘটনা, অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তা ভূমিকম্প কিংবা কোন বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগ আমাদের দেশে কখনোই না দিক। আর যদি তা হয়, আমরা যে কূলকিনারা সবকিছুই হারিয়ে ফেলবো। হায়……..

আমাদের এই ভালবাসার ভূখন্ড-অধিক জনসংখ্যার/ঘনত্বের দেশে ভালভাবে বাঁচা সত্যিই চ্যালেন্জ। পাশাপাশি মানুষের ঢল ছুটছে গ্রাম থেকে শহরে। Very fast but very unplan urbanization. দ্বিমত কারোই নেই, শহরের সুযোগ সুবিধা আমাদের সবারই দরকার। আসুন, সবাই যার যার অবস্হান থেকে সচেতন হই, সুনাগরিক এর দায়িত্ব পালন করি। সরকারের সংলিষ্ট সংস্হা গুলোকে সাহায্য করি, যেন সংলিষ্ট প্রতিটি সেক্টর সম্পূর্ন দূর্নীতিমুক্ত হয়ে, শতভাগ দায় দায়িত্ব উপলব্ধি করে নাগরিকদের সর্বোচ্চ পাওনা নিশ্চিত করে। জাতিরজনক এর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আমাদেরই পূর্ণ করতে হবে। প্রতিটি মূহূর্তে ভাল থাকার জন্য সর্বদাই মহান শক্তিধর সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদের সমর্পিত করে রাখি।।

রাজু রোজারিও’র ফেসবুক ওয়াল থেকে