আমাদের জীবনবোধ,সংস্কার ; কিচ্ছু স্বাভাবিক থাকবে না!

67

সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ নান্নু : বাংলাদেশ এখনও কৃষি নির্ভর,কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির সাথে পানির সম্পর্ক দেহ আর আত্মার মত। এ দেশের কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া সবে লাগতে শুরু করেছে। তবে মূল চাষপদ্ধতি এখনো প্রায় আদিম। তারপরও নানা প্রতিকুলতা সত্তেও বাংলাদেশের অর্জিত প্রবৃদ্ধি,কর্ম সংস্থানের ক্ষেত্রে কৃষি এখনও পুরোভাগে।
অথচ চাষাবাদের পানির অভাবে আর অভাব পূরণের ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে আমাদের কৃষকরা হিমসিম খাচ্ছে।
ধান,গম,সব্জি সহ এ দেশের প্রধান প্রধান ফসল চাষে পানি অপরিহার্য।

বাংলাদেশের স্বাদু পানির ৯০ শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিখাতে। এই পানি আমাদের নদ-নদী, খাল-বিল আর ভূগর্ভ থেকে আসে। আমাদের দেশের মাটি ও আবহাওয়ার যে বৈশিষ্ট্য তাতে শুষ্ক আবহাওয়া এবং সেচ ছাড়া কম পানিতে ফসল ফলে এমন শস্যের কথা ভাবাই যায় না। এক কথায় আপাততঃ তা অসম্ভবও।

এক সময় আমাদের দেশের সেচ সামান্য কায়িক পরিশ্রমে ভূ-উপরিভাগের সহজলভ্য পানিতে সহজেই মিটতো। সারা বছরই হাতের কাছে মিলতো খালবিল নদীনালার পানি। অবারিত বৃষ্টিধারা সঙ্গ দিত সেচের কার্যকর বিকল্প হিসাবে ।
আজ আবাদ মৌসুমে সেই পানি-বৃষ্টি গল্প-কাহিনীর মত শোনায় ।

নদীর বিপর্যয়ের সাথে আমাদের কৃষিকাজের প্রধান উপাদান পানিটাই দুর্লভ হয়ে গেছে। আমাদের কৃষিকে বাঁচাতে আমরা হাত বাড়িয়েছিলাম ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎসে।
সারফেস ওয়াটারের অভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে গভীর থেকে গভীরে। স্যালো ইঞ্জিনে আর পানি মিলছে না। দ্বারস্থ হতে হচ্ছে ডিপ টিউবওয়েলের। এক এক ব্যয়বহুল উৎস। প্রান্তিক কৃষকদের সাধ্য কি এর সাথে তাল মেলায়।

অবস্থার যা গতিপ্রকৃতি তাতে গভীর নলকুপের পানিই যে ক’দিন পর মিলবে তারও গ্যারান্টি নেই।

এসব দিক হিসাবে নিলে বাংলাদেশের কৃষিতে পানি সংকট কৃষির জন্য অমোঘ এক মৃত্যুবাণ হিসাবেই তৈরী হয়ে আছে।

কৃষির এই বিপর্যয় শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন ব্যবস্থার বিপর্যয় আমাদের গ্রামীন জীবন ধারাকে ভেঙেচুরে একাকার করে দেবে। ভাঙবে আমাদের সংস্কৃতির আদি উৎসভূমি। আমাদের জীবনবোধ,সংস্কার । কিচ্ছু স্বাভাবিক থাকবে না।