উন্নয়নের রাজপথ : উত্তরাঞ্চলে ছয় লেনের মহাসড়ক

80
অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : উত্তরাঞ্চলের বহুলকাক্সিক্ষত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সাসেক-২ এর (সাউথ এশিয়া সাবরিজওনাল ইকোনিক কো-অপারেশন) নির্মাণ কাজ আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে শুরু হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেনের জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ হবে।
দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য চার লেন এবং একই সড়কের পাশে ধীর গতির যানবাহনের আরও দুটি লেন থাকলেও এটিকে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল- রংপুর মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এটির ভৌত অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। তবে পুরোদমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে আগামী অক্টোবর অর্থাৎ চলতি বছরে শেষপ্রান্তে। কাজ শেষ হলে ছয় লেনের এই প্রকল্প সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ধারণ সক্ষমতা বাড়ানোসহ এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন তথা উন্নয়নের আরও একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অপরদিকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প ব্যয় আগের তুলনায় বাড়ছে। এর সঙ্গে প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদও বাড়তে পারে আরও প্রায় এক বছর। এমনই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন এটি ২০২২ সাল নাগাদ শেষ হতে পারে বলে সাসেক-২ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে। টেন্ডারের সাবির্ক প্রক্রিয়া ও ঠিকাদার নিযুক্তিতে বেশি সময় লাগাসহ ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে শ্লথ গতি কিছু জটিলতা প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে সূত্র জানায়। তবে সাসেক-২ এর প্রকল্প পরিচালক কাজী শাহরিয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ঠিকাদার নিযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ের সময়সীমা ডিপিপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা কাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী। অবশ্য ছয় লেন প্রকল্পের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তেমন জটিলতা নেই বলে দাবি সাসেক-২ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। তবে এখন ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী বাড়তি ব্যয় হবে বলে তারা বলছেন। পুরো প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।
সূত্র জানায়, বগুড়া অংশের ৬৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে প্রায় ২৪০ একর (প্রায় ৯৭ হেক্টর)। আর পুরো প্রকল্পের জন্য মোট ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ১৯৮ দশমিক ৯৪ হেক্টর। সাসেক-২ প্রকল্প, সাসেক-১ (জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা) এর পরবর্তী অংশ। পর্যায়ক্রমে এটি সাসেক-৩ হিসাবে রংপুর থেকে বুড়িমারি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ইতোমধ্যে সাসেক-৩’র ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরির কাজ চলছে।

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার ওপর দিয়ে সাসেক-২ প্রকল্প শেষ হবে রংপুরের মডার্ণ মোড় পর্যন্ত। ছয় লেনের এই মহাসড়কটি হবে এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডর ও সার্ক হাইওয়ে করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটারের এই প্রকল্প ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কিত নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮শ’ ৯৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০২১ সালের আগস্টে এটি শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি সাসেক করিডর, বিমসটেক করিডর, সার্ক হাইওয়ে করিডর এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে উপ আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রকল্পটি মোট ৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৭টি প্যাকেজের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ৪টির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইড বুঝে নিয়েছে। তারা মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে। অন্য ৩ প্রতিষ্ঠান শীঘ্রই সাইড বুঝে নেবে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের এই প্রকল্পে সড়ক ছাড়াও ৩টি ফ্লাইওভার, রেলওয়ে ওভারপাস, ৩২টি সেতু, ১১টি ফুটওভার ব্রিজ, ৩৯টি আন্ডারপাস এবং একটি ইন্টারচেঞ্জ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এসব ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ হবে। মোট সড়কের মধ্যে টাঙ্গাইল অংশে ১৩ দশমিক ৬, সিরাজগঞ্জ অংশে ৩৬ দশমিক ২, বগুড়া অংশে ৬৫, গাইবান্ধা অংশে ৩৩ ও রংপুর অংশে ৪২ দশমিক ৬ কিলোমিটার রয়েছে। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণসহ মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সওজ ও সাসেক-২ এর উর্ধতন কর্মকর্তারা প্রকল্পভুক্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

সওজ ও সাসেক-২ সূত্র জানায়, বগুড়া অংশে ছয় লেন করার জন্য মোট ২৪০ একর ভূমি ১৬টি এলএ কেসের মাধ্যমে অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে রংপুর অংশে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে ধীর গতি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ৮টি প্যাকেজের মধ্যে এখনও ১টি প্যাকেজের চুক্তিই সম্পন্ন হয়নি। এসব কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে সাসেক-২ এর প্রকল্প পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে যেহেতু প্যাকেজগুলোর কাজ চলবে, সে কারণে সমস্যা হবে না। এখনও নির্ধারিত সময়ের আরও প্রায় ৩ বছর হাতে রয়েছে। আর বাড়তি ব্যয় বিষয়ে জানিয়েছেন, এখন ভূমি গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও দেড় গুণ টাকা বেশি ব্যয় হতে পারে নতুন নীতিমালার কারণে।