এলোমেলো ভালবাসা !

90

এলোমেলো ভালবাসা।।

রাজু রোজারিও

মাঝে মাঝে খুউব ইচ্ছে হয় আমার হাতের মধ্যমা দিয়ে তোমার হাতের তালুটাতে আলগা করে একটু ছুঁয়ে দিতে।
ইচ্ছে হয়, আমার পাঁচটি আংগুল তোমার হাতের আংগুলের ভাঁজে রেখে চাপ দিয়ে নিরবে মৃদুস্বরে বলি, ‘ভালবাসি’।
‘তোমারও বুঝি ইচ্ছে হয়? তুমি বাসো?’

এই যে প্রখর রোদের তাপ, ইচ্ছে হয় বেলকুনির টবের গাছ গুলোর পাশে আমাদের ঐ প্লাস্টিকের হাতল চেয়ার দুটোতে বসি, তুমি আর আমি টবের সবুজ পাতা দেখি, ছোট কিছুু ফুল দেখি। আর গরম সবুজ চা খাই। আমি বড় মগে অনেক ক্ষন ধরে চা খাবো। গরম থেকে ঠান্ডা হওয়া অবধি! তুমি আমার মাথার চুল গুলো খুব আলতো ভাবে নাড়বে, আর আমি বিষ্ময়ে অনুভব করবো নিরব ভালবাসা, বিভিন্ন তাপমাত্রায় চা উপভোগের রোমান্টিকতা। আমি জোড় দিয়েই বলবো, ‘ঘর আর বাহির যেথয়াই বলো, গরম ঠান্ডা সবই মানিয়ে নিতে পারি আমি। তাইতো আমি সুখী।’

কাল শুক্রবার, ছুটির দিনে দুপুরে খেয়ে আরাম করে ঘুমাবো, তুমি নিরবে নিঃশব্দে এক মুঠো পানির ছিটা আমার মুখে দিবে। আমি জেগে গিয়ে তোমায় হঠাৎই জাপটে ধরবো। বলবো, ‘কোথায় ছিলে এতক্ষন? অনেক অপেক্ষার পর মাত্র ঘুমালাম। যেন এক যুগ পর তোমার এই ছেলেমি ভালবাসা।’
নিরব ভালবাসা। নিরবে অনুভবের।

ইচ্ছে হয়, শুধু আমরা দুজন বেড়িয়ে পড়ি। ঘন্টা চুক্তি রিকশা নেই। কোন দামী রেষ্টুরেন্টে খেতে গেলে কিছু অভুক্ত অনাহারী শিশুদের মুখ ভেসে উঠে। না, যাবো না। রিকশা করেই ঘুরবো আর বাদাম খাবো। তুমি পঁচা বাদাম পেলে, আমি কিন্তু হা হা করে হাসবো। প্রতিটি হা হা শব্দ নিরবে বলবে ‘ভালবাসি’।

ইচ্ছে হয়, রিকশা থামিয়ে রাস্তার ভ্যান গাড়ি থেকে ফুচকা খাবো। আস্তে করে বলবো, ফুচাকাটা খুব ঝাল দিতে। খেতে খেতে ঝালে তোমার চোখে জল চলে আসবে। আমি আবার হা হা করে হাসবো। তোমার দু চোখের জ্বালা কমতে কমতে তোমার প্লেটের ফুচকা শেষ। নিরবে বলবো, ‘ভালবাসি’। তোমার রাগগুলো কিন্তু আমার ভালবাসা। অর্থে হোক আর অনর্থকে হোক। নিরব অনুরাগ। নিরব ভালবাসা।

ইচ্ছে হয়, ব্রম্মপুত্র নদের পাড়ে তুমি আর আমি, নিদেন এক ঘন্টা বসে থাকি। হঠাৎই সটসাট নদের কূলে চলে যাবো। নৌকায় বসে দূরের সবুজ দেখবো। সবুজের কাছাকাছি প্রায় অস্ত যাওয়া সূর্য। গোধূলি বেলায় মৃদু অালোছায়ায় অন্ধকারে তোমার কপোলে আলতো একটি চুমু দিবো, নিরবে কানে কানে বলবো, ‘ভালবাসি।’ তুমি বলবে, ‘অসভ্য হয়েছো’। মাঝিভাই আকাশ দেখছে, আর মুখটিপে হাসছে। আমি নিশ্চিত মাঝিভাইও তার প্রিয়াকে গিয়ে বলবে ‘ভালবাসি, চুমু খাও।’ মেঘে ঘন কালো আকাশ, হঠাৎই খুব জোড়ে বাতাস বইবে, ঝুম বৃষ্টি হবে হয়তো।

হোক না, বৃষ্টিতে ভিজবো। তুমি আর আমি। বৃষ্টির ফোঁটা আমার ঠোঁটে পরবে, আমি আলতো ভাবে ভিজে ঠোঁটে, নিরবে বলবো, ‘ভালবাসি’। চুপিসারে তোমার ভিজে কাপড়ে তাকাবো, তুমি লজ্জায় লাল হয়ে আস্তে আবার বলবে, ‘অসভ্য।’ আচ্ছা- বৃষ্টি, জল, মৃদু অন্ধকার, ভিজে কাপড়… তোমাকে কি অদ্ভুৎ সুন্দর লাগবে। এই আমি চোখ বন্ধ করলাম, তোমার ভালবাসায় আমার দুচোখ খুলে দাও। আমি আর কিছু জানি না।

ইচ্ছে হয়, মাঝি হবো। নৌকার হাল ধরবো। মেঘ, বাতাস সামনে না পিছনে কিছুই দেখার সময় নেই। শুধু তোমাকে দেখবো। লিপিষ্টিক আমার পছন্দ নয়। ‘রাগ করলে?’- বুঝোইতো কিছু সমস্যা, ঠোঁট যুগলের হালকা স্পর্শেও! হা হা..এই আর কি। তোমার হলুদ শাড়ি, কপালে লাল ছোট টিপ, হাতে সাদা লাল চুড়ি, লাল ব্লাউজ আর দূরে আমার বাংলার সবুজ। তোমার মাঝেই দেখবো, লাল সবুজের সোনার বাংলা। তোমার লাজুক নয়ন, ভালবাসায়৷ অপেক্ষার চোখে আমি তোমারই চোখে চোখে তাকিয়ে নিরবে বলবো, ‘ভালবাসি’।

আমার তেমন ব্রান্ডের পান্জাবী দরকার নেই। শহরের ছোট্ট পুরোনো দিনের দোকান থেকে আমাকে একটা আকাশনীল পান্জাবী কিনে দিবে। ইচ্ছে টা কখনোই বলা হয়নি, আকাশনীল পান্জাবী পড়ে গভীর রাতে তুমি আর আমি পথ বেয়ে হাঁটবো। নিরব নিস্তব্ধ শহর। জানো, নদের পাড়ে তেতুল, ঝাল কাঁচা মরিচ আর আদাকুচির বুলেট চা পাওয়া যায়। আমি তোমাকে গভীর রাতে বুলেট চা খাওয়াতে নিয়ে যাবো। নদের সিঁড়িতে বসে থাকবো। সাহসে হাত দিবো তোমার হাতে, এলোমেলো চুলে, কপালে, কপোলে, তর্জনীতে, ঠোঁটে………..দূরের আাকাশ দেখবো, একরাশ তারা গুনবো আর অম্যবসার এক ফালি চাঁদের সাথে আাকাশের ভালবাসা দেখবো। তুমি চুপিসারে বলবে, ‘আসছে পূর্নিমাতে কিন্তু আসবোই। নদের পারে। বুলেট চা খেতে। পূর্নিমার বড় চাঁদ, জোৎস্না আর নদ দেখতে। আমিও নিরবে বলবো, ‘ হ্যাঁ আসবো। আসতে চাই। প্রতিটি অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে আর প্রতিটি পূর্নিমার চাঁদের ভালবাসার আলোকছটায়।’ এ আমার অব্যক্ত নিরব চাওয়া, অসমাপ্ত ভালবাসা।

খুউব ইচ্ছে হয়, গভীর রাতে দুজনে রাস্তায় এলোমেলো হাঁটতে থাকবো। মাঝে মাঝে তোমার হাত স্পর্শ করবো, মাথায় লাগানো ফুলগুচ্ছ একটু আধটু ঠিক করে দিয়ে বলবো, ‘ভালবাসি’। তোমার লাল টিপটা আমি ইচ্ছে করেই ফেলে দিবো। তুমি রেগে কষে আমাকে একটা গালি দিবে। আমি তৎক্ষনাৎ পকেট থেকে মালটি রং এর এক পাতা টিপ নিয়ে, তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে বলবো, ‘তোমার জন্য, আমার নিরব ভালবাসা।’

এই ছোট্ট ইচ্ছাগুলো যখন পুর্ণ হবে, শহরের সবচেয়ে নামী দামী রেষ্টুরেন্টে ডিনার করবো, সেটাও শুধু দুজনে। আমার ইচ্ছে পূরনে, তোমার পুরুস্কার। অভুক্ত অনাহারী শিশুদের মুখচ্ছবি ভেসে উঠবে। তবুও আমি খাবো, শুধুই নিরবে তোমার মুখে শুনবো বলে, ‘ভালবাসি’।

জানো, ইচ্ছে হয়, শহরের এই ব্যস্ততা ছেড়ে আমাদের গ্রামে যাই। সাঁতরিয়ে ইছামতি পাড় হওয়ার সাহস তুমি পাড়ে বসে থাকলে এখনও পাবো।

এই নাও একটা চাঁবি, বাক্সের চাঁবি। তোমার হাতেই দিলাম, ইচ্ছেগুলো বাক্সবন্দী। ইচ্ছেপূরণ তোমারই হাতে।। ভালবাসাও তোমারই হাতে।। আমাদের নিরব ভালবাসা।।

জানি বাক্সের চাবিটা হারিয়ে যাবে। ব্যস্তজীবনে কোথায় যে কি রাখি, খুঁজে পাওয়া দুস্কর। স্বপ্ন, ইচ্ছার আবহ আর মোহেই তো বাস্তব অনুভূত হয়। চুক্তিতে রিকশা, বুলেট চা, বাদাম, ফুচকা, হলুদ শাড়ি, বড় লাল টিপ, বৃষ্টি, অন্ধকার, পূর্নিমার আলো, হাতে তৈরী পান্জাবী, নদের পাড়, নৌকার বৈঠা সব ইচ্ছা গুলোই সযতনে থাক বাক্সবন্দী হয়ে। তবু নিরবে বলবো ভালবাসি। মৃদু আওয়াজে বলবো ভালবাসি। এতটাই মৃদু আর নিঃশব্দ, হয়তো তুমি শুনতেই পাবে না। তবুও ভালবাসি।

‘তোমার কি এই ছোট্ট ছোট্ট ইচ্ছে গুলো হয়? ব্যস্ততায় আর ভালবাসায়?’

শুভ শুক্রবার। 💕👨‍❤️‍👨