এই প্রথম কোন কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল এর ছবি দেখলো মানবজাতি

64

ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাকাশের একটি অনন্ত বিস্ময়, যার বাংলা নাম কৃষ্ণগহ্বর । জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনুসারে কৃষ্ণগহ্বর হচ্ছে মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে সকল বস্তু এমনকি আলোক রশ্মি পর্যন্ত মুহূর্তে বিলিন হয়ে যায় । কৃষ্ণগহ্বরে অল্প জায়গায় অনেক ভর থাকে । এই ভর এতই বেশি যে বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত এর পরিমাপ করতে পারেনি । বিজ্ঞানীরা মনে করেন একটি আধুলি সমান কৃষ্ণগহ্বরও এই পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলতে পারে ।
গত কিছদিন যাবত সারা পৃথিবীর বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ বিজ্ঞানীদের তোলা কৃষ্ণগহ্বর এর ছবি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে । বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর আটটি স্থান থেকে খুবই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপ দিয়ে এর ছবি তোলা হয়। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার। বুধবার অ্যাস্ট্রোফিজিকাল জার্নাল লেটার নামে এক জার্নালে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
এই পরীক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসের রাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেইনো ফাল্ক বলেন, এম৮৭ নামের গ্যালাক্সিতে এই কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান মিলেছে। তিনি বলেন, এর আয়তন আমাদের পুরো সৌরজগতের চেয়ে বড়। তিনি জানান, এর ভর সূর্যের চেয়ে ৬৫০ গুণ বেশি। আমাদের ধারণা, এটিই সবচেয়ে ভারি কৃষ্ণগহ্বর। এটা একটা দানবের মত । প্রকাশিত ছবিতে একটি উজ্জ্বল আগুনের বলয় দেখা যায়। অধ্যাপক ফালক বলেন, এটি অন্ধকার এক গর্তের আবর্ত । এই গর্তে প্রচুর গ্যাস পতিত হয়ে উজ্জ্বল হয়ে ‍উঠেছে। ওই অন্ধকার গর্তই এর কেন্দ্র।
গবেষক দলের সদস্য ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ড. জিরি ইউনসি বলেন, এই ছবিটি যেন বিজ্ঞানীদের তাত্ত্বিক ধারণা ও হলিউডের নির্মাতাদের কল্পনারই প্রতিফলন। কৃষ্ণগহ্বর সাধারণ বস্তু দ্বারা গঠিত হলেও এতে সময় ও স্থানের অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। নক্ষত্র যখন জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে, তখন তা সংকুচিত হতে থাকে। সাধারণ গ্যালাক্সিগুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্রগুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাকহোলের জন্ম দেয়। এই ব্ল্যাকহোলের ভেতরে ঢুকে নক্ষত্রসহ যাবতীয় মহাজাগতিক বস্তু অদৃশ্য হয়ে যায়। সেগুলো আসলে কোথায় যায় সেটিই রহস্যময়। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মতো অন্য কোনও জায়গায় যাওয়া যায় কিনা, সেটি নিয়েও আলোচনা আছে।
গাণিতিক তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৮২ সালে প্রথম একটি ছবি আঁকা হয় কৃষ্ণগহ্বরের। ফ্রান্সের জঁ পিয়ের ল্যুমিয়ের ছবিটি এঁকেছিলেন। সেটি ছিল কল্পনাপ্রসূত। কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে শেষ বয়সে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টিফেন হকিং নতুন একটি তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ধ্রুপদি তত্ত্ব অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোনও কিছুই বেরিয়ে আসার উপায় নেই। কিন্তু কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু শক্তিও বেরিয়ে যেতে পারে। হকিংয়ের এমন মন্তব্যের পর কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।