গ্রামে মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করতে চায় নন ক্যাডার ৮ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক

61

অনিন্দ্যবাংলা : চিকিৎসা সংকট দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে এমবিবিএস পাশকরা ডাক্তার যেতেই চান না। স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান সংকট নিরসনে প্রয়োজনে গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা।

৩৯তম বিসিএসে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসক ডা. মাসউদুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, “গ্রামে চিকিৎসক থাকতে চান না বলে সাধারণ অভিযোগ আছে। ৮ হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক গ্রামে যেতে প্রস্তুত। আমরা মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিতে চাই। তাদের মৌলিক অধিকার পূরণে আমরা প্রস্তুত ও বদ্ধপরিকর। ”

যশোর মেডিকেল কলেজের জে-২ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নির্বাচনের আগেই ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরেও বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ১০ হাজার, পরে ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানিয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার আগেও ২১ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের কথা বলেছিলেন, যার ৬০ শতাংশ হবেন নারী। ফলের দুই দিন আগে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ৭ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।

৩৯তম বিসিসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকদের ক্যাডারভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “চলতি গত পাঁচ মে থেকে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ডিজিএইচ অফিস এবং পিএসসিতে গিয়েছি। বিএমএ, স্বাচিপ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে যাওয়া হয়েছে। সবাই আমাদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিচ্ছেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চয়তা দিতে পারেন না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে তাদেরকে নিশ্চয়তা দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করে ডা. মাসউদ। বলেন, “তিনি আমাদের আস্থার জায়গা। এজন্য আমরা তাঁর কাছে দাবিটা পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। এলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।”

নিজেদের দাবি-দাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে আরেক নিয়োগ প্রত্যাশী ডা. এস এম শহিদুর রহমান বলেন, “সরাসরি ক্যাডার হওয়া যায়, আবার নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডার হওয়া যায়। এখন অনেকে উচ্চপর্যায়ে আছেন, যারা বিশেষ ক্যাডার থেকে ক্যাডার হয়েছেন। সে হিসেবে আমরা আশাবাদী। এখন নন-ক্যাডারের সংখ্যাটা অনেক। আপাতত পদ না থাকার কারণে আমাদেরকে বলা হয়েছে, খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। কিন্তু সেটার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদেরকে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে পদ খালি হবে, …আমাদের একটা সম্ভাবনা আছে। বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে—১০ হাজার, ৭ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে, সেজন্য এ বিসিএস থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বিষয়টি ঝুলে আছে উল্লেখ করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ১৯তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আমরা যোগাযোগ করেছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সিট ফাঁকা নেই।  ডিজি অফিসে কথা বলা হলে তারা বলেছেন, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে, আমরা নিতে আগ্রহী, আমরা তাদেরকে আরও কিছু নিতে বলেছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পদ ফাঁকা নেই, সামনে যদি ফাঁকা হয়, চেষ্টা করা হবে। পিএসসি থেকে বলা হয়েছিল, নতুন আরও দুই হাজার বা আরও যদি দরকার হয়, সেখান থেকে নিতে তারা অনুরোধ করেছিলেন।  আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই…। সমন্বয়হীনতা কিছু একটা হয়েছে। এগুলো ওপরের মহলে, আমাদের জন্য বোঝাটা একটু জটিল।”

প্রসঙ্গত, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের (স্বাস্থ্য) চূড়ান্ত ফলাফলে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছিলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক-সংকট দূর করতে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে এসব চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সৌজন্যে : মেডিভয়েস