গ্রুপ চ্যাম্পয়িন হলওে কাটছে না অস্বস্তি

73

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স: ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শিষ্যদের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানি ছোটনের। তাঁর শরীরী ভাষায় জয়ের স্বস্তি আছে, কিন্তু মুখে নেই চওড়া হাসি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পরেও ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দিতে হয়েছে অনেক প্রশ্নের জবাব।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অনেকেই। আগের ম্যাচের তুলনায় আজ মিসরাত জাহান মৌসুমিদের খেলায় উন্নতির ছাপ থাকলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ কোথায়! ২-১ স্কোরলাইনটা বোঝাতে পারছে না ম্যাচের সঠিক চিত্রটা। অসংখ্য গোল মিস, অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলা ও ব্যক্তিগত ঝলক দেখাতে গিয়ে ২৯ সেকেন্ডে গোলের খাতা খুলেও ব্যবধানটাকে খুব বেশি বড় বানাতে না পারা—আক্ষেপের জায়গা আছে অনেক। উল্টো বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা চাকমা হাত ফসকে গোল হজম করায় শেষ দিকে কিছুটা চাপই নিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও তাই বাংলাদেশ কোচকে শুনতে হয়েছে, মেয়েদের খেলায় তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট কি না?

মুখ কালো করে সন্তুষ্টির কথা বললেও হতাশা লুকাতে পারেননি গোলাম রব্বানি, ‘আমাদের পরিকল্পনায় ছিল জয়। আমরা সেই জয় পেয়েছি। আমি মেয়েদের খেলায় সন্তুষ্ট। আজ আক্রমণে অনেক বৈচিত্র্য ছিল। মেয়েরা প্রথম মিনিট থেকে শুরু করে ৯৪ মিনিট পর্যন্ত চেষ্টা করেছে। কিন্তু আজ আমরা গোল হজম করেছি গোলরক্ষকের ভুলে।’

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন সিরাত জাহান স্বপ্না। তাঁর জায়গায় নামানো হয় মার্জিয়াকে। এই উইঙ্গার মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বাড়ে অনেকটাই। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠেছে, মার্জিয়া শুরু থেকে কেন নয়? গোলাম রব্বানির সাফ জবাব, ‘মার্জিয়া বদলি হিসেবে ভালো খেলে। ওর সবচেয়ে বড় গুণ হলো, ওকে যখনই নামানো হয়, ও দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে।’

অতীত পরিসংখ্যান বিবেচনায় আজও ধরে নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের সামনে হয়তো খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে কিরগিজরা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দুই দলের শেষ ম্যাচে এই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেই ২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে ১০ গোল হজম করেছিল কিরগিজস্তান। তিন বছর আগে দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ছিলেন এই ম্যাচেও। বয়স বেড়েছে তিন ধাপ, সঙ্গে গোল হজম কমেছে আটটি। ম্যাচে পাওয়া গিয়েছে লড়াইয়ের ঝাঁজও। ম্যাচ শেষে তাই সন্তুষ্টির পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়কে না পাওয়ায় হতাশা ঝরল কিরগিজ কোচ গায়ভোরোনসকাইয়ার মুখে, ‘আমরা জানি বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী। কিন্তু আজ আমাদের দল লড়াই করেছে। স্বাভাবিকভাবে আমরা খুশি। তবে আমাদের প্রধান স্ট্রাইকার বোরনভেকভা আইজান (আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় আজ খেলতে পারেননি) থাকলে লড়াইটা আরও ভালো হতে পারত।