ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানতে পারে শনিবার সকালে, সবাই সাবধান !

62

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : আগামী শনিবার সকালে দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী । আজ রাত সোয়া আটটায় নিজ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আবহাওয়ার অধিদপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আজ বেলা চারটায় । তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজ ফণীর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফণীর এখনকার গতিবেগ এবং পথ যদি ঠিক থাকে তবে ভারতের ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আমাদের খুলনা, সাতক্ষীরা ও মংলায় আঘাত হানবে শনিবার সকালে। এটি যশোর হয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত প্রবাহিত হতে পারে ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, ১৯ টি উপকূলীয় জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি), ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে। মন্ত্রণালয়ের বিশেষ রেডিওর পক্ষ থেকে বার্তা যাচ্ছে। সেখান থেকে সাবধান হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, আমাদের ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের ফণী আসার বার্তা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, এখন ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। কাল বিকেল পাঁচটায় মন্ত্রণালয়ে আবার সভা আছে। যদি ফণী এগোনোর গতিবেগ এমন থাকে তবে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত পাল্টে ৫, ৬ বা ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হবে। এটা দেওয়া হলে স্বেচ্ছাসেবীরা উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের তাদের প্রাণিসম্পদসহ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চারদিকে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘূর্ণিঝড় ফণী। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে বঙ্গোপসাগরের গভীরে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে মহাপরাক্রমশালী এই ঘূর্ণিঝড়। ভারতীয় প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ১৯৭৬ সালের পর এতো শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি এই ভারতীয় উপমহাদেশ। ফলে ৪৩ বছরের মধ্যে এটিই সবচাই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। যার তাণ্ডবে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই অঞ্চল।

cyclone fani position in map wednesday

ইতোমধ্যে ভীতি সঞ্চার করা ফণী আগামী শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ঘণ্টায় গতিবেগ হবে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার। এই ঝড়ের তাণ্ডবে ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতের তামিলনাড়ু,অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের। তবে বলা হচ্ছে, ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাতের পর কিছুটা দুর্বল হয়ে ৪ মে (শনিবার) বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ফণী।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী তাণ্ডব চালাতে পারে দেশের উপকূল অঞ্চলের ১৯টি জেলায়। প্রলয়ংকারী এই ঘূর্ণিঝড় বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিশাখাপত্তমের পূর্ব উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার ও পুরি থেকে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বলা হচ্ছে, বিগত ৪৩ বছরে বঙ্গোপসাগরে এখন পর্যন্ত সবচাইতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৬৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর এবং পার্শ্ববর্তী আরব সাগরে ৪৬টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় দেখা গেছে। এর মধ্যে অক্টোবর-নভেম্বরে ২৮টি ঝড়ের সৃষ্টি হয়, আর মে মাসে সাতটি। সারাবিশ্বে প্রতিবছর মাত্র ২০ থেকে ৩০টি ঘূর্ণিঝড় এমন শক্তি সঞ্চয় করে আঘাত হানে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, বুধবার দুপুর ১২টায় প্রবল শক্তি সঞ্চয় করা ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। বুধবার দুপুরের হিসাব অনুযায়ী, ‘ফণী’ সুপার সাইক্লোন হওয়ার পথে।

‘ফণী’ মোকাবিলায় বরিশালে ২৩২ আশ্রয়কেন্দ্র, ১০ নিয়ন্ত্রণকক্ষ

ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় বরিশাল জেলায় ২৩২ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি বার্তা প্রদানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খোলা হয়েছে ১০টি নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এছাড়া দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে দেড় শতাধিক মেডিকেল টিম।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী আগামী শনিবার সকালে দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে জেলার ২৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া দেড় শতাধিক মেডিকেল টিম এবং দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের ফণী আসার বার্তা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য ৪০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার তৈরি করা রয়েছে। ‘ফণী’ আঘাত হানলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এরই মধ্যে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে। দেড় শতাধিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসাসরঞ্জামও প্রস্তত রাখতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় জরুরি বার্তা আদান-প্রদানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ০১৭৪১১৯৬৯৩৯, পিআইও, আগৈলঝাড়া- ০১৯১৫৮৪৪৮০৭, পিআইও, বাবুগঞ্জ- ০১৭১৭৪৪৪৪৫৪, পিআইও, বাকেরগঞ্জ- ০১৭৩২৫০৯২৬৯, পিআইও, গৌরনদী -০১৯১৫৮৪৪৮০৭, পিআইও, মুলাদি- ০১৭১৬১৪৩১৪১, পিআইও, হিজলা-০১৭১৭৬৫৫৩৪২, পিআইও, বরিশাল সদর- ০১৭১৮০২৩১৩৯, পিআইও, উজিরপুর- ০১৭১৯০৫৬০৮৪, পিআইও, বানারীপাড়া- ০১৯১৬৯৯৪৭৭১, পিআইও, মেহেন্দিগঞ্জ- ০১৭১১৯৪৭৪৬০ এই ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণী শনিবার সকালে দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ফণীর এখনকার গতিবেগ এবং পথ যদি ঠিক থাকে তবে ভারতের ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও মোংলায় আঘাত করবে শনিবার সকালে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কী করা উচিত!

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যাখরাভূমিধসটর্নেডোশৈত্যপ্রবাহঘূর্ণিঝড়জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে সম্পদ ও প্রাণহানির পরিমাণ ব্যাপক। এ বিষয়ে জনগণকেবিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জনগণের করণীয় বিষয়গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে করণীয়

  • দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবেগবাদিপশু কোথায় থাকবেতা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন।
  • বাড়িতেগ্রামেরাস্তায় ও বাঁধের ওপর গাছ লাগান।
  • যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুন। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিন। ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত করতে পারে। তবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার  পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল স্থাপন করুনযাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে।
  • জেলে নৌকালঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকালদুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুন।
  • সম্ভব হলে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিত্সার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজডেটল প্রভৃতিরাখুন।
  • জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন।
  • বাড়িতে ও রাস্তায় নারকেলকলাগাছবাঁশতালকড়ই ও অন্যান্য শক্ত গাছপালা লাগান।  এসব গাছ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেগ কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচতে পারে।
  • নারীপুরুষছেলেমেয়ে প্রত্যেকেরই সাঁতার শেখা উচিত।
  • ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবেতা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
  • আর্থিক সামর্থ্য থাকলে ঘরের মধ্যে একটি পাকা গর্ত করুন। জলোচ্ছ্বাসের আগে এই পাকা     গর্তের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন।
  • ডায়রিয়া মহামারির প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদের ডায়রিয়া হলে কীভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবেসে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন।
  • ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়িচিড়াবিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো।
  • নোংরা পানি কীভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়সে বিষয়ে নারীদের এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন।
  • ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। মাটির বড় হাঁড়িতে বা ড্রামে পানি রেখে তার মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবেযাতে পোকামাকড়ময়লাআবর্জনা ঢুকতে না পারে।

পূর্বাভাস পাওয়ার পর দুর্যোগকালে করণীয়

  • আপনার ঘরগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করুন। আরও মজবুত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যেমনমাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বাঁধা।
  • সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন।
  • বিপদ সংকেত পাওয়া মাত্র বাড়ির নারীশিশু ও বৃদ্ধদের আগে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে পোঁছে দিতে প্রস্তুত হোন এবং অপসারণ নির্দেশের পরে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যান।
  • বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আগুন নিভিয়ে যাবেন।
  • আপনার অতি প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যসামগ্রী যেমনডালচালদেশলাইশুকনো কাঠপানি ফিটকিরিচিনিনিয়মিত ব্যবহূত ওষুধবইপত্রব্যান্ডেজতুলাওরস্যালাইন ইত্যাদি পানি নিরোধন পলিথিন ব্যাগে ভরে গর্তে রেখে ঢাকনা দিয়ে পুঁতে রাখুন।
  • আপনার গরুছাগল নিকটস্থ উঁচু বাঁধে অথবা উঁচু স্থানে রাখুন। কোনো অবস্থায়ই গোয়ালঘরে বেঁধে রাখবেন না। কোনো উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিনবাঁচার চেষ্টা করতে দিন।
  • শক্ত গাছের সঙ্গে কয়েক গোছা লম্বা মোটা শক্ত রশি বেঁধে রাখুন। রশি ধরে অথবা রশির সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখুনযাতে প্রবল ঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিতে না পারে।
  • আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাড়ির আশপাশে গাছের ডালপালা আসন্ন ঝড়ের আগেই কেটে রাখুনযাতে ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে বা উপড়ে না যায়।
  • রেডিওতে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ঘূর্ণিঝড়ের খবর শুনতে থাকুন।
  • দলিলপত্র ও টাকাপয়সা পলিথিনে মুড়ে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখুন অথবা সুনির্দিষ্ট স্থানে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখুন।
  • টিউবওয়েলের মাথা খুলে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখতে হবেযাতে ময়লা বা লবণাক্ত পানি টিউবওয়েলের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে।

 দুর্যোগপরবর্তী করণীয়

  • রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুনযাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।
  • আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।
  • অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খালনদীপুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন। 
  • ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করেসে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।
  • ত্রাণের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। ত্রাণের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উত্সাহী করেসেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে। 
  • দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধারকাজ শুরু করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাঁকে উদ্ধারকাজে সাহায্য করা যায়।
  • ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার আশঙ্কা বেশি থাকে।
  • পুকুরের বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।
  • নারীবৃদ্ধপ্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বণ্টন (আলাদা লাইনেকরুন।
  • দ্রুত উত্পাদনশীল ধান ও শাকসবজির জন্য জমি প্রস্তুত করুনবীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষিকাজ শুরু করুনযাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে।