ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিদায়ে জনমনে স্বস্তি !

86

মোঃ কামরুজ্জামান,স্পেশাল করেসপনডেড,ঢাকা : ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিদায়ে জনমনে স্বস্তি। বহু হাক-ডাকের পর ঘূর্ণিঝড় ফণী তেমন বড় কোন ক্ষতি না করে, যশোর-সাতক্ষিরা ও ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা হয়ে ভারতের আসামের দিকে চলে গেছে।

ঘূর্ণিঝড় ফণী ওরিষ্যায় ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে সকালের দিকে অপেক্ষাকৃত দূর্বল হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আজ দুপুর নাগাদ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ধাবমান ফণী যশোর-সাতক্ষিরা হয়ে স্থল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ক্রমশ আরও দূর্বল হয়ে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণার উপর দিয়ে আসাম চলে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থান করলেও সার্বক্ষণিক দেশের খোঁজ-খবর নেয়া থেকে শুরু করে দূর্যোগ মোকাবিলায় সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

ঘূর্ণিঝড় ফণী তেমন কেন ক্ষতি না করলেও দেশর অনেক জায়গায় জনজীবন স্থবির হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার-শনিবার সরকারী ছুটির দিন থাকায় এর প্রভাব তেমন চোখে না পড়লেও সারাদেশে ফণীর আতংকে মানুষ আশংকাগ্রস্থ ছিল। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গতকাল বেলা বাড়ার সাথে সাথেই সারাদেশে হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। আজ সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কর্মব্যস্ত মানুষ খুব একটা জরুরী প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হননি। সারাদিন বাসেও তেমন ভীড় বা রাস্তায় জ্যাম দেখা যায় নি। তবে গতকাল রাত থেকে কলকাতাগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসা এবং বাংলাদেশ থেকে কলকাতাগামী যাত্রীদের কিছুটা কষ্ট সইতে হয়।

সর্বশেষে সকল কষ্ট লাঘব হয়েছে ফণীর ফনা বাংলাদেশে ছোবল না দেয়ায় ,প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেশবাসীও আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেছেন।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ফণীর কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাষে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় চারজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। রাতের মধ্যে আরো সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শাহ্ কামাল এ কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নেভি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা একযোগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আজকাল গ্রামাঞ্চলে পোক্ত বাড়িঘর ও বহু প্রাইমারি স্কুলে দালান উঠে গেছে। সে কারণে সবাই আশ্রয় কেন্দ্রে আসছে না। তবে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হল আমরা জীবনের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। এজন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আনার বিষয়ে প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে সুপেয় পানি ও খাবারের কোনো সমস্যা হবে না। আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক প্যাকেট শুকনো খাবার খেয়ে একটি পরিবার ৭ দিন থাকতে পারবে। সেই রকম ৪১ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট আমরা পাঠিয়েছি। ডিসিদের নগদ ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া আছে। যেকোনো প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, জনগণকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে সাইক্লোনটিকে নিতে হবে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।