চার পুরুষ, তিন ঘণ্টা! বার বার ধর্ষণ! পুলিশ-কন্যাকেই ফেরাল পুলিশ!

136

১৯ বছরের মেয়েটার উপরে নির্যাতনের বিবরণ যে কোনও সুস্থ মানুষের চোখে জল এনে দেয়।

Student physically assaulted by a gang in Bhopal for 3 hours

প্রতীকী ছবি: থিঙ্কস্টক।

বাবা মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর। মা রয়েছেন মধ্যপ্রদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে। আর সেই পরিবারের মেয়ে যখন চূড়ান্ত নির্যাতনের পরে পুলিশের কাছে গেল, তখনও ফিরিয়ে দিলেন রক্ষকরা।

নারী নিরাপত্তার এক করুণ উদাহরণ উঠে এল ভোপালে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে উড়ালপুলের নীচে ১৯ বছরের তরুণীকে ছিঁড়ে খেল চার পুরুষ। তিন ঘণ্টা ধরে বার বার। সব শুনে জিআরপি অফিসার বললেন— ‘‘এ তো সাজানো ফিল্মি গপ্পো।’’

ঠিক এমনটাই ঘটেছে শিবরাজ সিংহ চহ্বনের রাজ্যে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে ১৯ বছরের মেয়েটির উপরে নির্যাতনের বিবরণ যে কোনও সুস্থ মানুষের চোখে জল এনে দেয়। সব কিছু সামনে আসার পরে সরকার অস্বস্তিতে পড়ে এমপি নগর পুলিশ স্টেশনের এসআই আর এন টেকামকে সাসপেন্ড করেছে। অভিযোগ, এফাআইআর নিতে অস্বীকার করা।

ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার? ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রতিদিনই নিজের শহর থেকে এক ঘণ্টার পথ পার করে ভোপালে আসে ওই মেয়ে। সেদিন কোচিং ক্লাস সেরে প্রতিদিনের মতো রেললাইন ধরে হেঁটে হাবিবগঞ্জ স্টেশনে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা তখন ৭টার আশপাশে।

এই সময়েই তার উপরে আক্রমণ হয়। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, গোলুবিহারী চাধার নামে এক ব্যক্তি তার হাত ধরে টানে। উল্লেখ্য, নিজের মেয়েকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত এই গোলুবিহারী কিছুদিন আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

এই ঘটনাস্থল যেখানে সেখান থেকে হাবিবগঞ্জ স্টেশন মাত্র ১০০ মিটার দূরে। আর আরপিএফ পোস্টের দূরত্ব খুব বেশি হলে ৫০ মিটার। এখানেই আরও তিনজনকে জুটিয়ে গণধর্ষণ চালায় গোলুবিহারী। দীর্ঘ সময় ধস্তাধস্তি চলে। একটি নালার পাশে গিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় ১৯ বছরের মেয়েটা। এর পরেই চার জনের পৌরুষের কাছে হার মানে ওই ছাত্রী। এর মধ্যেও দু’জনকে পাথরের আঘাত করে সে। কিন্তু ধর্ষকদের থামাতে পারেনি।

পাল্টা পাথরের আঘাতে লুটিয়ে পড়ে সে। হাত, পা বেঁধে চলতে থাকে নির্যাতন। মাঝে মাঝে সিগারেটের ব্রেক নিয়ে প্রায় রাত দশটা পর্যন্ত চলতে থাকে নির্যাতন। অবশেষে ধর্ষকদের থেকে পোশাক পরার অনুমতি মিললেও দিয়ে দিতে হয়ে কানের দুল, মোবাইল ফোন এবং ঘড়ি।

এই নির্যাতনের থেকেও বড় ধাক্কা আসে এর পরে। পুলিশের অনীহা। এখন অবশ্য ছবিটা বদলেছে। নির্যাতিতার পরিচয় জানাজানি হওয়ার পরে গোলুবিহারী এবং তার ভায়রা অমরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মেয়ের নির্যাতনের পরে পুলিশ মায়ের আক্ষেপ— ‘‘এটা আমার জীবনের সব থেকে খারাপ অভিজ্ঞতা। আমার মেয়ের গণধর্ষণের অভিযোগ জানাতে গিয়ে বুঝলাম সাধারণ মানুষকে কেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’’

তথ্যসূত্র : এবেলা.ইন