ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে বিভাগীয় শহরের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও দীর্ঘসুত্রিতা

138

৬ মার্চ, ২০১৯ ।
সম্পাদকীয়, অনিন্দ্যবাংলা
ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষিত হওয়ার আগে থেকে ময়মনসিংহ শহর সম্প্রসারণের জন্য শহর সংলগ্ন ্পুরম্ত্রহ নদীর অপর পাড়কে সরকারিভাবে বেছে নেয়া হয়েছে । বিভাগ ঘোষিত হওয়ার পর পরিকল্পিত নগরী হিসেবেগড়ে তোলার জন্য নদীর কোল ঘেঁষে বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বিভাগীয় নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যেগ গ্রহন করা হয় । এই উদ্যগের অংশ হিসেবে ভুমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় । ভুমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেয়ার পরই চরাঞ্চলের জমি কেনা বেচা নিষেধের উপর একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হয় । প্রায় চার বৎসর আগে ঘোষিত এই প্রজ্ঞাপন জারী করার পর থেকে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের আওতায় জরিপ কাজ সহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে । দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ২/৩ দফা জরীপ কাজ ও ভূমি মালিকদের সাথে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও সম্পন্ন হয় । এর পরও এখন পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহন কাজের কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় নাই । ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে জারী করা নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ আছে কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোন কাজ আজ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় নাই ।

স্থানীয় জন সাধারন যারা ভূমি অধিকরণের আওতায় আছে তারা বেশিরভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী । দরিদ্র এই জনগোষ্ঠী মানুষের দুঃসময়ে জমি কেনা বেচা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া । বিবাহ, চিকিৎসা, বিদেশ গমনসহ নানান জটিলতায় জমি কেনাবেচার মাধ্যমে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের সমস্যা সমাধান করে থাকেন । কিন্তু সরকারী ভূমি অধিকরণের দীর্ঘ সুত্রিতার কারনে ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের মানুষ জমি কেনা বেচা না করতে পারায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে । সরেজমিনে দেখা যায়, জমি থাকা স্বত্বেও দুরারোগ্য চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে জমি বিক্রয় করতে পারছে না বলে একজন জমির মালিক কান্নায় ভেঙ্গে পরেন । আর একজন স্থানীয় কৃষককে দেখা যায়, মেয়ের বিয়ে দেয়ার উদ্দ্যেশ্যে জমি বিক্রয় করতে না পারায় সাহায্যের জন্য দারে দারে ঘুরতে । এমন অনেকেই আরও নানান কাজে জমি থাকতেও জমি বিক্রয় করতে পারছে না । জমি বিক্রয়ের উপর সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকায় জমি কোন কাজে লাগছে না, অপরদিকে ভূমি অধিকরণ কাজেরও কোন অগ্রগতি হচ্ছে না । এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জন সাধারন সরকারী এই উদ্যেগের সমালোচনা করেন । তাদের দাবী, সরকার হয় জমি অধিগ্রহণ করে পাওনা টাকা বুঝিয়ে দিবে নতুবা জমি বেচা-কেনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে ।

এই ব্যাপারে অনিন্দ্য বাংলা অনলাইন স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ।