নুসরাত হত্যা : দানবদের স্রষ্টা আমরাই !

83

সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ নান্নুর ফেসবুক পোস্ট থেকে…..

দানবদের স্রষ্টা আমরাই। খুনি সিরাজের পক্ষে হায়েনার ভাষায় ভাষণ দেয়া শুয়োর নুরুদ্দিন দুবছর আগে নুসরাতের মুখে দাহ্য পদার্থ ছুঁড়ে মেরেছিল!!!

খুনি সিরাজের পক্ষে হায়েনার ভাষায় ভাষণ দেয়া নুরুদ্দিন ২০১৭ সালে প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ায় নুসরাতের চোখে-মুখে তরল দাহ্য পদার্থ ছুঁড়ে মেরেছিল। প্রশাসন সে সসময় তার কিচ্ছু করেনি। এবার সে অধ্যক্ষ মুক্তি পরিষদের নেতা হয়ে মাঠে নেমেছে।

বিস্তারিত পড়ুন,প্রবাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র,সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় করসপণ্ডেন্ট Nadim Mahmud এর লেখা থেকে….

।। এটি ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক মানবজমিনের’ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাত জাহান রাফির নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর চোখে চুন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মেরেছে বখাটেরা।

এরপর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল মেয়েটি। খবরের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান এবং ওসি হুমায়ুন কবীর, নুসরাতের উপর চুন নিক্ষেপ কারী বখাটে যুবককে অবশ্যই ধরে আনার কথা জানিয়েছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে, রাফির মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, আমি আশ্চর্য হয়েছি চোখে প্রচন্ড জ্বালাপোড়া নিয়ে নুসরাত সাহসিকতার সঙ্গে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ,আমরা নুসরাতের পাশে আছি থাকবো।

পরবর্তীতে জানা গেল, ওই চুন নিক্ষেপকারী ছিলেন, বখাটে নূর উদ্দিন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার তো দূরের থাক পুলিশ সেই সময় কিছুই করেননি।

এরপর মেয়েটি দাখিল পরীক্ষায় পাস করে, আলিমে পড়াশুনা শুরু করলেন। সিরাজ উদ দ্দৌলার মাদরাসায় আসার পর, প্রথম বর্ষ থেকে রাফির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিতেন বলে ‘নুসরাতের জবানবন্দী দেয়া এক ভিডিও তে দেখতে পেলাম।

ভিডিওতে নুসরাতকে বলতে শুনলাম, দাখিলের সময়ে ঘটে যাওয়া চুনের পানি নিক্ষেপের ঘটনাটি সিরাজ নুসরাতকে স্মরণ করে দিয়ে, তার সাথে থাকার প্রস্তাব দেয়।

আর চুন নিক্ষেপকারী ছিলেন নূর উদ্দিন। যে আগে থেকে সিরাজের মাদরাসায় পড়াশুনা করতেন। সিরাজ সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

প্রশ্ন-১.
ভিডিওতে নুসরাত বলছিল, চুনের পানি নিক্ষেপের ঘটনায় পত্রিকায় খবর বের হয়েছে, প্রেমের প্রস্তাব সাড়া না দেয়ায়…. এমন খবর তার জীবনের কলঙ্ক। আর এই কলঙ্কের সুযোগ নিয়েছিল সিরাজ।

মেয়েটির নামসহ সেই সময় স্থানীয় সাংবাদিকরা, যে সংবাদটি করলেন, তা সাংবাদিকতার কোন নীতির মধ্যে পড়েছিল? গ্রাম, বাবার নাম ও ভুক্তভোগীর নামসহ এমন সংবাদ নুসরাতকে সমাজে যেভাবে পরিচয় করে দিয়েছিল, তাতে সামাজিকভাবে মেয়েটি ও তার পরিবার অন্যের কাছে ‘সম্মানহানী’ কারণ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে, মেয়েটি গত দুই বছর নিজেকে অপরাধী মনে করে, সিরাজের কু-প্রস্তাব যেন আরও একটি ‘অসম্মানের’ কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেই ব্যপারে সচেতন ছিলেন।

একজন সাংবাদিক হিসেবে, আমার কাছে ওই খবরটি ছিল লজ্জার, ঘৃণার। সাংবাদিকরা ছিল নুসরাতের প্রথম খুনি।

এমন সংবাদকে বিনোদন কেন্দ্রিক করার খেসারত নুসরাত ও তার পরিবারকে দিতে হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক ও পত্রিকা হাউজের এমন সম্পাদকীয় নীতিমালা কতটা ভয়ানক হতে পারে, নুসরাতের ঘটনা তার প্রমাণ।

প্রশ্ন-২
আমি সত্যি অবাক হয়েছি, একটি মেয়ে দুই বছর আগে বখাটের দ্বারা উক্ত্যক্ত হওয়ার পরও প্রশাসন কেন নিশ্চুপ ছিলেন? কেন তারা বখাটে নূর উদ্দিনকে সেই সময় গ্রেপ্তার করতে পারেননি?

আজ যদি নূর উদ্দিনের শাস্তি হতো, তাহলে কী সিরাজরা এভাবে সাহস পেত?

আরো খবর :

নুসরাত হত্যার অন্যতম হোতা পৌর কাউন্সিলর মকসুদ গ্রেফতার

 

সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মকসুদুল আলম
সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মকসুদুল আলম

 

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সোনাগাজী পৌর কাউন্সিলর মকসুদুল আলম ও তার সহযোগী মো. জাবেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১০টায় কাউন্সিলর মকসুদুল আলমকে ঢাকা এবং তার সহযোগীকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তথ্যটি  নিশ্চিত করেছেন পিবিআইয়ের ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, আটকৃত দুই জনকে ফেনীতে আনা হচ্ছে  ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে পরে জানানো হবে।’

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই নোমানের দায়ের করা মামলার নামীয় আসামীরা হলো অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলা, পৌর কাউন্সিলর মকসুদুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নুর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা সাত দিনের রিমান্ডে আছেন। এছাড়া ওই মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন এবং নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, নুসরাতের সহপাঠী ও মামলার প্রধান আসামী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ভাগনী উম্মে সুলতানা পপি ও আরেক মাদরাসা শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ এর ৫ দিন করে রিমান্ড চলছে।

এজাহারভুক্ত আসামীদের মধ্যে এখোনো পলাতক রয়েছেন, সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের ওই মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামিম, হাফেজ আবদুল কাদের ও নুর উদ্দিন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানীর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় গঠিত হয় নয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।

সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোরও পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু সবার প্রার্থনা-চেষ্টাকে বিফল করে বুধবার রাতে চলেই গেলো ‘প্রতিবাদী’ নুসরাত।

এদিকে, ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়। ওই মামলার পর সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

শাহবাগে নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ

মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। প্রতিবাদকারীরা এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানান।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন। ঢাকা, এপ্রিল। ছবি: প্রথম আলোআয়োজকেরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন ও এতে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বলেছে, হ্যাঁ, কন্যাটি পরপারে চলে গিয়েছে! মৃত্যুশয্যায় কন্যাটির বক্তব্য ও তার শোবার ঘরে পাওয়া চিঠি বলছে, কন্যাটিকে পরিকল্পিতভাবে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা গং আগুন দিয়ে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার জন্য স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পুলিশের ভূমিকা নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। এই হত্যাযজ্ঞের আয়োজক সিরাজুদ্দৌলা গং ও এরপক্ষে সাফাই গাওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পুলিশি ভূমিকার প্রতিবাদে আপনার ঘৃণা উগরে দেওয়ার জন্য প্রতিবাদে শামিল হোন। আপনার প্রতিবাদই কন্যা নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে।

৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান।

এর আগে গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে দুর্বৃত্তরা। এতে নুসরাত ও তাঁর পরিবার রাজি হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগে নুসরাত চিকিৎসকদের কাছেও জবানবন্দি দেন।

নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন

 

 

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতন, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরীকে গণধর্ষণসহ সারাদেশে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং দায়ীদের বিচারের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে মহিলা পরিষদ, জনউদ্যোগ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন পালিত হয়।

মানববন্ধনে মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি মনিরা বেগম অনুর সভাপতিত্বে জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এমদাদুল হক মিল্লাত, জনউদ্যোগের আহবায়ক নজরুল ইসলাম চুন্নু, ময়মনসিংহ জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দিন আহমেদ, উদীচীর সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, নারী নেত্রী মরিয়ম বেগম, ব্র্যাক কর্মকর্তা সুমন কুমার, উন্নয়ন কর্মী মানোয়ার হোসেন সেলিম, আলামীন আহমেদ জুন, মঞ্জুরুল হাসান মনির, জহিরুল আমীন রুবেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা ইয়াসমীন রুনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সমাজে ঘটে যাওয়া খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িততের শাস্তি নিশ্চিত করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘দেশে বিরাজমান ধর্ষণ ও হত্যা আমাদের সবাইকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই পশ্চাৎপদ মানুষগুলোর কারণে আমাদের সমাজ কলুষিত হয়ে পড়ছে। আমাদের শিশু সন্তানরা ভয়ে ঘরমুখো হয়ে পড়ছে।

গুটিকয়েক শিক্ষক নামধারী লম্পটের এহেন কর্মকাণ্ডে সব শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আস্থা কমছে।’

সৌজন্যে : ঢাকা টাইমস।