দেশের ঋণখেলাপীদের জন্য সুখবর !

49

ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।

এদিকে একইদিন আহসানুল হক টিটুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা ও শক্তিশালী হলেও পুঁজিবাজার এখন নিয়ন্ত্রণে নেই। পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হবে।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, সারা বিশ্বেই ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। দেশে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন কার্যকর না থাকায় ব্যাংকে প্রবেশ করলে সেখান থেকে বের হওয়ার পথ ছিল না। তাই আমরা আইনগুলো কার্যকর করে সেই আইনি প্রক্রিয়ায় সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে এখান থেকে মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা করব।

তিনি বলেন, এটা স্বতঃসিদ্ধ, আমরা সবাই জানি ব্যাংকিং খাত যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে, যদি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে এবং আর যদি নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ বেড়ে যায় তাহলে আমরা অর্থনীতির গতিশীলতা থেকে বিচ্যুত হব। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমরা ব্যাংক খাতগুলোর ‘রেট অব ইন্টারেস্ট’ কমাব। সুদের হার কমানো না গেলে নন-পারফর্মিং লোন কমবে না।

নন-পারফর্মিং লোন বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন তখনই বেড়ে যায় যখন লোন নিয়ে তারা পরিশোধ করতে পারেন না। নন-পারফর্মিং লোন হওয়ার কারণে সুদের হার অনেক বেশি হয়। যখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না তখন সেখানে সঙ্গত কারণেই খেলাপি হয়ে যায়। আর সেগুলোকে যদি পরিষ্কার না করি তাহলে এগুলো আরও খারাপ হয়ে যাবে। এ জন্য সুদের হার মোটামুটি সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসছি। এটা নিয়ে আসতে পারলেই আমরা সফল হব। আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে। শিল্পকারখানাগুলো বেঁচে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার স্বার্থে কাজটি করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন।

তিনি বলেন, সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়ে দিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না। তবে আবার সবাইকে মাফও করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই অ্যাকশন নিতে হবে। আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি আমাদের ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে আর ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে যায় আর নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায় তাহলে আমরা আমাদের অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা সেখান থেকেও বিচ্যুত হব। রেট অব ইন্টারেস্ট আমরা কমাব। আর যদি রেট অব ইন্টারেস্ট কমানো না যায় তাহলে নন-পারফর্মিং লোন কখনও কমবে না। নন-পারফর্মিং লোন তখনই হয় যখন ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না। নন-পারফর্মিং লোন হওয়ার কারণটিই হচ্ছে রেট অব ইন্টারেস্ট ইজ টু মাচ হাই।