দ্যা কী অব দ্যা হেভেন। ।। বেহেশতের চাবি।।

6

মানুষকে সেবা দেয়ার মত মহৎ ও পূণ্যময় আর কোন কাজ নেই !
ছোটবেলায় ওয়াজ মাহফিলে একটা গল্প শুনেছিলাম। গল্পটি ভালোবাসা, দয়া ও দায়িত্ব সম্পর্কিত-

একজন বাইজী ও জনপ্রতিনিধি বিষয়ক।।

একদিন একজন বাইজী মারা গেলে দোযকের ফেরেস্তারা আসলো তাকে দোযকে নিয়ে যেতে কেননা সে সারাটা জীবন নাফরমানী করেছে, রঙ-তামাশা করেছে-পাপ কাজ করেছে তাই তাকে দোযকে যেতে হবে। ঠিক এই মুহুর্ত্বে বেহেস্ত থেকে কিছু ফেরেস্তা এসে বললো যে, এই বাইজী দোযখে যাবে না, সে বেহেস্তে যাবে। কারণ সে রঙ তামাশা করলেও জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছে। বিপন্ন জীবন বাঁচিয়েছে। তাই এই সওয়াব তার সারা জীবনের ভুল কৃতকর্মের চেয়েও ওজনে বেশী, ফলে সে বেহেস্তেই যাবে। তখন পাল্লা আনা হলো। বাইজীর (নেকি ও বদি) পাপ ও পূণ্য ওজন করা হলো দেখা গেলো। বাইজীর সারাজীবনের পাপের ওজন সমান হলো একটা ভালো কাজ । কি সেটা ?

জমিদারের আমন্ত্রণে এই বাইজী পালকী চড়ে যাচ্ছিলেন জমিদার বাড়ী। তখর প্রচন্ড রোদ ছিলো। যাওয়ার সময় পথিমধ্য একটি কুকুরের বাচ্চাকে দেখলেন একটি কুয়ার সামনে উকিঁ-ঝুকি মারছে। আর তৃষ্ণায় বার বার জিব বের করছে। তার খুব মায়া হলো, তিনি বুঝলেন যে কুকুরটা খুব পিপাসার্ত এবং পানি না খেলে কুকুরটা মারা যাবে।

তিনি পালকীবাহকদেরকে পালকি থামাতে বললেন এবং সেখান থেকে নেমে কুয়ার কাছে গেলেন। উঁকি দিয়ে দেখলেন কুয়ার জল অনেক নীচে, সেখান থেকে জল তোলা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া তাদের কাছে জল তোলার কোন উপাদানও ছিলো না। অনেক চিন্তা করে তিনি তার গায়ের ওড়না খুলে সেটা কুয়ায় ছেড়ে দিলেন এবং সেটা ভিজিয়ে চিপে কুকুরের মুখে পানি দিলেন। জীবে দয়া করলেন, কুকুরটা বেচেঁ গেলো তিনি আবার পালকী করে জমিবাড়ী চলে গেলেন। এই ছিলো কাহিনী। কুকুরের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত বেহেস্ত গেলেন।

অন্যটি হলো একজন নগরপাল বা কাজী। তিনি এত ধার্মিক ছিলেন যে, জীবনে এক ওয়াক্ত নামায ক্বাজা করেন নাই। হজ্ব, রোজা সব পালন করেছেন। তার জানামতে তিনি কোন পাপ করেন নাই। তিনি মারা গেলেন। যথারীতি বেহেস্তের ফেরেস্তারা আসলো তাকে বেহেস্তে নিয়ে যেতে কেননা তিনি সারাটা জীবনে একবারও নামাজ ক্বাজা করে নাই, শুধু ভালো ভালো কাজ করেছেন, ধার্মিক মানুষ। নি:সন্দেহে তিনি বেহেস্তে যাবেন। কিন্তু বাধ সাধলো দোজকের ফেরেস্তারা, তারা বললো যে, না তিনি দোজকে যাবেন, কারণ তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তার অবহেলার কারণে একটি প্রাণীর অপমৃত্যু হয়েছে। জীবের প্রতি যে দয়া না করে যে কখনও বেহেস্তে যাবে না !

কি সেই কাহিনী ?

কাজী সাহেব বা নগরপালের এলাকায় ছিলো একটি খাল আর সেটা ছিলো খুব খরস্ত্রোতা। এই খালে কেউ পড়লে তাকে রক্ষা করা যেত না। খালের উপর একটি ব্রীজ ছিলো। সেই ব্রীজ দিয়েই লোকজন যাতায়াত করতো। কিন্তু একদিন সেই ব্রীজের একটি কাঠের তকতা ভেঙ্গে গেলো এবং বিশাল ফাঁক হয়ে রইলো। মানুষজন খুব সতর্কভাবে অন্যপাশ দিয়ে যেতে পারতেন কিন্তু এরপরও এটা ছিলো খুব বিপদজ্জনক। এই বিষয়টি নিয়ে কাজী সাহেবের নিকট অভিযোগ দেয়া হলো। তিনি গুরুত্ব দিলেন না তেমন। এমনি করে দিন যায়, মাস যায়। কাজী সাহেব সেটা সারান নাই। তাই একদিন ব্রীজ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কুকুর অসাবধানতা বশত এই ফাঁক দিয়ে খালে পড়ে গেলো এবং স্ত্রোতের টানে ভেসে গেলো, মারা গেলো।

কাজী সাহেব বা নগরপাল যদি যথা সময়ে ব্রীজটি মেরামত করে দিতেন, তার সঠিক দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে কুকুরটি মারা যেত না। তাই কুকুরের মৃত্যুর কারণে তার সারাজীবনের পূণ্যের চেয়ে পাপের পরিমাণ বেশী হয়ে গেলো তাই তাকে দোজখে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত তার স্থান দোজখেই হলো।।

হতে পারে এটা নিচক গল্প বা হাদিছ। এটার সত্যতা নিয়েও আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু গল্পটিতে একটা প্রতীকি বার্তা দেয়া আছে। আশা করছি যারা বুদ্ধিমান। যারা জনপ্রতিনিধি বা জনগণের সেবায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের জন্য এটা অনুসরনীয় হতে পারে। আপনার অবহেলায়, আপনার কর্তব্য পালন না করায় কারো অসুখ, অসুবিধা, রোগ-শোক, মৃত্যু হলে তার দায়িত্ব নিশ্চই আপনাকে নিতে হবে।

আশা করি সংশ্লিষ্ঠ সকলের সুমতি হোক। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। আপনি আপনার সঠিক দায়িত্ব পালন করুন। আমিন।।

…………সংগ্রহে : শেখ অনিন্দ্যমিন্টু