ধর্ষিতাকে ফের ধর্ষণ ! দুই আসামী গ্রেফতার।

107

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরী ফেসবুকে জয় ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হয়। গত ৩১ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করেন জয় ঘোষ। মেয়েটির মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্যও ধারণ করেন জয় ঘোষ।

ধর্ষিতা মেয়েটি ভয় পেয়ে পুলিশ কনস্টেবল বাদল হোসেনের কাছে ঘটনা খুলে বলে এবং সহায়তা চায়। বাদল তখন তাকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের আশ্বাস দেন এবং বাড়ি পৌঁছে দিতে চান। পরে ওই কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বাদল নিয়ে যান যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাড়িতে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন বাদল।”

ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা হলেন জয় ঘোষ (২৪) ও বাদল হোসেন (৩৪)। এদের মধ্যে বাদল পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন বলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে।

অন্য আসামি জয় ইতোমধ্যেই ধর্ষণের ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীও ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানা ও যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। শাহবাগ থানার পুলিশ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, আসামি জয় ঘোষের স্বভাব-চরিত্র ভালো না। প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছিলেন তিনি। অপর আসামি বাদল হোসেনও ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।

জেনে রাখুন :

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হতে শুরু করেছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত সামাজিক মূল্যবোধ, প্রকৃত শিক্ষার অভাব এবং নিচু মানসিকতার কারণেই এর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অনেক সমাজবিদ মনে করেন।

আমাদের দেশে প্রতিদিনই ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে ছোট শিশুরাও। গ্রাম বা শহরে রাস্তাঘাটে অথবা ঘরে কখনো আবার বাসে কিংবা লঞ্চে কোথাও নিরাপদ নয় আমাদের নারীরা। ঘরে ঢুকে বাবা-মা কিংবা স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণ, রাস্তায় ভাইকে বেঁধে রেখে বোনকে ধর্ষণ, বেড়াতে গেলে ফুঁসলিয়ে বা চকলেট দিয়ে বাচ্চাকে ধর্ষণ করা- এসব চিত্র যেন বেড়েই চলেছে সমাজে।

ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এর প্রতিকারের তেমন কোনো উদ্যোগ এখনো আমাদের সমাজে ফলপ্রসূ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই নিজের বা মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ বিষয়টি লোক লজ্জার ভয়ে এড়িয়ে যেতে চান। কিন্তু এতে সমাজের বা ওই পরিবারের কোনো লাভ হয় না। বরং সমাজে ব্যাধিটির সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে একজন ধর্ষক হুমকি-ভয় দেখিয়ে অল্পতেই পার পেয়ে যায় এবং এমন কাজে ভবিষ্যতেও উৎসাহী থেকে যায়। তাই নিজেদেরকে সচেতন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এই সামাজিক ব্যাধিটি উৎখাত করতে হবে। একইসঙ্গে ধর্ষণের শিকার হলে সবাইকেই আইনের দ্বারস্থ হতে হবে। আইনের মাধ্যমে ধর্ষকের প্রাপ্য শাস্তি প্রদান করে দৃষ্টান্ত রাখতে হবে যেন, ভবিষ্যতে আর কেউ এসব অপরাধ সংগঠনে উৎসাহী না হতে পারে।

কখন ধর্ষণ হয়েছে বলে ধরা হবে:
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ (প্যানেল কোড ১৮৬০) আইনের ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের পাঁচটি ক্ষেত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই পাঁচটি ক্ষেত্রে কোনো নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে সে ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে বলে ধরে নেয়া হবে। ক্ষেত্র পাঁচটি হলো: ১. নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে; ২. নারীর সম্মতি না নিয়ে; ৩. নারীকে মৃত্যু ভয় বা জখমের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক সম্মতি আদায় করলে; ৪. কোনো নারীর স্বামী না হয়েও তার স্বামী দাবি করে এবং স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে যৌনসঙ্গম করলে; এবং ৫. চৌদ্দ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ের সম্মতি বা অসম্মতির বাইরে যৌনসঙ্গম করলে তা ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধরা হবে।

অপরাধ:
ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবেশ করালেই ধর্ষণ হয়েছে বলে ধরা হবে।

আইনের ব্যতিক্রম:
কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে সেটাকে ধর্ষণ বলে ধরা হবে, যদি তার স্ত্রীর বয়স ১৩ বছরের কম হয়।

শাস্তি:
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৮৬০ আইনের ৩৭৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ষণের অপরাধ করে তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং জরিমানা দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।’

দণ্ডবিধি অনুসারে ধর্ষণ এমন একটি অপরাধ যা আমলযোগ্য কিন্তু জামিনযোগ্য নয়। এমনকি এটি মীমাংসারযোগ্যও নয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের গুটিয়ে না রেখে সবাইকে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে।