নিরবে, নি:শব্দে মরে যাচ্ছে কালীগঙ্গা; কেউ কষ্টও পেল না !

27

নিরবে, নি:শব্দে মরে যাচ্ছে কালীগঙ্গা;কেউ কষ্টও পেল না !

সাইফুদ্দিন আহম্মেদ নান্নু : সনটা এ মুহূর্তে ঠিক মনে নেই,১৯৭৩ কিংবা ৭৪ হবে। তৎকালীণ যোগাযোগ মন্ত্রী ক্যপ্টেন মনসুর আলী উদ্বোধন করেছিলেন সে সময়ের বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম কংক্রিটের সেতু, ‘কালীগঙ্গা সেতু’।

আমেরিকান নির্মান প্রতিষ্ঠান VZP ব্রিজটি নির্মান করেছিল। আমরা বলতাম ‘ভেনাল কোম্পানী’। কেন বলতাম, জানিনা। সবাই বলতো আমরাও বলতাম।

সে সময়ের প্রেক্ষিতে সেটি ছিল এক মহাযজ্ঞ। বিশাল বিশাল ক্রেন,বড় বড় পাথর ভাঙার মেশিনসহ আরও কত বিস্ময়কর যন্ত্রপাতি এনেছিল তারা। আর কালীগঙ্গাও তখন ছিল যৌবনবতী।

কাঠের জোড় নৌকার ফেরিতে গাড়ি পারাবার হত। নদীর তীব্র স্রোত আর জলঘূর্ণির কবলে পরে প্রতি বর্ষাতেই দুচারবার ফেরিডুবির ঘটনা ঘটতো।

এই নদীতে পিলার বসাতে গিয়ে “ভেনাল কোম্পানী”র দম যায় যায় অবস্থাও দেখেছি নিজ চোখে । তীব্র স্রোত আর নদীর তলদেশের মাটি দেবে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছে বারবার।

সেই নদী মাত্র ৪৫/৪৬ বছরের ব্যবধানে আজ প্রাণহীন বালুচর। মাত্র মাসতিনেক জলের খেলা থাকে তারপর কালীগংগা পরিণত হয় স্রোতহীন টুকরো টুকরো অসংখ্য ডোবায়। দিন গড়াচ্ছে হারাচ্ছে কালীগঙ্গা। স্বাধীন দেশে আমাদের প্রাণের নদীরা মরে গেল,চোখের সামনে,অবলীলায় মরে গেল, আমরা কেউ কষ্ট পেলাম না !

[ শেষের ছবি দুটো গত ২০১৬ সালে তোলা আর অন্যান্য ছবিগুলো তারও দুতিন বছর আগে,ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তোলা। ছবিগুলো সাংবাদিক সাব্বির ভাই এবং আমার তোলা। রি-পোস্ট। ]