বাহুবল প্রকৌশলী’র ১৩ দিনে ২ দফা বদলী আদেশ

157

স্টাফ রিপোর্টার ॥  বদলী আদেশের প্রেক্ষিতে ছাড়পত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগেই ফের অন্য কর্মস্থলে বদলীর আদেশ পেয়েছেন বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এলজিইডি অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালম আজাদ স্বাক্ষরিত পত্রে সম্প্রতি তাকে ২ দফা বদলীর আদেশ দেয়া হয়। ১৩ দিনের মাথায় তার বদলীর আদেশ রদবদল হয়। তিনি এখানো বাহুবলে রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

বিধি লঙ্ঘন করে বদলীর আদেশ ও কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করেই নতুন বদলীর আদেশ পাওয়া এই প্রকৌশলীর বদলী নাটক নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বদলী আদেশ বিধি পরিপন্থি কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে। বদলী হওয়া বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ইতোপূর্বে স্থানীয় ইউএনও’র সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হন। তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, উন্নয়ন কর্মকান্ডে উদাসীনতা, অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠে।

হবিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: আবু জাকির সিকান্দর গত ১০ এপ্রিল স্মারক নং-৫৯০, তাং-১০/০৪/২০১৯ইং মূলে উক্ত উপজেলা প্রকৌশলীকে কৈফিরত তলব করেন। ওই কারণ দর্শানোর নোটিশেও প্রকৌশল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন কর্মকান্ডে অব্যবস্থাপনাসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। জানা যায়, এলজিইডি অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত স্মারক নং-৩০২১, তাং- ২১/০৪/২০১৯ইং পত্রে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বদলী করা হয়। তাকে ময়মনসিংহ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত ৫ মে হবিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন। কিন্তু ছাড়পত্র প্রদানের পর নতুন কর্মস্থলে বিধি মোতাবেক যোগদানের আগেই মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে গত ৬/০৫/২০১৯ইং তারিখে প্রধান প্রকৌশলীর স্মারক নং-৩০৫০ মূলে বাহুবলের বদলীকৃত উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে বদলীর আদেশ দেয়া হয়। জানা যায়, পূর্বের বদলীর আদেশ পরিবর্তন করে নতুন বদলীর আদেশ দেয়া হলেও হবিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর স্মারক নং-৭০১, তাং-০৫/০৫/২০১৯ইং মোতাবেক দেয়া ছাড়পত্র জারি রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলীর বদলীর আদেশ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। বিতর্কিত বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলীর বদলী নিয়ে যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটি নিয়েও বিতর্ক দানা বেধেছে। এর আগে ওই উপজেলা প্রকৌশলী বিতর্কিত ও অনৈতিক কর্মকান্ড, অনিয়ম, অব্যস্থাপনা, দুর্র্নীতি, উন্নয়ণ কর্মকান্ডে দায়িত্বহীনতা, অফিস স্টাফদের লাঞ্চিত করা ও অসৌজন্যমূলক আচরনসহ ব্যাপক অভিযোগের কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েন।