বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় কেউ মারা গেলে চালকের মৃত্যুদণ্ড : আইনমন্ত্রী

61

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে যদি কারও মৃত্যু হয় আর সেটা প্রমাণিত হয় তাহলে প্যানাল কোড ৩০২ ধারায় চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দিতে বাধ্য থাকবেন আদালত। কারণ এই মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়; হত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিরাপদ সড়ক: আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনা আর হত্যা কিন্তু এক নয়। সেটাই বুঝতে হবে। প্রত্যেক আইনের মধ্যে এটা লেখা প্রয়োজন পড়ে না যে, হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিতে হবে।’

এ সময় দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত বছর ‘সড়ক ও পরিবহন আইন-২০১৮’ আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। বিধিমালা প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে এ আইন কার্যকর করা হবে।

এ সময় সড়ক ও পরিবহন আইন-২০১৮ পড়ে শোনান আনিসুল হক। পরে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা যদি এরকম কোনো সড়ক দুর্ঘটনা দেখি যে, চালক বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনা হয়েছে এবং কারও মৃত্যু হয়েছে। তাহলে প্যানাল কোডের ৩০২ ধারায় বিচার করতে তো কোনো বাধা নেই। কারণ সেটা হত্যা। সেটা আর দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে না।’ গোলটেবিল বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেনে রাখুন :

রাজন ভট্টাচর্য ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৫ সালের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ২১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। তবে বাংলাদেশের যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে একই বছরে এই সংখ্যা সাড়ে আট হাজার। তারা মূলত সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে। আর সরকারী হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ৩৭৬।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত বছরের গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশের ওপরে আছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। কিন্তু এই দেশগুলোর প্রতিটিতে যানবাহনের সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। আর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। ২০১৪ সালের তথ্য ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণা করেছে। সে হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩৩টি যানবাহন রয়েছে। চীনে প্রতি ১ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে ১৮ হাজার যানবাহন। ভারতে প্রায় ১৩ হাজার। আর পাকিস্তানে পাঁচ হাজার। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি দুজনে একটি করে যানবাহন রয়েছে। এই দেশগুলোতে জনসংখ্যাও প্রচুর। যানবাহনের হিসাব দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেলসহ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। ওভারস্পিড, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ও রাস্তার ত্রুটি। সমস্যা যাই হোক সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস না পাওয়ার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। চালকদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, গাড়ির অনুমোদন, সড়কের ত্রুটি, সঠিক তদারকির অভাবসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে গলদ। দুর্ঘটনা রোধে সরকারীভাবে নেয়া সিদ্ধাসমূহও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। এক্ষেত্রে রয়েছে সমন্বয় ও পরিকল্পনার অভাব।

এমন বাস্তবতায় প্রতিবছরের মতো এবারও বেসরকারীভাবে পালিত হলো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৬। ‘দোষারোপ নয়, দুর্ঘটনার কারণ জানতে হবে, সবাইকে নিয়ম মানতে হবে’ এই সেøাগান নিয়ে দিবসটির আয়োজন করা হয়। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সড়ক নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। সড়ক নিরাপদ করার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়। শনিবার এ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে ছিল নানা আয়োজন। দিবসটি উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপদ সড়ক দিবসে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিসচা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার মতো দেশের একটি দুর্যোগসম এই সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অনীহা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা প্রায়ই দেখি দেশের কোন না কোন সমস্যায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতীয় ঐক্যের কথা বেশ জোর দিয়ে বলে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে গুলশানে জঙ্গী হামলার ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। তখন আমরা দেখেছি সরকারী, বিরোধীদল- দলমত নির্বিশেষে ঐক্যের কথা বলে সরব হয়ে উঠেছিলেন। তাছাড়া জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষ সরকার গঠনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলের ঐকমত্যের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

তাহলে প্রশ্ন হলো- সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা কিভাবে দেখে থাকেন। প্রতিদিন সড়কে লাশের মিছিলে একাধিক তাজাপ্রাণ যুক্ত হচ্ছে। বিষয়টি কি তাদের ভাবায় না? তাদের স্পর্শ করে না? তাদের কাছে কি এসব প্রাণের কোন মূল্য নেই? আমি মনে করি সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পায়, তারা যদি আন্তরিক হন তাহলে সড়কে অপঘাতে মৃত্যুর হার কমে আসতে বাধ্য। তাই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হয়ে উঠবেন।

তিনি বলেন, সড়কের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনায় জনবসতি ও হাট-বাজারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও জরুরী। সড়ক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বিদ্যমান। যার কারণে সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কখনও কখনও এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মনিটরিংয়ের অভাবে আবার সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে ভূমি, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। যাতে করে সড়ক তার নৈতিক চরিত্র না হারায়। রাস্তার পাশের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা যায়।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন শক্তিশালী একটি সেল গঠনের। এই সেল গঠিত হবে স্থানীয় সরকার, সড়ক ও সেতু, স্বরাষ্ট্র আইন, স্বাস্থ্য, ভূম, শিক্ষা, অর্থ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অধিদফতরের সমন্বয়ে। যার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সড়কের বিদ্যমান সকল সমস্যার নিরসন করতে হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেল গঠন জরুরী।

থামছে না দুর্ঘটনা ॥ জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২০ সালকে ‘সড়ক নিরাপত্তা দশক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ১০ বছরে বাংলাদেশসহ সদস্যদেশগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু পাঁচ বছরের বেশি পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেনি। যদিও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবরই বলে আসছেন, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা আগের চেয়ে কমেছে। দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে আলাদা বাজেটও নেই। এভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় না।

সহজেই মিলছে গাড়ি চালকের সনদ ॥ বিআরটিএর তথ্য অনুসারে, দেশে ভারি যানবাহনের প্রায় আড়াই লাখ চালক রয়েছেন। তাদের ১ লাখ ৯০ হাজার লাইসেন্স পেয়েছেন পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে। তারা লাইসেন্স পান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দেয়া তালিকা ধরে। সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, তিন ধরনের লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এর কোনটিরই সঠিক মান যাচাই করা হয় না। বাংলাদেশে নিবন্ধিত যানবাহন আছে প্রায় ২৭ লাখ। এর মধ্যে অন্তত ৪ লাখের ফিটনেস সনদ নেই। আর যেসব যানের সনদ আছে, সেগুলোর বেশির ভাগ দেয়া হয়েছে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে। কারণ, মোটরযান আইনে যানবাহনের ৫০টির বেশি কারিগরি পরীক্ষা নিশ্চিত করেই চলাচলের সনদ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এসব যাচাই করা হয় যন্ত্রের সাহায্যে।

উন্নত সেবার প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি ॥ বর্তমানে ব্যাংককের পরিবহনের সংখ্যা ৭৫ লাখ। থাইল্যান্ডে সাড়ে তিন কোটি। বিশাল এই পরিবহন রাজ্যের দেখভাল কিন্তু দেশটির সরকারী পরিবহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার হাতে নেই। উন্নত দেশগুলোতে সঠিক সেবা ও মান নিশ্চিত করার জন্য সরকারী সংস্থা ‘রেগুলেটরি বডি’ হিসেবে কাজ করছে। যা আমাদের দেশে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে সেবার মান বাড়ছে। দক্ষ চালক তৈরি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা কমছে। সেইসঙ্গে আনফিট কোন পরিবহন রাস্তায় চলতে পারছে না। চোখে দেখে ফিটনেস সনদ দেয়ার প্রবণতাও নেই সেখানে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। তেমনি নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের জবাবদিহিতাও রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক শামসুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, অনেক আগেই দক্ষ চালক তৈরি ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন ছিল। ২০০৭ সালে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি মন্ত্রী পরিষদ পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু কিছু স্বার্থন্বেষী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কাজ করেছে। এতে প্রস্তাবটি আর আলোর মুখ দেখেনি। ফলে প্রতিবছর গাড়ি বেড়েছে। কিন্তু চালক বাড়েনি। দক্ষ চালক তৈরি হচ্ছে না। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। মরছে মানুষ। অনেকে দুর্ঘটনায় সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও সরকারী পরিবহন অথরিটি চালক তৈরি ও যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে না। এটি বেসরকারী ভাবে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশেও বিআরটিএ-এর নির্দিষ্ট জনবল দিয়ে বিশাল কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব নয়। বাস্তবে তাই হচ্ছে। বিআরটিএ-এর পরিবহন রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখ কম। কিন্তু পাঁচ লাখ গাড়ি তো বসে নেই। সবগুলোই রাস্তায় চলছে। তাহলে সড়কের নিরাপত্তা কিভাবে হবে। তাছাড়া কমার্শিয়াল গাড়ি প্রতি দুইজন চালক থাকার নিয়ম রয়েছে। এই হিসাবে গাড়ির বিপরীতে চালকের সংখ্যা আরও কম হবার কথা। সব মিলিয়ে কথা হলো দেশে চালকের ঘাটতি অনেক দিনের। এটা নতুন কিছু নয়।

মাত্র ১৬ লাখ তালিকাভূক্ত চালক! ॥ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত পরিবহনের সংখ্যা ১০ লাখ ২২হাজার ৬১৯। একই সময়ে সারাদেশে তালিভূক্ত যানবাহনের সংখ্যা ২৭ লাখ ১৩হাজার ২৯৪টি। এরমধ্যে বাসের সংখ্যা ৩৮হাজার। কার্গো ভ্যান ৬ হাজার ৬০৮টি। মাইক্রো ৮৯ হাজার ৭৩১টি। মিনিবাস ২৭ হাজারেও বেশি।

কাভার্ডভ্যান ১৯ হাজার, ডেলিভারি ভ্যান ২৪ হাজার, প্রায় ১৬ লাখ মোটরসাইকেল রয়েছে সারাদেশে। এছাড়াও এক লাখ ১৮ হাজার ট্রাক, ২৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি অটোরিক্সা, তিন লাখ ২৬ হাজার প্রাইভেটকার ছাড়াও আছে অন্যান্য পরিবহন।

জানতে চাইলে বিআরটিএ সচিব শওকত আলী জনকণ্ঠকে বলেন, সারাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালকের সংখ্যা ১৬ লাখের কাছাকাছি। তবে অবৈধ চালক আছে কিনা আমাদের জানা নেই। অবৈধভাবে বা লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালালে যারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ধরার কথা। সরকারী এই কর্মকর্তা বলছেন, দেশে অবৈধ চালক থাকার কথা নয়। যদি থেকে থাকে তাহলে হাইওয়ে পুলিশ, মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা পুলিশের দেখা বা ধরার কথা। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি দুর্ঘটনা রোধ বা চালক সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার। দক্ষ চালক তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।