খুব শীঘ্রই প্রত্যাহার হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগের ভূমি অধিগ্রহণ নিষেধাজ্ঞা

190

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : বিভাগীয় শহরের ভূমি অধিগ্রহণের উপর খুব শীঘ্রই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে এমনটাই আজ জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান।

ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষিত হওয়ার আগে থেকেই ময়মনসিংহ শহর সম্প্রসারণের জন্য শহর সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপাড়কে সরকারিভাবে বেছে নেয়া হয়েছিলো । বিভাগ ঘোষিত হওয়ার পর ময়মনসিংহকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নদীর কোল ঘেঁষে বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বিভাগীয় নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যেগ গ্রহণ করা হয় ।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এই প্রেক্ষিত ১৭.০৮.২০১ খ্রি: তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যবিবরণীর ৫.৮ নং অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর ২০১৬ খ্রি: ০৫.৪৫.৬১০০.০০১.১৪.০০১.১৬-৪৫৬ স্মারক মূলে জমি কেনা বেচা বন্ধ রাখতে জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব রেজিস্ট্রার বরাবর ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো: মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত  একটি চিঠি প্রেরণ করেন।

প্রায় চার বছর আগে ঘোষিত সরকারী প্রজ্ঞাপন জারী করার পর থেকে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের আওতায় জরিপসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে । দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ২/৩ দফা জরীপ কাজ ও ভূমি মালিকদের সাথে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও সম্পন্ন হয় । এরপরও ভূমি অধিগ্রহণ কাজের কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় নাই । ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে জারী করা নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ আছে কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কোন কাজ আজ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় নাই । কোন এক অজ্ঞাত কারণে থমকে গেছে বিভাগীয় শহর স্থাপনের উন্নয়ন কর্মকান্ড।

স্থানীয় জন সাধারন যারা ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় আছে, তারা বেশিরভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী । দরিদ্র এই জনগোষ্ঠী মানুষের দুঃসময়ে জমি কেনা বেচা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া । বিবাহ, চিকিৎসা, বিদেশ গমনসহ নানান জটিলতায় জমি কেনাবেচার মাধ্যমে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের সমস্যা সমাধান করে থাকেন । কিন্তু সরকারী ভূমি অধিকরণের দীর্ঘ সুত্রিতার কারনে ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলের মানুষ জমি কেনা বেচা না করতে পারায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে । সরেজমিনে দেখা যায়, জমি থাকা স্বত্বেও দুরারোগ্য চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে জমি বিক্রয় করতে পারছে না বলে একজন জমির মালিক কান্নায় ভেঙ্গে পরেন । আর একজন স্থানীয় কৃষককে দেখা যায়, মেয়ের বিয়ে দেয়ার উদ্দ্যেশ্যে জমি বিক্রয় করতে না পারায় সাহায্যের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে । এমন অনেকেই আরও নানান কাজে জমি থাকতেও জমি বিক্রয় করতে পারছে না ।

জমি বিক্রয়ের উপর সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকায় জমি কোন কাজে লাগছে না, অপরদিকে ভূমি অধিগ্রহণ কাজেরও কোন অগ্রগতি হচ্ছে না । এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় জন সাধারন সরকারী এই উদ্যেগের সমালোচনা করেন । তাদের দাবী, সরকার হয় জমি অধিগ্রহণ করে পাওনা টাকা বুঝিয়ে দিবে নতুবা জমি বেচা-কেনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে ।

এই ব্যাপারে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  অনিন্দ্যবাংলা প্রতিনিধিকে জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার শীঘ্রই সমাধান হবে, এ সপ্তাহেই আমরা মিটিং ডাকবো, বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপনের জন্য যতটুকু জমির প্রয়োজন সেটুকু রেখে বাকী সবজমির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সকল ভূমি উন্মুক্ত করে দিব।

উল্লেখ্য যে,

দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের মধ্য একমাত্র ময়মনসিংহ শহরকেই নতুন করে আধুনিকভাবে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে ছিলেন সরকার। যা ছিলো ময়মনসিংহবাসীর জন্য আশির্বাদ স্বরূপ। সেই মোতাবেক, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, বাজেট প্রণয়ন ও অন্যান্য বিষয়গুলোর কাজ চলছিলো দ্রুত গতিতে। ভুমি অধিগ্রহণ নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত জমির মালিকেরা উন্নয়নের স্বার্থে ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরনের টাকা সহজভাবে পাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তাদের অনাপত্তি তুলে নেয়।
 
কিন্তু এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী, দালাল লোকজন ভুমিদস্যুদের সহযোগিতায় এলাকায় কিছু মানুষের মধ্য বিভ্রান্তি তৈরী করে যে, ভুমি অধিগ্রহণ হলে জমির মালিকেরা নায্য টাকা পাবে না ! তাছাড়া তারা ভাড়াটে লোকদের দিয়ে একটি আন্দোলন পরিচালনা কমিটি তৈরী করে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ভুমি অধিগ্রহনে বাধা প্রদান করে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে।
 
উল্লেখ্য যে,- নভেম্বর ২০১৮ ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন কে বাস্তবায়ন করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহে পদার্পণ করেন। তার আগমনে ময়মনসিংহবাসী ছিল আনন্দিত-গর্বিত-কৃতজ্ঞ। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সমগ্র দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি ময়মনসিংহকে বিভাগীয় শহরে পরিণত করা হয়েছে।
 
বৃহত্তর ময়মনসিংহ উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯২টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী । যার পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহবাসীর অনেক দু:খ দুর্দশার অবসান ঘটবে। বেকার সমস্যা দূর হয়ে নতুন নতুন পেশার কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বিভাগীয় শহরে কলকারখানা নির্মাণের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র নদের উপর কেওয়াট খালি ব্রিজ নির্মাণ হবে। যে পুত্র নদ তার নব্যতা হারিয়ে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে সেই নদ খনন করা হবে।
 
ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপাড়ে সাড়ে চারশত একর অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে এই পরিকল্পিত নগর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। কেউ কেউ বলছেন এই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেছে, কেউ বলছেন শেষ পর্যন্ত কি হবে তা জানি না !
 
অথচ গত তিন বছর যাবত নদীর ওপাড়ে হাজার হাজার মানুষের জমি অধিগ্রহণের নোটিশের প্রেক্ষিতে কেনা-বেচা বন্ধ রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষেরা।
 
গত ২ নভেম্বর ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ১৯৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ১০৩টি উদ্বোধন ও ৯৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন
 
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যেসব প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হলো- ব্রহ্ম‏‏পুত্র নদের ওপারে নবগঠিত বিভাগের প্রস্তাবিত নতুন শহরের বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও পুরাতন ব্রহ্ম‏‏পুত্র নদ খনন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ ৩৬০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র,
 
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেকপার্ক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আরআরএফ-ময়মনসিংহ রেঞ্জ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প, ময়মনসিংহ বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, গৌরীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সদর উপজেলার সিরতায় ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ মেমোরিয়াল ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, নান্দাইল উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ, হালুয়াঘাট উপজেলায় মডেল মসজিদ, ধোবাউড়া উপজেলায় মডেল মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেওটাখালী (কেওয়াটখালী) ব্রীজের যে শুভ উদ্বোধন করেন তার চলতি মার্চ মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই বিষয়েও তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফিরে দেখা – বাংলাদেশে ৭টি বিভাগের মধ্য আজ সবকটি বিভাগেই প্রায় বসবাসের অনুপযোগি।
 
অপরিকল্পতিভাবে গড়ে উঠা এসব মেগা শহর এখন প্রায় অচলাবস্তা। এসব মেগা শহরকে সরকার কোনভাবেই পরিকল্পিত পুনর্গঠন করতে পারছেন না।
 
তাই দেশব্যাপী সকল মানুষের দৃষ্টি ছিলো নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর নিয়ে। পরিকল্পিত বিভাগীয় শহর নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেছেন তারা এখন অনেকটাই স্বপ্নহীন। শেষ পর্যন্ত কি হবে ?
 
ফিরে দেখা :
আধুনিক ময়মনসিংহ শহরের জন্য ৭৭৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প
 
আধুনিক ও বহির্বিশ্বের উন্নত শহরের মতো একটি শহর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরকে।
 
এজন্য ‘নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দফতর ও নতুন বিভাগীয় শহর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
 
এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
সম্প্রতি একনেকে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দেয়া হয়। তবে বর্তমান সরকারের এই মেয়াদে এটি অনুমোদনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
প্রকল্পটি ফেরত প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, এটি একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, ভূমি অধিগ্রহণের আগে শহরের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা প্রয়োজন। এজন্যই এটি অনুমোদন দেয়া হয়নি।
 
মন্ত্রী বলেন, যেহেতু শহরগুলো জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখে, তাই আমরা চাই ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি একটি আধুনিক এবং বহির্বিশ্বের শহরগুলোর মতো সাজানো একটি শহর হোক। সেজন্য ফেরত দেয়া হয়েছে।
 
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ দেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত। এ বিভাগের আয়তন ১০ হাজার ৪৮৫ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার। ময়মনসিংহ জেলা শহরটি বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীর ঘেঁষে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত।
 
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি একটি আধুনিক এবং বহির্বিশ্বের উন্নত শহরের আদলে স্থাপনের লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের উভয় তীর ঘেঁষে গঠনের নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ী তিনি এই বিভাগীয় শহরের ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৮টি মৌজা নিয়ে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
এসব মৌজার সব জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের অধীনে নেয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দফতর বা অধিদফতরের মধ্যে বণ্টন, সুপরিকল্পিত আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিত্তবিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। এতে একটি সুপরিকল্পিত, আধুনিক, স্যাটেলাইট শহর গঠন করা সম্ভব হবে।
 
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, যে আটটি মৌজায় বিভাগীয় শহর স্থাপন করা হবে, সেগুলোর প্রায় ৪ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৮৮ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে।
 
এতে ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬ হাজার ৪৫৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব পরিবারের জনসংখ্যা প্রায় ২৯ হাজার ২৪২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি এলাকা প্রায় ৩৫৩ দশমিক ৫০ একর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনদের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য শহরের পার্শ্ববর্তী দুলালবাড়ি মৌজায় প্রায় ৮০ একর খাস জমির প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে ৫২টি ব্লক তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া আরও ৩২০ একর জমির প্রস্তাব করা রয়েছে প্রকল্পের মাধ্যমে।
 
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ৪ হাজার ৩৬৬ দশমিক ৮৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ২৯ লাখ ৬০ হাজার ৩২৮ ঘনমিটার মাটির কাজ, দুটি গাড়ি ক্রয়, ইমপ্যাক্ট অ্যাসেমেন্ট স্টাডি, ২ লাখ ১২ হাজার ৪২৩ মিটার মাস্টার ড্রেন তৈরি, ৪ হাজার ৫৫১ মিটার রানিং সীমানা দেয়াল তৈরি, ৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৮১ মিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ এবং বক্স কালভার্টসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান ও উপাসনালয় নির্মাণ করা হবে।
কয়েক বছর আগে সরকার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের কিন্তু ময়মনসিংহবাসীর অনৈক্য ও সদিচ্ছার কারণে সেটা বাস্তবায়ন হয় নি। এটা ছিলো ময়মনসিংহবাসীর জন্য চরম দুর্ভাগ্য (উল্লেখ্য যে সেই বিমানবন্দর এখন কুমিল্লায়)।