যত্রতত্রভাবে মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

85

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : যত্রতত্রভাবে মেডিকেল কলেজ তৈরি করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ তৈরির ক্ষেত্রে সেখানে ছাত্র ও শিক্ষক কত এবং শিক্ষার মান কেমন সে দিকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে, যাতে সেবার মান উন্নত হয়। সেবার মান ধরে রাখতে যত্রতত্রভাবে কলেজ তৈরি করতে দেয়া হবে না।’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ১৬ এপ্রিল, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু সরকারিভাবে নয় বেসরকারিভাবেও যাতে মানুষ চিকিৎসা পায় সেদিক লক্ষ্য রেখেই সরকার কর কমিয়ে এনেছে। সেদিক লক্ষ্য রেখেই সরকার কাজ করে। গত ১০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার সে দিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটা হিসাব নিলাম, ছেলেদের গড় আয়ু একটু কম। মেয়েদের একটু বেশি বাঁচে। মনে হয়, মেয়েরা একটু বেশি কষ্ট সহিষ্ণু সেজন্য বেশি বাঁচে। েএজন্য ছেলেদের আমি বলবো, আপনারা আপনাদের বিষয়ে সচেতন হোন। নিজেরা একটু ভালো থাকুন, যাতে বেশিদিন বাঁচতে পারেন।
তিনি বলেন, আমি যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসি তখন চিকিৎসা সেবাটা কীভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব সে চিন্তা থেকেই কমিউনিটি ক্লিনিক -এই ধারণাটা নিয়ে আসলাম। যখন এটার কার্যক্রম শুরু করলাম তখন ভালো একটা ফলাফল পেলাম।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্য

এখন সেখানে আমরা ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দিচ্ছি। সেখানে মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসাটা পাচ্ছে। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যের সেবায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এখন বিশেষ কাজ করে যাচ্ছে। এখন আর কোনো নারী কারো মুখের দিকে তাকাতে হয় না। নিজেরাই পায়ে হেঁটে চিকিৎসাটা নিতে পারে। আমরা মিডওয়াইফারি ট্রেনিং করে দিচ্ছি।

চিকিৎসকদের নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ডাক্তার, নার্স পর্যাপ্ত পরিমাণে নিয়োগ দিয়েছি, আরও যাতে উন্নতমানের হয় সেই ব্যবস্থাটাও করছি।  আমাদের যা প্রয়োজন সেই অনুপাতে (নিয়োগ) দিচ্ছি।  পাশাপাশি আমরা যখন কোনো উপজেলায় ডাক্তার পোস্টিং দিই, থাকার জায়গার অভাব থাকে। তাদের যাতায়াতের সমস্যা থাকে। নানা রকম অসুবিধা থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন আজকে কিছু জিপ গাড়ি উপহার দিলাম। এই জিপ গাড়ি উপহারটা এইজন্য দিয়েছি সেখানে যেন প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল থেকে যখন কেউ চিকিৎসা সেবা দিতে যাবে সে যেন এই গাড়িটা ব্যবহার করতে পারে। সেটা মাথায় রেখেই দিয়েছি। তবে আমি অনুরোধ করবো-সবাই যে সবসময় গাড়িতেই চলতে হবে তা না। কেউ সাইকেলেও চলতে পারেন। সাইকেল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ’

তিনি বলেন, ‘অলিগলি ছোট রাস্তায় গ্রামের সব জায়গায় কিন্তু জিপ চলবে না। সেখানে সাইকেলে করেও যেতে পারেন। আর সাইকেল যদি দিনে একবার চড়েন আপনার শরীরের জন্যও ভালো একটা এক্সারসাইজ হবে, স্বাস্থ্য ভালো হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনও কিছু কিছু উপজেলায় ডাক্তারের অভাব আছে। সেই অভাবটা পূরণ করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নার্সিংয়ে যাতে সবাই আসতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে

নার্সিং পেশাকে মহান পেশা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমাদের একটা সমস্যা রয়েছে গেছে যে,কেউ যদি নার্সিং পেশায় আসতে চায় তাহলে তার সায়েন্সের স্টুডেন্ট হতে হবে। ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত না। বরং নার্সিং পড়ার সময় সায়েন্সের যে সাবজেক্টটা যতটুকু প্রয়োজন সেটা নার্সিং এডুকেশনের যে কারিকুলাম সেখানে সেই বিষয়গুলো সংযুক্ত করে দিতে হবে। যেকোনো সাবজেক্টেই পড়ুক না কেন নার্সিংয়ে আসতে পারবে সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। ইতিমধ্যে সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখানে (অনুষ্ঠানের মঞ্চে) বসেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। স্বাস্থ্য সচিবকেও বলেছি এটার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।  যদি কোনো আইন বা নীতিমালা কোনো কিছু শিথিল করে করতে হয় সেটাও আমরা করে দেব। শুধু এই শিক্ষাটাকে গুরুত্ব দিতে চাই। কারণ, নার্সিং একটা মহান সেবা বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সময়ে ডিপ্লোমা নার্স ছিল, ডিপ্লোমা নার্সিংয়ে ট্রেনিং করা হতো। আমি (ক্ষমতায়) এসে সেটাকে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত যাতে পড়াশোনা করতে পারে, মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত যাতে পড়তে পারে, এমনকি পিএইচডি যাতে পড়তে পারবে আমি সেভাবেই নার্সিং এডুকেশনটাকে গুরুত্ব দিই। নার্সিংকে আমি উন্নতমানের করে দিই।