“যৌন শীতলতা: একটি মারাত্মক যৌন সমস্যা “

0
22

যৌন সংক্রান্ত নানা সমস্যার মধ্যে যৌন শীতলতা সমস্যা একটি মারাত্নক সমস্যা । যৌন শীতলতা ফলে নারীর যৌন আগ্রহ এবং উত্তেজনা কমে যায়। যদি এই সমস্যা ক্রনিক হয়ে যায় তবে নানাবিধ চিকিৎসার দ্বারাও একে ভলো করে তোলা সম্ভব হয় না।

সব নারীরই যে যৌন শীতলতা সমস্যা দেখা দেয় তা নয়। এটি নিু আর্থ সামাজিক অবস্থা থেকে শুরু করে উচ্চ আর্থ-সামাজিক পরিবেশের যে কোনো নারীর যে কোনো বয়সে হতে পারে।

তবে সাধারণত যৌন শীতলতায় আক্রান্ত হবার উপযুক্ত সময় হলো মধ্য বয়স। বলা যায় নারীর যৌন জীবনের অন্যতম প্রধান যৌন সমস্যা হলো যৌন শীতলতা বা নারীর ফ্রিজিডিটি সমস্যা।

একজন নারী বহু কারণে যৌন শীতল হয়ে পড়তে পারে। যৌন শীতল হওয়া অর্থ নারীর কাছে যৌনতার বিষয়টি কোনো আগ্রহের সৃষ্টি করে না এবং এর জন্য নারী এই বিষয়ে বিরক্তিবোধ করতে পারে।

অন্যান্য সমস্যার মতো যৌন শীতলতা সমস্যার জন্যে ও বিভিন্ন প্রকার মানসিক এবং শারীরিক কারণ দায়ী থাকে। অনেক নারীই তাদের প্রথম মাসিক চক্রের সময় থেকেই যৌনতার ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়ে।

এটি পর্যায়ক্রমে নারীকে যৌন শীতল করে তুলতে থাকে। আবার পুরুষ ভীতিও অনেক নারীর যৌন শীতলতার জন্য দায়ী। এছাড়াও যৌনতার ব্যাপারে নারীকে সবচেয়ে বিমুখ করে তোলে অল্প বয়সে শেখা ধর্মীয় কুসংস্কার এবং সামাজিকতার চাপ।

তবে যৌন শীতলতার জন্য সবচেয়ে বেশি যে মনোদৈহিক কারণটি দায়ী তা হলো ভয়। যৌনতার ব্যাপারে অজানা ভয় অনেক নারীকে যৌন বিমুখ করে তোলে। শারীরিক নানা কারণে যৌন শীতল সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিষাদ।

কোনো নারী যদি বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে তবে তার যৌন আগ্রহ কমে যায়। এছাড়া মানসিক চাপ, এড্রেনাল সমস্যা থাইরয়েড ডিসফাংশন এবং হরমোনজনিত কারণে অনেক সময় নারী যৌনতার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

যোনির শুষ্কতা ,অনাকাঙ্খিত গর্ভাবস্থার চিন্তা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের কথা চিন্তা করেও অনেক নারী যৌন শীতল হয়ে পড়েন। আবার কোনো দম্পতির মধ্যকার মানসিক এবং শারীরিক সম্পর্ক যদি অপর্যাপ্ত হয়, তবে নারীর যৌন শীতলতা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নারীর সাথে পুরুষের সম্পর্কের উপর ও যৌন শীতলতার ব্যাপারটি নির্ভর করে। এতে করেও নানা প্রকার যৌন সমস্যা হতে পারে। কোনো কোনো নারী এতে করে যৌন উত্তেজিত হতে পারে না।

ক্রমাগত এই অবস্থা চলতে তাকলে নারী এক সময় যৌনতার বিষয়ে একেবারে উদাসীন হয়ে পড়ে। কাজেই এটিও বিবেচনা করা উচিত যে নারী এবং পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক কতোটা গভীর।

কোনো দম্পতির ভেতর এরকম সমস্যা চলতে থাকলে উভয়ের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা করে নেয়া উচিত। এতে করে আশা করা যায়, সমস্যা অনেক খানি কমে আসবে।

পরবর্তীতে যৌন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া একান্ত প্রয়োজনীয়। নারী, পুরুষের যৌন শীতলতা শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে তাদের যৌনতাকে তিগ্রস্ত করে।

অনেক নারী পুরুষ যৌনতার বিষয়ে নানা কুসংস্কার মনে পোষণ করে। এতে করেও যৌনতা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। যৌনতা বিয়ষক নানা মিথ্যা ধারণা নারী এবং পুরুষের যৌনতাকে তিগ্রস্ত করতে পারে।

কাজেই এব্যাপারে নারী পুরুষ উভয়কেই মনোযোগী হতে হবে। যৌনতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নারী এবং পুরুষের দৈহিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে।

অনেকে এই বিষয়ে অন্য কারো কাছে লজ্জা বলতে দ্বিধাবোধ করেন। তবে এই বিষয়গুলো চেপে যাওয়া উচিত নয়। সমাধান বলতে ডাক্তারের, বিশেষজ্ঞের বা গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here