শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে ‘অর্ধেক ভাড়া’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ: রাব্বানী

0
20

অনিন্দ্যবাংলা : শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে উন্নত বিশ্বের শহরে। গণপরিবহনে চড়ার জন্য ভাড়ায় রয়েছে বিশেষ ছাড়। খুব বেশি উন্নত নয়—এশিয়ার এমন দেশগুলোতে গণপরিবহনে অল্প ভাড়ায় সম্মান ও অধিকার নিয়ে যাতায়াত করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাফ ভাড়ার রেওয়াজ বাংলাদেশেও আগে ছিল, তবে এর প্রয়োগ এখন বলতে গেলে নেই। হাফ ভাড়ার কথা বললে নিগ্রহের শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। সরকারি বিআরটিসি বাসে শহর এলাকায় হাফ ভাড়া কখনো কখনো নিলেও বেসরকারি বাসে বড় করে লেখা থাকে ‘হাফ ভাড়া নেই।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের ৯ দাবির একটি হচ্ছে বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার সুযোগ। রাজধানীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলের প্রধান বাহন বাস। তবে অনুমোদন ছাড়া ‘সিটিং সার্ভিস’, ‘গেট লক’সহ বিভিন্ন সেবার কথা বলে একদিকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, নেই হাফ ভাড়া দেওয়ারও সুযোগ। কয়েক বছর ধরেই ভাড়া-সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। অনেক আগেই উধাও হয়ে গেছে ছাত্রদের জন্য চালু থাকা ‘অর্ধেক ভাড়া’ বা ‘হাফ ভাড়া’ রাখার নিয়ম। শিক্ষার্থীরা বলছে, বেশির ভাগ বাসে পরিচয়পত্র দেখালেও অর্ধেক ভাড়া না নিয়ে পুরো ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।

গণ পরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া এ দাবী দীর্ঘদিনের। বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রকৃত এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে ‘অর্ধেক ভাড়া’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

তিনি বলেন, প্রশাসন, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে অচিরেই ‘স্টুডেন্ট হাফ ভাড়া’ নিশ্চিত করা হবে।

ফিরে দেখা :

হাফ ভাড়া বিদেশে আছে এ দেশে উধাও!

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা রয়েছে উন্নত বিশ্বের শহরে। গণপরিবহনে চড়ার জন্য ভাড়ায় রয়েছে বিশেষ ছাড়। খুব বেশি উন্নত নয়—এশিয়ার এমন দেশগুলোতে গণপরিবহনে অল্প ভাড়ায় সম্মান ও অধিকার নিয়ে যাতায়াত করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাফ ভাড়ার রেওয়াজ বাংলাদেশেও আগে ছিল, তবে এর প্রয়োগ এখন বলতে গেলে নেই। হাফ ভাড়ার কথা বললে নিগ্রহের শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। সরকারি বিআরটিসি বাসে শহর এলাকায় হাফ ভাড়া কখনো কখনো নিলেও বেসরকারি বাসে বড় করে লেখা থাকে ‘হাফ ভাড়া নেই।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের ৯ দাবির একটি হচ্ছে বাসে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার সুযোগ। রাজধানীর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলের প্রধান বাহন বাস। তবে অনুমোদন ছাড়া ‘সিটিং সার্ভিস’, ‘গেট লক’সহ বিভিন্ন সেবার কথা বলে একদিকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, নেই হাফ ভাড়া দেওয়ারও সুযোগ। কয়েক বছর ধরেই ভাড়া-সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। অনেক আগেই উধাও হয়ে গেছে ছাত্রদের জন্য চালু থাকা ‘অর্ধেক ভাড়া’ বা ‘হাফ ভাড়া’ রাখার নিয়ম। শিক্ষার্থীরা বলছে, বেশির ভাগ বাসে পরিচয়পত্র দেখালেও অর্ধেক ভাড়া না নিয়ে পুরো ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন শ্রমিকরা যুক্তি দিয়ে থাকে, ছাত্ররা নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে পারে না বলে তাদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া রাখা হয় না। তবে স্বাভাবিক সময়ে গাড়িতে চড়ে এ প্রতিবেদক নিজেই দেখতে পেয়েছেন, মিরপুরের আনসার ক্যাম্পের সামনে থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সিটিং সার্ভিসগুলোতে ২৫ টাকা হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পরিচয়পত্র দেখিয়েও ছাত্র-ছাত্রীরা হাফ ভাড়া দিতে পারে না।

রাজধানীতে প্রায় আট হাজার বাস চলাচল করে ২৪৬টি রুটে। এর মধ্যে ১০-১২টি রুটে হাফ ভাড়া নেওয়া হয়। বেশির ভাগ বাসের দরজার ওপরে বা পাশেই লেখা থাকে ‘হাফ পাস নাই’, অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ নেই। আজিমপুর থেকে মিরপুর রোড হয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিসি ১৪টি স্কুল বাস চালু করেছিল। শিশু শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য এগুলো চালু করা হয়েছিল ২০১১ সালে। পরে এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বিআরটিসির চার শতাধিক বাস চলাচল করে রাজধানীতে। এসব বাসেও অর্ধেক ভাড়া না রেখে পুরো ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আছে শিক্ষার্থীদের।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিআরটিসির সব বাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। অর্ধেক ভাড়া নিতে বিআরটিসির কোনো বাস অস্বীকৃতি জানালে অভিযোগ আকারে আমাদের জানানোর আহ্বান জানাব শিক্ষার্থীদের।’ বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় ১৮৫টি রুটে ৪৫২টি বাস পরিচালনা করছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের অধীন বিভিন্ন বাস কম্পানি হাফ ভাড়া নিয়ে থাকে।’

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় চলাচলের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সরকার। মেলবোর্ন, আমস্টারডামে যেমন আছে, তেমনি মাল্টা-মরিশাসের মতো দেশেও আছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা ভাড়ার যানবাহন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ট্রান্সপোর্ট অথরিটি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্ড চালু করেছে, যা দিয়ে বাস ও ট্রেনে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে। দিল্লিতে ১০০ রুপির (১৩০ টাকা প্রায়) কার্ড দিয়ে সাধারণ বাসে সারা মাস যাতায়াত করতে পারে শিক্ষার্থীরা। আর এসি বাসে অন্য যাত্রীদের মাসে এক হাজার ২৭৫ রুপির কার্ড লাগে, ছাত্র-ছাত্রীদের দিতে হয় ২০০ রুপি। ভারতের কেরালা রাজ্যে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আট রুপি। এর সঙ্গে বাড়তি এক রুপি দিয়ে ৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করতে পারে শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রামে মানববন্ধন : শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকরের দাবি

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর করবে কে, সেই প্রশ্ন তুলেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট কাউন্সিল। মন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর করার দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে। এতে নগরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম সেকান্দর চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
নুরুল আজিম প্রমুখ। স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক রাগীব আহসান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অথচ চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে এসে সংবাদ সম্মেলন করে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া আদায় করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় মন্ত্রী গত আগস্ট মাসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর নির্দেশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্কুল ও কলেজে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার মন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here