বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ময়মনসিংহ সদরের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জননন্দিত নেতা আশরাফ হোসাইন

0
29

অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স।।
চতুর্থ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ময়মনসিংহ সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জননন্দিত নেতা আশরাফ হোসাইন।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আশরাফ হোসাইনের প্রতি আস্থা রেখে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আস্থা শতভাগ পূর্ণ হয়েছে। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ময়মনসিংহ সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, আশরাফ হোসাইনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী গত বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় তিনি নিরঙ্কুশ ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৪ মার্চ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসাইনসহ মোঃ হামিদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও এবিএম সিদ্দিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও এবিএম সিদ্দিকুল ইসলাম এর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়ে গেলে আশরাফ হোসাইন ও মোঃ হামিদুল ইসলাম এর মনোনয়পত্র চূড়ান্ত করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

গত বুধবার দুপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ হামিদুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে আশরাফ হোসাইনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আশরাফ হোসাইন ময়মনসিংহে সদরের এক সম্ভ্রান্ত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজাদ ফুটওয়ারের স্বত্বাধিকারী আশরাফ হোসাইন পেশায় সফল ব্যবসায়ী হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শে দীক্ষিত ও পরীক্ষিত সৈনিক। তিনি দেশ ও মানুষের উন্নয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সক্রিয় থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।

ময়মনসিংহের ক্লীনম্যান হিসেবে পরিচিত আশরাফ হোসেন ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে তিনি আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল মিন্টু কলেজের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন। ধারাবাহিকভাবে জেলা ছাত্রলীগ, জেলা যুবলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নির্বাচিত হন।

আশরাফ হোসাইন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, সৈনিকলীগের নেতারা আশরাফ হোসাইনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ ধাপে ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলাকালে জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এক প্রার্থীর রিটের কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন। গফরগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় এবং তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ না হওয়ায় এ তিনটি উপজেলায় নির্বাচন হয়নি। ১০উপজেলার মধ্যে আওয়ামীলীগের ২ জন ও বিদ্রোহী আওয়ামীলীগের ৮ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগের আরো ৩ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।

এই নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ হচ্ছেন, হালুয়াঘাট উপজেলায় মাহমুদুল হক সায়েম নৌকা প্রতিকে ৪৩ হাজার ৯ শত ৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কবিরুল ইসলাম বেগ ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ৪শ ১২ ভোট পেয়েছেন।ধোবাউড়া উপজেলা ডেবিট রানা (বিদ্রোহী) আনারস প্রতিকে ২১হাজার ৬ শ ৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মজনুমৃধা ১৯ হাজার ৩শ ১৪ ভোট পেয়েছেন। ফুলপুর উপজেলায় আতাউল করীম রাসেল (বিদ্রোহী) ঘোড়া প্রতীকে ৬৭ হাজার ৮শ ৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে ২০ হাজার ১শ ১০ ভোট পেয়েছেন।

গৌরীপুর উপজেলায় মোফাজ্জল হোসেন খান (বিদ্রোহী) দোয়াত কলম প্রতীকে ৩৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভী (বিদ্রোহী) মটর সাইকেল প্রতিকে ২৬ হাজার৬শ ৪৪ ভোট পেয়েছেন।ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মাহমুদ হাসান সুমন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৩ হাজার ৩শ ৫৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বদরুল আলম আনারস প্রতিকে ৫১ হাজার ৯শ২৫ ভোট পেয়েছেন।নান্দাইল উপজেলায় হাসান মাহমুদ জুয়েল (বিদ্রোহী) আনারস প্রতিকে ৭১ হাজার ১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬৭ ভোট ।

মুক্তাগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হাই আকন্দ (আনারস) ৫৩ হাজার ৫শ ১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬শ ৭১ ভোট।

ভালুকা উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আবুল কালাম (আনারস) প্রতীকে ৫০ হাজার ৮১৩ ভোট পেয়ে নিবার্চিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা (নৌকা) প্রতীকে ৪৯ হাজার ৪শ ৫৪ভোট পেয়েছেন। এর আগে প্রার্থী না থাকায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় আওয়ামীলীগের আশরাফ হোসাইন, ফুলবাড়িয়ায় আওয়ামীলীগের আব্দুল মালেক সরকার ও গফরগাঁও উপজেলায় আওয়ামীলীগের আশরাফ উদ্দিন বাদল বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

জেলার ১০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৮ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here