অনিন্দ্য আড্ডা কবিতা

আজিম উদ্দিন এর ৩টি কবিতা

অনিন্দ্য আড্ডা

প্রকাশ : ২৪-১০-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫১২০

আজিম উদ্দিন এর ৩টি কবিতা

লাল শাড়ি

নীল শাড়ি পরো যখন আমি বিমোহিত হই

ফেরাতে পারি না দৃষ্টি আমার অপলক তাকিয়ে রই

রজনীগন্ধা খোপায় তোমার দেখতে লাগে খুব

মায়াবি চোখের গভীর মায়ায় অজান্তেই দেই ডুব।


কপালে কালো টিপ তোমার চোখে কাজল টানা

পিছু ছাড়ব না তোমার আমি যতই কর না মানা

হাসিতে তোমার মুক্তো ঝরে দোলে কানের দুল

এলোমেলো হয় পৃথিবী আমার বাঁধাই গণ্ডগোল।


শ্যামল বরণ কন্যা তুমি দেখতে অপরূপ

তোমার ভালোবাসা পেতে মনে জাগে লোভ

হ্যাঁ বলো না, না ও করো না স্মিথ হাসি হাসো

মনে হয় তুমি শুধু আমাকেই ভালোবাসো।


তোমার পায়ের নূপুরের শব্দে নিঃস্তব্ধতা যাবে কেটে

অচেনা পথে জমাব পাড়ি তোমার পাশে হেঁটে

পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় করব অবগাহন ৱ

তোমার ভালোবাসায় হবে আমার সকল দুখের দহন।


২. অস্তিত্ব

তোমার মাঝেই আপনারে বিলীন করে দিয়েছি

তুমি বিনে নিঃস্ব আমি তাও বুঝে গিয়েছি।

ভুলে থাকতে চাইলেও তোমায় ভুলে থাকা দায়,

ক্ষণে ক্ষণে তোমার কথা মনে পড়ে যায়।


ভুলে থাকার চেষ্টা করা সেও বড় ভুল

তুমি ছাড়া আমি যেন পাপড়ি ছাড়া ফুল।

ভেবে দেখলাম অবশেষে, তুমিহীনা সবকিছুই মিছে

তুমি রয়েছ আমার অস্তিত্বে মিশে।


তোমায় কাছে পাবার নেশায় ব্যাকুল আমার প্রাণ

তোমায় ছাড়া হয় না লেখা গল্প-কবিতা-গান।

ছন্নছাড়া লাগে আমার তুমি থাকলে দূরে

ছারখার হই বারবার আমি প্রেমানলে পুড়ে।


বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় কিংবা পূর্ণিমা রাতে

তোমার সাথে হারাতে চাই দূর অজানাতে

পাশাপাশি হাঁটতে চাই হাতে রেখে হাত

মুগ্ধ নয়নে দেখব তোমায় কাটাব নির্ঘুম রাত।


তুমি ছাড়া পৃথিবী আমার সদা মলিন লাগে

ঘুরে ফিরে তোমার কথাই মনে আমার জাগে

অনুভূতি আমার জেনো সেদিনই লোপ

পাবে দেহ ছেড়ে প্রাণ পাখিটা যেদিন উড়ে যাবে।


৩. গন্তব্য

যে শহরের সারাদিন থাকে শত ব্যস্ততা

রাত হলে সেথা নামে রাজ্যের নীরবতা

সারাদিন যে চোখ দেখে শত কাজের ধুম

দিন শেষে সে চোখেই নামে ক্লান্তির ঘুম।


সারাদিন গন্তব্যে পৌঁছাতে সবার কতই না তাড়া

হেঁটে-রিকশায়-বাসে কিংবা গাড়ি করে ভাড়া

গন্তব্যের কত রকমফের কেউ না তা ভাবে

ব্যস্ত সবাই কত ক্ষণে গন্তব্যে পৌঁছাবে।


কেউবা যাচ্ছে মসজিদ-মন্দির কেউবা পানশালায়

কেউবা যাচ্ছে অফিসে আবার কেউবা পাঠশালায়

অনাগত শিশুর অপেক্ষায় কেউবা দিন গোনে

অন্তিম যাত্রায় দিয়েছে রওনা কেউবা গোরস্থানে।


অপেক্ষমাণ প্রিয়জনের সামনে থামে না সব যাত্রা

অপেক্ষাহীন অনাহুত গন্তব্যও পাই না খুঁজে মাত্রা

দিনশেষে সকল গন্তব্যই অধরা রয়ে যায়

অপেক্ষায় ঈশ্বর স্থায়ী গন্তব্যে পরম মমতায়।