অন্যান্য খবর রাজনীতি

ছাত্রলীগ যোগসূত্র তুলে ধরে হাসনাতকে তুলোধোনা রুমিনের, বললেন ‘ফকিন্নির বাচ্চা’

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ২৬-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০১৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ ও ৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হট্টগোল, হাতাহাতি ও উত্তেজনার রেশ ছড়িয়েছে রাজনীতির মাঠেও। সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রুমিন ফারহানা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ।

শুনানির সময় বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইসির খসড়া প্রস্তাবকে সমর্থন জানান রুমিন ফারহানা। বিপরীতে এনসিপির প্রতিনিধি মোহাম্মদ আতাউল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করলে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। একপর্যায়ে বিএনপি ও এনসিপি নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

পরদিন রোববার এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমে রুমিনকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি রুমিনকে গত সরকারের 'সুবিধাভোগী' বলেও উল্লেখ করেন।

এর পাল্টা জবাব দিতে সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে হাসনাতের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। পোস্টে তিনি লেখেন, “এটা ঐ ফকিন্নির বাচ্চাটা না, যে আমাকে আওয়ামী লীগ বিষয়ক সম্পাদক বলেছে?”

পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করা ছবিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের একটি দেয়াললিখনের সামনে হাসনাত আবদুল্লাহর উপস্থিতি। অন্য ছবিগুলোর মাধ্যমে রুমিন দাবি করেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি হাসনাতের আগ্রহ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে অতীত সংযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট, বঙ্গবন্ধু নিয়ে লেখা প্রবন্ধ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের সঙ্গে তোলা ছবি। এমনকি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সম্পাদক হিসেবে মনোনয়নপত্র পাওয়া সংক্রান্ত একটি ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি।

রুমিনের এই মন্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠের উত্তেজনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বড় দলগুলোর নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়িয়ে পড়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত।