অন্যান্য খবর ধর্ম ও দর্শন

জন্মাষ্টমীর উৎসবে সেনাপ্রধান: “এ দেশ সবার, ধর্ম-বর্ণে কোনো ভেদাভেদ নেই”

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৬-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৩৭

“এই দেশ সবার, এখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না”—জাতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এই বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আয়োজিত জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় উৎসব ও শোভাযাত্রায় ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে অংশ নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “এই দেশের ওপর সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন, আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।”

এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।

উৎসব ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে বলেন, “শত শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, পাহাড়ি-বাঙালি সবাই মিলেমিশে এই দেশে শান্তিতে বসবাস করছে। আমাদের অঙ্গীকার থাকবে সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা।” তিনি আরো বলেন, “এদেশে কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন, সেটি মুখ্য নয়—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক, সবার সমান অধিকার রয়েছে।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব উদযাপনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জেনারেল জামান বলেন, “আপনারা ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করবেন। আমরা সেই আনন্দে আপনাদের সঙ্গে আছি এবং সব রকমের সহায়তা আপনাদের দেওয়া হবে।”

নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, “জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার এক উদাত্ত আহ্বান। শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।”

বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, “সত্যের পথে অটল থাকতে হবে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি জানান, তিনি নিজে পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। জয়কালী মন্দিরের পাশেই তার শৈশব কেটেছে, এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান বন্ধুদের সঙ্গে আজও তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। “আমরা কখনো ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করিনি,”—উল্লেখ করেন তিনি।

সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সম্প্রীতির বার্তা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ় করেছে। জন্মাষ্টমীর মতো উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে।