অন্যান্য খবর আইন-আদালত

নূরের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তির আশ্বাস দিল অন্তর্বর্তী সরকার

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ৩০-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০০৮

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করা হবে এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো প্রকার রেহাই দেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এই ধরনের সহিংসতা শুধু একজন রাজনীতিবিদকে আঘাত করে না, এটি আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ওপরও আঘাত আনে।"

সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, হামলার ঘটনায় কোনোরূপ প্রভাব বা পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে না থাকা সত্ত্বেও তদন্তের কাজ চলবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। "জড়িত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে," উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এছাড়া, নুরুল হক নূরের চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।

নুরুল হক নূরের সাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকার জানায়, "২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।" সরকার তার ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে প্রশংসা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, "আমাদের জনগণের সম্মিলিত শক্তি, গণতন্ত্র রক্ষায় এবং দেশের কল্যাণে প্রতিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে একত্রিত হতে হবে।"

এছাড়া, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। "যে কোনো ষড়যন্ত্র বা প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করা হবে এবং গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে," উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

এদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে, তবে সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।