সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা চেয়েছেন রিটকারী।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী এই রিটটি দায়ের করেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় জনস্বার্থে হস্তক্ষেপ জরুরি। একইসঙ্গে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী জানান, “প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। ভোলাগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে দিনের আলোয় পাথর লুট হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।”
প্রসঙ্গত, গত এক বছরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। ভোলাগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাতেও দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে পাথর লুট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন তৎপরতা চললেও কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের নীরবতা এবং প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড দিনে দিনে বিস্তার লাভ করছে।
এদিকে, হাইকোর্ট যদি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনা দেন, তাহলে ভোলাগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিযান জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।