Logo

ময়মনসিংহ ডিবির ওসি শাহ কামালের বিচক্ষণতায় ভুয়া এমপি গ্রেফতার !

অনিন্দ্যবাংলা
বুধবার, জুন ২৩, ২০২১
  • শেয়ার করুন

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক: চাকুরীর দেয়ার প্রলোভনে দীর্ঘদিন প্রতারণা শেষে অবশেষে ধরা পড়ল প্রতারক শুলশান আরা খানম (৪৪) ও তার সহযোগী এমপি পরিচয়দানকারী মোঃ জহির উদ্দিন বাবুল (৫৫)।

২৩ জুন বুধবার সকালে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ঢাকা ফকিরাপুল থেকে মোঃ জহির উদ্দিন বাবুল ও শুলশান আরা খানমকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করে।

 গুলশান আরা খানমের কাজ ছিল চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণা করা। তার টার্গেট গ্রুপ ছিল গ্রামের সহজ সরল মানুষ। তাদেরকে  ফাঁদে ফেলে আত্নীয়স্বজন ও ছেলে মেয়েদের চাকুরী দেয়ার কথা বলে সে ও তার সহযোগী হাতিয়ে নিত লক্ষ লক্ষ টাকা। চাকুরী প্রার্থী ভিকটিমদের কাছ থেকে তারা নগদ টাকাসহ ব্যাংকের খালি চেক নিত এবং পরবর্তীতে সেই চেকে ইচ্ছামত টাকার অংক বসিয়ে তাদেরকে হয়রানি এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করত।গ্রেফতারকালে গুলশান আরা খানম এর কাছ থেকে ৮ টি চেক উদ্ধার করা হয়।

প্রতারণার এই কাজে  গুলশান আরা খানমের একান্ত সহযোগী ছিল মোঃ জহির উদ্দিন বাবুল। জহির উদ্দিন বাবুল এর বাড়ী কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। সে নিজেকে সব জায়গায় ফোনের মাধ্যমে এমপি বলে পরিচয় দিত এবং পুলিশের কাছে তদবীর করত। ৩ বছর ধরে জহির উদ্দিন ফকিরাপুলের হোটেল সেন্টারে অবস্থান করে এভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছিল।

শুলশান আরা খানম ও জহির উদ্দিন বাবুলের প্রতারণার শিকার নজরুল ইসলাম জানান তার ভাতিজা ও ভাতিজেকে সেনাবাহিনীর সিভিলে চাকুরী দেয়ার কথা বলে গত জানুয়ারি মাসে ১৭ লক্ষ টাকার চুক্তি করে। নগদ ৬ লক্ষ টাকা এবং বাকী টাকার ৫ টি খালি চেক নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চাকুরী না দিয়ে উল্টো খালি চেকে ২০ লক্ষ টাকা বসিয়ে ভিকটিমদের নিকট উকিল নোট পাঠায়। এই বিষয়ে ভিকটিমরা পুলিশে অভিযোগ করলে সেটি তদন্ত করতে গিয়ে এই প্রতারকরা আটক হয়।

 পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক চক্র স্বীকার করে অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছে। প্রতারণার স্বীকার আফরোজা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানা অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতারকদের গ্রেফতারের বিষয়টি সর্বমহলে বিশেষ আলোচিত হয়েছে। খোদ এমপি সেজে প্রতারণা এটা চাট্টিখানি কথা নয়। তাও সেটা যেনো তেনো এমপি নয়! কখনও কখনও সে খোদ এইচ টি ইমাম বা মাঝে মাঝে সে এইচ টি ইমাম পুত্র বলে পরিচয় দিত। প্রতারক জহির উদ্দিন বাবুল তদবীর করার জন্য এমপি সেজে ডিবির অফিসেও ফোন দিয়ে ছিলো বলে জানা গেছে।

প্রতারণার স্বীকার আফরোজা আক্তার বলেন ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে না দেখলে এই প্রতারকদেরকে গ্রেফতার করা কোনভাবেই সম্ভব হত না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। অল্প সময়ে প্রতারক চক্রটি গ্রেফতার হওয়ায় তিনি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।