Logo

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশে বাধা, হামলায় আহত ১৫

অনিন্দ্যবাংলা
সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
  • শেয়ার করুন

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ডাইভারশন নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা সদরে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। মানববন্ধনে আগত নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের সাঘরদিঘী এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর তীরে ৯১ শতাংশ জমি দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদারের। ওই জমিতে এলাকার কয়েকটি দরিদ্র পরিবারকে বসবাসের জন্য দেন ঝুমা তালুকদার। সোমেশ্বরী নদীর ৩নং বালুঘাট থেকে বালু পরিবহনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে ডাইভারশন তৈরী করে ইজারাদার ঝুলন সাহা। এ নিয়ে এলাকায় বসবাসকারীদের সাথে ইজারাদারের দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে ইজারাদারের লোকজনের সাথে এলাকাবাসীর কয়েক দফা সংঘর্ষও হয়। গত শনিবার রাতে ঝুমা তালুকদারের সমর্থকের এক ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদারকে আসামি করা হয়। এরই প্রতিবাদে রোববার বিকেলে এলাকাবাসী মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ওইদিন বিকেলে সমাবেশে আসা দলীয় নেতাকর্মী ও ঝুমা তালুকদারের সমর্থকদের বিরিশিরি এলাকায় লাঠি ও রামদা নিয়ে বাধা প্রদান করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এতে ঝুমা তালুকদারের সমর্থক উপজেলার ইন্দ্রপুর গ্রামের আলম মিয়া, রুবেল মিয়া, আজিম উদ্দিন, রফিক মিয়া ও কৃষ্ণেরচর গ্রামের জসিম উদ্দিন আহত হয়। তাদেরকে মারপিট করে হামলাকারীরা। তাদেরকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুর্গাপুর উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রতিপক্ষের বাধার মূখে উপজেলা সদরের বাগিছাপাড়ায় ঝুমা তালুকদারের বাসার সামনে সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বার মো. চান মিয়া ফকির, সাবেক ইউপি মেম্বার ইয়াকুব আলী তালুকদার, সাবেক ইউপি মেম্বার শেখ মজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সমাবেশস্থল থেকে মিছিল বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। অন্যদিকে ইজারাদার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল হান্নান, গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, ইফতি আহমেদসহ অন্তত ৮জন আহত হয়। যুবলীগের সভাপতি আবদুল হান্নানের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারিকলিপি প্রদান করে।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বালুঘাটের ডাইভারশন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষ পাল্টপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।