Logo

ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ব্যাতিক্রমী কর্মকান্ড করোনা সচেতনতায় নজীর স্থাপন করেছে

অনিন্দ্যবাংলা
রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • শেয়ার করুন

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক : ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ গতানুগতিক আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একনিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নাগরিক সচেতনতায় তাদের ব্যাতিক্রমী কর্মকান্ড এখন শহ ছাড়িয়ে গ্রামে পৌছে গেছে।

সম্প্রতি করোনা মোকাবিলায় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ গ্রহণ করেছে সমন্বিত  সচেতনতা কর্মসূচি ও কার্যকরি ব্যবস্থা। করোনা ঠেকাতে ও 

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধে গ্রাম, গঞ্জ, শহরে যত্রতত্র অবাধ বিচরণ রোধে ময়মনসিংহে সফলতা অর্জন করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। এক্ষেত্রে প্রধান লক্ষ্য ছিলো বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কোরেন্টাইন রাখা। সরকারি ছুটি, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার রাজধানীর ঢাকা থেকে আগতদের অযথা বিচরণ বন্ধ রাখতে গ্রামগঞ্জে ছুটছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমনরোধে বিভাগীয় নগরের প্রতিটি অলিগলিতে নগরবাসীকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল দিয়ে আসছেন তারা। এ সময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়, করণীয় নিয়ে জনগনকে সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে মাইকিং করছেন পুলিশ সুপার নিজেই। 

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামানের নির্দেশে করোনা ভাইরাস সচেতনতায়  ডিবির ওসি শাহ কামালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম করোনা ভাইরাস নিয়ে সংক্রমণরোধে ১০ দিনের সরকারি ছুটির তৃতীয় দিন শনিবার ডিবি পুলিশ জেলা সদরের গ্রাম অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে (সদরের চর ঈশ্বরদিয়া,চর খরিচা, জয়বাংলা) জনগণ যাতে অযথা বিভিন্ন দোকানে আড্ডা না দেয় সেই বিষয়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিশ্চিতকরনে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বয়োবৃদ্ধ ভ্যান চালক, রিক্সা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

পাশাপাশি হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজার, ফুলপুর আমুয়াকান্দা বাজার, তারাকান্দা উঃ বাজারসহ পাশের গ্রাম অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বাজারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে করোনা সচেতনতায় জনসমাবেশ বা অধিকসংখ্যক মানুষ একত্রিত না হওয়া পরামর্শ প্রদান করেন। করোনা ভাইরাস থেকে আগাম সতর্কতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তাদেরকে আড্ডা ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠান এবং অটো চালকদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন।

গ্রামের জনগণকে সচেতন করতে দেয়া হচ্ছে ঘরে থাকার নির্দেশনা। একে অন্যের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। গ্রামেও নিয়ম অনুযায়ী নিত্য পণ্য ও ওষুধের দোকানগুলোতে দেয়া হচ্ছে দুরত্ব চিহ্ন। অযথা হাট বাজারে আড্ডা না দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোঁয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সচেতন ও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি দ্বিতীয় ফেইজ। এ ধাপে সফল হলেই করোনার আক্রমণ আমাদেরকে আর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবেনা।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় সংক্রমণ রুখতে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এরপরও নগরের কাশর বৌ বাজার এলাকায় একটি খেলার মাঠে প্রায় শতাধিক কিশোর, তরুণ খেলোয়াড়রা খেলা শুরু করলে প্রচুর দর্শক ভিড় করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একজন নাগরিক অবহিত করলে ডিবির ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ ভিড় ও জনসমাগম রোধে  সেখানে পুলিশ পাঠান। ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এসআই শরিফুল, এএসআই বাবুল খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে করোনা সংক্রমণের ঝুকিঁ বিষয়ে বুঝিয়ে বলেন এবং খেলা বন্ধ করে দিয়ে খেলোয়াড়দের অভিভাবকদের খুঁজে আনেন। ভবিষ্যতে এরকম জনসমাগম ও দলভিত্তিক খেলা না না খেলার জন্য পরামর্শ দেন। এসময় পুলিশ কর্মকর্তাগণ খেলোয়াড়দেরকে  চকলেট উপহার দিয়ে এসব কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহবান জানান। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় ডিবি পুলিশকে স্থানীয়রা অভিনন্দন জানিয়েছেন।