ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা চালু

98
অনিন্দ্যবাংলা ডেক্স : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দেয়ালে সাটনো একটি নোটিশবোর্ড হাসপাতালে আগত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নোটিশে তিনটি মোবাইল ফোনের কন্ট্রাক্ট নম্বর রয়েছে।

তিনটি নম্বর হলো : ০১৭৮৩৫৪৬০৬৭, ০১৩০৬৪৯৭০৯৫, ০১৩০৬৪৯৭০৯৬

এখন থেকে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা এই নম্বরগুলোতে হাসপাতালের সেবা কাজের অনিয়ম, সমস্যা সম্পর্কে অভিযোগ জানানো যাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডালক্ষ্মী নারায়ন মজুমদার।

ফিরে দেখা :

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমদের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ও নেতৃত্বে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

যাঁর চেষ্টা, পরিশ্রমে, ঘামে, কর্মদক্ষতা, দূরদর্শিতায়, নেতৃত্ব ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় (এক সময়ের গোচারণ ভূমিখ্যাত) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আজ কোটি মানুষের নিরাপদ সেবা ও চিকিৎসা প্রাপ্তির নির্ভরযোগ্য সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, তিনি আমাদের সবার প্রিয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ মহোদয়।

যাঁর নিরলস প্রচেষ্ঠা ও ত্যাগের ফলে আজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে মূল্যায়িত ও পুরষ্কিত হয়েছে; এই বিরল সফলতার জন্য ময়মনসিংহবাসীর পক্ষ থেকে নিরন্তর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন

তবে এই সফলতার পেছনের কাহিনী অনেক পরিশ্রমের, কষ্টের ও বেদনার। বলতে গেলে এই হাসপাতালের জন্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ মহোদয় তাঁর জীবনটাকে বিপন্ন ও সংকটাপন্ন করে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত বীর সেনাপতি এই মহান মানবিক মানুষটি শেষ বয়সে পরিবার পরিজনদের ছেড়ে এক দীর্ঘ লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছেন। এ লড়াই ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিটি মানুষের সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের লড়াই।
নিরবে নিভৃতে থাকা প্রচারবিমুখ এই সরল ও অতি পরিশ্রমী, আদর্শবান মানুষটি দেশ ও দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিলেন, ইচ্ছা, পরিশ্রম, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা থাকলে গো-ভাগারকেও স্বর্গপুরীতে পরিণত করা সম্ভব। তিনি কতিপয় সেবাকামী সহযোদ্ধাদের নিয়ে চিকিৎসা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, অদৃশ্য শত্রু ও মানুষকে গিনিপিগ বানানোর বিশাল চক্রের সাথে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন।

এত অনুকুল পরিবেশ, বৈরীতা ও গণশত্রুদের সাথে লড়াই করে করে সত্যিই তিনি আজ শ্রান্ত, ক্লান্ত যেনো। মাত্র দু বছরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সারা দেশের অনুকরণীয় মডেল হাসপাতাল হিসেবে নজীরবিহীন দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সরকারের উন্নয়ন নীতির বদলে দেয়ার মহাসড়কে সেবাখাতে আরেক মাইলফলক স্থাপন করে গেলেন।

আমরা ময়মনসিংহবাসীসহ দেশের সকল উন্নয়নকামী মানুষ আশা করি তাঁর এই ত্যাগ, সেবা, মানবতা, পরিশ্রম ও বিশাল সফলতার জন্য তাকেঁ আরো সম্মানজনক পদোন্নতি, স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ন স্থানে অধিষ্টিতসহ দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবক পুরষ্কার’ ২০১৮ ও জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত করা হোক।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ মহোদয়ের জন্য আজীবন শ্রদ্ধা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। তিনি যেনো সুস্থ থেকে সুন্দরভাবে দেশ ও জাতির জন্য নিরলসভাবে সেবা করে যেতে পারেন সেই কামনা করছি।

———-শেখ অনিন্দ্যমিন্টু

Image may contain: 1 person, beard and closeup
Image may contain: 7 people, people smiling, people standing, food and indoor
Image may contain: 3 people, indoor
Image may contain: 2 people, people sitting, table and indoor
Image may contain: 14 people, including Sujit Kumar Apu

মূল্যবোধের_২০১৯
ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দীন আহমেদ

প্রচলিত অর্থে আমি জ্ঞানী নই।অতি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। একা থাকি ৩ বছর ২ মাস ময়মনসিংহ সেনানিবাসের মেসে পদ্মা নামক কক্ষে।পরিবারের সুরক্ষায় ৫৫ থেকে ৫৭ এ তিন বছর ইট পাথরের বন্দী দেয়ালের বা ছাদের সাথে একাই সময় কাটাই।অভ্যস্থ হয়ে গেছি। উপলব্ধি করি কোন কিছুই জীবনের জন্য অপরিহার্য নয়।মানুষ বা সমপর্ক বা সম্পদ।ধীরে ধীরে মৃত্যু নামক অমোঘ নিয়তির দিকে এগুচ্ছি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমার প্রিয় প্রাংগন।আমি এর পরিচালক। ১ লা নভেম্বর ২০১৫ থেকে আজ পর্যন্ত কঠিন পরিশ্রম আল্লাহ বৃথা যেতে দেয় নি।কিছুটা হলেও ময়মনসিংহের অসাধারণ গরীব মানুষ গুলোর ভালবাসা দোয়া পেয়েছি।বদলে গেছে সব কিছু যেমন টি একটি হাসপাতালের জন্য হওয়া উচিৎ। আরো ভাল করার অবকাশ আছে।

এখানে থাকা,হাসপাতাল নিয়ে নিত্য নুতন স্বপ্ন দেখেই আমার সময় চলে যায়।কেন এটা সম্ভব হয়েছে।আমি আমার কাজ টা দায়িত্ব নিয়ে সঠিকভাবে করেছি,অন্যদের দোষারোপ করে দায়িত্ব এড়াতে চাই নি।ঘন ঘন ঢাকা যাই নি।মন্ত্রনালয় ও ডিজি অফিসে শুধু যোগদানের দিন গিয়েছিলাম। অনেক বাধা,বিপত্তি,অসন্মান সহ্য করেছি।চুড়ান্ত ভাবে নাগরিক বৃন্দ এবং ময়মনসিংহ বিভাগ বাসী নির্দ্বিধায় সমর্থন দিয়েছেন।এটাই ছিল আমার কাজ করার শক্তি। এরাই অসাধারণ জনগণ। আমি জনগণের উপর বিশ্বাস রেখেছি।উনারা প্রতিদান দিয়েছেন রাস্তায় স্বতস্ফূর্ত ভাবে নেমে।

আমি কেন এমন হলাম।পারিবারিক মূল্যবোধ এর কারনে। আমার বাবার কাছ থেকেই শিখেছি ভদ্রতা, সুআচরণ,দম্ভ না করা।তিনি শিক্ষা দিয়েছেন আমি যদি জীবনে ভাল করতে চাই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।তিনি পেশায় ডাক্তার (MBBS) ছিলেন।তিনি নিজ এলাকায় অনেক কিছু করেছেন পৈএিক সম্পত্তি বিক্রি করে।তিনি ৭০ থেকে ৭৫ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন।জাতির জনকের মৃত্যুর পর উনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না।উনি গাড়ি কিনতে পারেন নি।আমদের ঘরে খাট আসে ১৯৭৭ এ।সাদাকালো টিভি আসে ১৯৮২ সালে।উনি অধিকাংশ রোগী ফ্রি দেখতেন ২০ টাকা ভিজিট নিতেন।উনি কখনও আমাদের কে অপব্যায়ী হতে শিখান নি।তার জানাযায় লক্ষাদিক লোক হয়েছিল।আমি এখনও বাবার পরিচয়ে চলি।

আমার বাবা বলতেন কারো অনুকম্পা চাইবে না।যা চাইবে নিয়মের ভিতর থেকেই চাইবে।

আমি দীর্ঘ ৩০ বছর বাবার আদেশ মেনে চলছি।সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আনুগত্য করেছি এবং করব এবং বৈধ আদেশ পালন করে যাব।

আমি বংগভবনে যাই নি,ঢাকা সি এম এইচ এর কমান্ডান্ট থাকাকালীন সময়ে।বসুন্ধরা সিটিতে আজো যাই নি, যমুনা ফিউচার পার্কে যাই নি।

আমি আগেই বলেছি জীবনে অপরিহার্য বলে কিছু নেই। আমি জীবনে একজন ভাল প্রাক্টিসিং মুসুলমান হতে পারি নি।বাবার মত সৎ হতে পারি নি।কিন্তু একটা জিনিস সারাটা জীবন করেছি তা হলো অসহায় মানুষদের ভালবেসেছি এবং তাদের বিপদে পাশে থাকার চেস্টা করেছি।প্রশাসন চালাতে গিয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেছি।তাদের কাছে আমি অপ্রিয়। আপনি কখনি সবার প্রিয় হতে পারেন না।হলে আপনার মধ্যে সমস্যা আছে।

আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি বাংলাদেশ কে এবং এর পতাকাকে। শ্রদ্ধা করি তাদের কে যারা কোন প্রাপ্তির আশা ছাড়াই ১৯৭১ সালে আমাদের কে একটা স্বাধীন ভুখন্ড দিয়েছেন।

জীবনে সফলতা ও শান্তি তখনি পাবেন যখন সৃস্টিকর্তার উপর পূর্ন ভরসা করবেন এবং অসহায় মানুষদের জন্য কোন প্রাপ্তির আশা ছাড়াই আল্লাহর সন্তুস্টির জন্য কিছু করবেন।

শেষ কথা মানুষকে খারাপ ভাষায় গালি দিবেন না।পাপ কে ঘৃনা করুন।কারো ব্যক্তিজীবন নিয়ে রুচিহীন মন্তব্য করবেন না।এটা অনেক বড় পাপ।নিজকে বাংলাদেশের একজন নির্লোভ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলুন।বাংলাদেশের ইতিহাস জেনে বুঝে পড়ুন।

#আমার_নিবেদন

আমি আপনাদের এ শহরে ৩ বছর ৪ মাস কাটাচ্ছি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে জীবনের কঠিনতম কস্ট ও যন্ত্রনা সহ্য করেছি।একা একজন একটা ভোগবাদী ব্যবস্থা কে পরিবর্তন করতে পারে না।

ব্যাক্তিগত জীবনে আমি প্রচার বিমুখ। আত্মসন্মান বোধ প্রখর।দিন যত যাচ্ছে মানুষের আচরণ আমাকে কস্ট দিচ্ছে। এ মানুষগুলো আমার ক্যাম্পাসের মানুষ। এরা প্রতিদিনই কোন না কোন ভাবে আমাকে মানসিক ভাবে উৎপীড়ন করছে।

আমি ৫৭ বছরের ঘরে। ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনে এ ২০ বছর ভুগছি। ইদানীং চোখে ছানি পরেছে। পরিবার থেকে ৩ বছর ৪ মাস বিচ্ছিন্ন। একা সেনাবাহিনীর অফিসার মেসে থাকি। বৃদ্ধা মা ও দুই মেয়ের ডাক্তারি পরার কারনে স্ত্রী আসতে পারে না।

এটা সঠিক জীবন পদ্ধতি নয়। কিন্তু এটা আমার নিয়ন্ত্রণ এ নেই। আল্লাহর হক আদায় করি নি জীবনে। যতটুক হায়াত আছে ততটুকু আল্লাহর কাজে ব্যায় করতে চাই। দীর্ঘ ৩০ বছর চাকুরী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পরন্ত বেলায় উপলব্ধি করছি
নীতি আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ এ টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।

আমি এখন ক্লান্ত। জীবিকার প্রয়োজনে চাকুরী করছি। আমি ময়মনসিংহ বিভাগের অসাধারণ সাধারণ মানুষের ভালবাসার জন্য আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ। এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কারো সাথে বিতর্কে জড়াতে চাই না। তাই নিভৃতে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নিবিড় করতে চাই। ফেইসবুক এ আমি জনপ্রিয় বা স্টান্টবাজি করতে আসি নি। বিনোদনের ও কমিটমেন্ট এর জন্য থেকেছি।আপনাদের দোয়ায় আমার মত পাপী কে হয়তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।

বিনীত
নাসির উদ্দীন আহমেদ

………………………………………………………………………………………..

আমার কথা
শেখ অনিন্দ্যমিন্টু

প্রিয় স্যার
আপনার সঠিক কর্মপরিকল্পনা, আন্তরিক প্রচেষ্ঠা ও কায়িক পরিশ্রমে আমরা একটি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন সেবাবান্ধব হাসপাতাল পেলাম। এটা ধীরে ধীরে আপনি আরো সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

আপনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়া। আশা করি বাংলাদেশ সরকার আপনার মত অসাধারণ ভালোমানুষ, ক্রিয়েটিভ ইনোভেটর চেঞ্জমেকারদের সেবা কাজের জন্য সঠিক মূল্যায়ন ও বিশেষ সম্মানীয় পুরষ্কার প্রদান করে আপনার মত আরো নিবেদিত সেবালোক তৈরী হওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমাদের সবার আস্থা ও নির্ভরতার সেবাকেন্দ্র।

বি:দ্র: মাফ করবেন স্যার, জানি এই সেবা কাজের পেছনে আপনার কোন পুরষ্কার বা মোহ নেই। নিতান্ত দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা থেকেই সব কাজ করছেন। তবুও আমার মতে দেশের সেরা পুরষ্কার আপনাকেই দেয়া উচিত। না হলে দেশে সহজে আর কোন মানুষ সেবার জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিবে না।

প্রিয় ময়মনসিংহবাসী, আসুন সবাই মিলে স্যারের জন্য দোয়া করি তিনি যেনো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আমিন।

সবার জন্য চিকিৎসা, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য  ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও
ব্রিগেডিয়ার নাছির উদ্দিন আহমদ।
…………শেখ অনিন্দ্যমিন্টু

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এর পূর্ব নাম ছিলো লিটন মেডিকেল স্কুল। যেটা স্থাপিত হয়েছিলো ১৯২৪ সালে। ১৯৭২ সালে এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান ভবনগুলোতে স্থানান্তর করা হয়। শুরুতে এই হাসপাতাল ছিলো ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সাধ্যমত উচ্চ চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন চিকিৎসক তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিশাল জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটিকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করেন। ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধিত হয় হাসপাতালের সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর।

২০১০-২০১৪ সালের দিকে হাসপাতালটির সার্বিক পরিবেশে ধ্বস নামে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষুব্দ সংবাদ পরিবশেন করে। সার্বিক হাসপাতাল এর পরিবেশ ও পরিচালনার বিষয়টি খুব নাজুক হয়ে ওঠে। হাসপাতাল হয়ে উঠে দালাল নির্ভর। কিছু কর্মচারী হাসপাতালে লুটপাট ্ও নৈরাজ্য তৈরী করে। প্রদেয় স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরী হয়। প্রয়োজন দেখা দেয় হাসপাতালটিকে নতুন করে সংস্কার করার। ঠিক এই মুহুর্ত্বে কোটি মানুষের আশির্বাদ হিসেবে হাসপাতালের নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহন করেন ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দীন আহমেদ।

প্রথম মাসে তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করলেন। অধ্যাপক, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে, শুরু করেন সংস্কার ও উন্নয়ন যুদ্ধ।

বীরযোদ্ধা এই মহান মানুষটি দিনরাত অক্লান্ত পরশ্রিম করে মাত্র ৬ মাসের মধ্যই তিনি হাসপাতালের নৈরাজ্য ও লুটপাটের লাগাম টেনে ধরেন। খুব দ্রুত হাসপাতাল থেকে সকল দালাল ও চোর-বাটপাড়দের বিতাড়িত করেন এবং দূর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিলেন।

তিনি যোগদান করার পর হাসপাতালের সার্বিক নোংরা পরিবেশ দেখে মর্মাহত হলেন। জরুরী মিটিং ডেকে হাসপাতালের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার পদক্ষেপ নিলেন। সঠিকভাবে হাসপাতালটি চিহ্নিত করার জন্য লোকেশন ম্যাপ স্থাপন করলেন, ঝুলানো হলো, সিটিজেন চার্টার, সতর্কীকরণ ও অবহিতকরণ বোর্ড। বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হলো পোর্টেবল ডাস্টবিন।

হাসপাতাল এর ভেতর নিরাপত্তার বিষয়টি তার নজরে আসে। ফলে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে হাসপাতালের সকল অংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনেন। প্রশাসনিক এলাকার নিরাপত্থার জন্য চারিদিকে লাগোনা হলো গ্রিল। পরিচালক মহোদয়সহ মনিটরিং রুমে স্থাপন করা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে হাসপাতালের ভেতর চুরি, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপকর্ম শুণ্যের কোঠায় চলে এসেছে।

হাসপাতালে সরবরাহকৃত খাবার নিয়ে ছিলো সবচেয়ে বেশী অভিযোগ। তিনি খাবারের বিষয়টি পর্যবেক্ষন করে পূর্বের নিম্নমানের খাবার বাতিল করে উন্নতমানের খাবার প্রদান নিশ্চিত করেন। এই কল্পে তিনি পুরাতন খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানক বাদ দেন এবং রান্নাঘর সহ সকল স্থানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে আধুনিক টাইলসসহ তরিতরকারী, মাছ-মাংশ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ সরবরাহ করেন। সরবরাহকৃত খাদ্য নিয়মিত পরীক্ষার জন্য তৈরী করেন খাদ্য পর্যবেক্ষণ কমিটি। এখন নিয়মিত সকাল বিকাল খাদ্য পরীক্ষা করা হয়।

হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্য শৃংখলার অভাববোধ করেন। তিনি আরো লক্ষ্য করেন যে, রোগী, এটেডেন্স, হাসপাতালের কর্মচারী আর কারা বহিরাগত তাদের সনাক্ত করা ছিলো খুব কষ্টের বিষয়। তিনি এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য কর্মচারীদের জন্য পদানুযায়ী পোষাক ও ব্যাচের ব্যবস্থা করলেন। এখন পোষাক দেখেই বলে দেয়া যায় তিনি কোন শ্রেণীর কর্মচারী।

ওষধ চুরি, ওষধ প্রদানে অনিয়ম এসব ছিলো নিত্যদিনের সমস্যা। বিশেষ করে ওষধের অনিয়ম নিয়ে রোগীরা ছিলো রীতিমত বিক্ষুব্দ। তিনি রোগীদের সকল ঔষুধ হাসপাতাল হতে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। জরুরী প্রয়োজনে যেসব ওষধ হাসপপাতালে সরবরাহ নেই তিনি তা বাইরে থেকে কিনে এনে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

ডাক্তার সহ সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যথেষ্ঠ উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত করেন। হাসপাতালে, ভর্তিকৃত অতিরিক্ত রোগীদের বিছানা সরবরাহ করেন।

বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ ও আইসিইউ বিভাগ দুটো বাংলাদেশে অনুকরণীয় মডেল হলেও একসময় এগুলো নিয়ে ছিলো অনেক অভিযোগ। তিনি একটি আধুনিক সিসিইউ তৈরী করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেন। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে মাত্র ৬মাসের মধ্যই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করে এই ইউনিটটিকে ঢেলে সাজাতে সক্ষম হন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভালো সেবাদাতা দুটো বিভাগ হলো আইসিইউ ও সিসিইউ বিভাগ। এগুলোর আরো উন্নতির জন্য তিনি এখনও লড়াই করে যাচ্ছেন।

নিউরো সার্জারী বিভাগে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে নতুন ওয়ার্ড হিসাবে সেবাদান চালু করেন।

কার্ডিওলজী বিভাগ, রেডিওলজী বিভাগে ইকোকার্ডিওগ্রাম, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন সররাহ করে প্রতিদিন পূর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুন রোগীকে সেবা প্রদান করার ব্যবস্থা করেন। দন্ত বিভাগে ১৬টি নতুন বেড কিনে দেন। আউটডোর রোগীদের বসার স্থান ও আলাদা পুরুষ, শিশু, মহিলা দন্ড বিভাগে কাউন্টার করেন। দিকেই পুরাতন একটি লিফট এ রোগী সহ কয়েকজন লোক আটকা পড়লে পরিচালক মহোদয় জীবন বাজী রেখে রোগীকে উদ্ধার করেন এবং গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত সকল পুরাতন স্থাপনাকে মেরামত করার জন্য লিখিতভাবে অবহিত করেন।

বর্তমানে বিভাগীয় জেলা ময়মনসিংহ ১৩টি উপজেলা ও ১টি থানা নিয়ে গঠিত এবং ৪টি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত যায় জনসংখ্যা প্রায় আড়াউ কোটি। এই বিপুল জনসংখ্যার চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল হিসাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি অবস্থিত। মানুষ বেড়েছে, মানুষেরও সচেতনতা বেড়েছে চাহিদা বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি হাসপাতালটির ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগউপযোগী প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সরবরাহ। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে এই বিপুল জনসংখ্যাকে সেবাদানে হাসপাতালকে ডিজিটালাইজড করার জন্য বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে। আউটডোর অটোমেশন সহ ইনডোর অটোমেশন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য স্থাপন করেছেন আনসার ক্যাম্প সহ বিভিন্ন সিকিরিউটি ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, সবেমাত্র হাসপাতালের উন্নয়ন শুরু। সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে সেবাদানের জন্য এই হাসপাতালে আরো অনেক কাজ করতে হবে, এই হাসপাতালে এখন প্রতিদিন গড়ে ৮০০০ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের ৫৪ বছর পুরাতন ভবনগুলির ৪টিতে ফাটল ধরেছে এবং প্রচুর রোগীর অবস্থান নিতে হচ্ছে খুব অল্প জায়গায় । চিকিৎসক, নার্স, আয়া, নিরাপত্তাপ্রহরীসহ হাসপাতালে রয়েছে প্রচুর জনসংকট। রয়েছে ওষধসহ অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সমস্যা। যেমন, হাসপাতালটিতে কোন ডায়ালাইসিস মেশিন নেই, হৃদরোগীদের জন্য নেই ক্যাথল্যব।

বর্তমান সরকার জনগনকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য বদ্ধ পরিকর। সেই লক্ষ্যে বর্তমান পরিচালক সরকারের বিভিন্ন মহলে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি, উন্নয়ন ও বরাদ্ধের জন্য বারবার চিঠি দিয়েও কোন সাড়া পাননি। এখন পর্যন্ত গণপূর্ত বিভাগে কোন বরাদ্ধ নেই বলে জানিয়েছে এবং হাসপাতাল ও ঔষুধ সরবাহের বাজেট স্বল্পতাসহ সকল যন্ত্রপাতির অভাবে জনগণের কাঙ্খিত আশা পূরণ করতে পারছেনা।