Logo

ময়মনসিংহ সদর ভূমি অফিস আরো জনবান্ধব হচ্ছে

অনিন্দ্যবাংলা
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০
  • শেয়ার করুন

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক :  ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন ঝামেলা থেকে থেকে অনেকাংশেই মুক্ত হয়ে আসছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি অফিস, পাশাপাশি এটি আরো জনবান্ধব অফিসে পরিণত হচ্ছে। উপজেলা ভূমি  সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) সুরাইয়া আক্তারের দক্ষ  অবস্থান ও  ব্যবস্থাপনায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা অরেক সেবাগ্রহীতা।

সুরাইয়া আক্তার এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ, নামজারি, খারিজ খতিয়ান, বিবিধ মামলাসহ যে কোনো ক্ষেত্রে সার্ভেয়ার ও কানুনঘোরসহ তার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ করছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত সেবায় হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত কম হচ্ছেন।

উপজেলার ঈশ্বরদিয়া থেকে সেবা নিতে আসা আলী হোসেন জানান, ‘তিনি একটি জমির সূচী সংশোধনের জন্য অনেকদিন ঘুরছিলেন, বিভিন্ন ডেস্কে ফাইল আনা-নেয়া সহ অনেক ঝামেলা হয়েছে। ফলে তিনি সরাসরি এসিল্যান্ডের দ্বারস্থ হয়েছেন। এসিল্যান্ড সুরাইয়া আকতার আলী হোসেনের মুখে  বিষয়টি শুনে, কাগজপত্র যাচাই করে দ্রুত সুচী সংশধোনের জন্য আদেশ দেন। ফলে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান জটিলাতার সমাধান হয়।

এ বিষয়ে সুরাইয়া আক্তার ওপেন টিভি ও অনিন্দ্যবাংলাকে জানান, প্রতিমাসে প্রায় শতাধিক মামলার আবেদন আসে। এর মধ্যে দু’চারটি আপিল বিভাগে যায়, বাকিগুলোতেই বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষকেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে আনা সম্ভব হয়। এছাড়া অনেক মামলাতেই বাদী-বিবাদীকে আপোষ মিমাংসায় যাওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হয়ে থাকে। এতে করে উচ্চ আদালতে ভূমি সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমে গিয়ে ভূমি অফিসের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। সরকারি হিসেবে মতে নামজারি ও খারিজ আবেদন পরবর্তী ভূমি নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলে ২১-৩০ কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহক তার কাজ বুঝে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রবাসী গ্রাহকদের জন্যে জরুরি ভিত্তিতে ১০ দিনেরও কম সময়ে খারিজ মামলা নিষ্পত্তি করা যায়।

তিনি বলেন, ‘কোনো গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকা কিংবা ভালো রাখার সুবাদে আবেদনের ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে কোন কাজ করি না। প্রতিটি কাজের আবেদন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সকল কার্যক্রমের রেকর্ড অনলাইনে থাকে। তাই ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা চাইলেও আগের কাজ পরে, পরের কাজ আগে করার তেমন কোন সুযোগ নেই। তাই গ্রাহকগণ সরকারি নির্ধারিত সময় কিংবা তার পূর্বে কাংখিত সেবাটি পেয়ে থাকেন।

অনলাইনে ভূমি সংক্রান্ত সেবা শতভাগ প্রদানে এগিয়ে থাকা সম্ভাবনাময় এ ভূমি অফিসে জনবলের একাধিক সমস্যা রয়েছে। এতে ৭জন অফিস সহকারীর পদ থাকলেও কাজ করছে ২ জন। ইউনিয়ন পর্যায়েও জনবল সংকট রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নগুলোতে সার্ভার প্রবলেম, ব্রডব্যান্ড সেবা ও কিছু ইউনিয়নে গ্রামীণের নেটওয়ার্ক পর্যাপ্ত না থাকায় অনলাইনে কাজ করতে কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

এসব বিষয়ে সহকারী ভুমি কমিশনার আরো জানান, ‘ভূমি অফিসের নামজারি ও খারিজ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনলাইনে আসাতে এখন আর কাউকে হাতে খতিয়ান লিখে দিতে হয় না। সকল গ্রাহক কম্পিউটারে টাইপ খতিয়ানের প্রিন্ট কপি নিতে পারছেন। আগে সর্বনিম্ব ৪৫ কর্মদিসবসে গ্রাহক সেবা দেয়া হতো। এখন অনলাইনে কার্যক্রম হওয়াতে ২১ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে গ্রাহক সেবা দেয়া যাচ্ছে।

সাব রেজিস্ট্রি অফিসগুলো পুরোপুরি অনলাইনের আওতায় না আসায় দলিলের তথ্যাদি অনলাইনে এখনো আসেনি। গ্রাহক সাধারণত ভূমি অফিসে সেবার আবেদন করতে গিয়ে দলিলের ফটোকপি ব্যবহার করেন। তাই অনেক দলিলের ফটোকপি আমরা সত্যায়ন করতে গেলে মূল দলিল দেখতে হয়। এতে গ্রাহক মূল দলিল দেখাতে গিয়ে কিছুটা সময় ব্যয়ের পাশাপাশি  নানা ভোগান্তিতেও পড়েন । তখন আমাদেরকে সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পর্কে তথ্য চেয়ে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চিঠি প্রেরণ করতে হয়। তাঁরা এটি যাচাই বাছাই করে আমাদের কাছে পাঠাতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হয়। এতে করে ভূমি সংক্রান্ত বিবিধ মামলা নিষ্পত্তি করতে সময় বেশি লেগে যায়। তাই খতিয়ানের মতো দলিলগুলোরও রেকর্ড অনলাইনে থাকলে ভূমি সংক্রান্ত মামলা আরো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

ভূমি জটিলতা নিরোসনে আরো নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, আশা করছি সেবাগ্রহীতাদের আর কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।

করোনা সংকটে সেবাদানে কোন সমস্যা হচ্চে কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এখন কেমন কোন সমস্যা নেই। আমরা নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দুরত্ব বজার রেখেই সেবা দিচ্ছি।