সকল খবর বিদেশের খবর

চুক্তিহীন বৈঠক শেষে ট্রাম্প-পুতিনের ‘ঐতিহাসিক করমর্দন’

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৬-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৩৬

আলাস্কায় মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং হাসিমুখে করমর্দনের মধ্য দিয়ে একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি হলেও বৈঠক শেষ হতে না হতেই তা মিলিয়ে যায়।

তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা ‘অগ্রগতির’ কথা বললেও কেউই নির্দিষ্ট করে কোনো অর্জনের কথা জানাননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে বড় কিছু অর্জিত হয়নি। আলোচনা চলবে।” তবে ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতির আশায় এই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন, তার বাস্তব প্রতিফলন বৈঠক শেষে দেখা যায়নি।

বৈঠক শেষে পুতিন বলেন, “পরেরবার দেখা হবে মস্কোয়।” ট্রাম্পও ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই আবার তারা সাক্ষাৎ করবেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ কিংবা কোনো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা হয়নি। অথচ পূর্বে ট্রাম্প এমন একটি বৈঠকের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

বৈঠকের সময়কালে এলমেনডর্ফ বিমানঘাঁটিতে যখন ট্রাম্প পুতিনকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন, তখনই ইউক্রেনে রুশ হামলার সতর্কতায় সাইরেন বেজে ওঠে। এপি জানায়, এটিকে বিশ্লেষকরা পুতিনের এক ধরনের ‘বার্তা’ হিসেবেই দেখছেন—যে তিনি এখনো আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছেন।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে করমর্দনের মুহূর্তকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেওয়া হয়। বৈঠকস্থলে যাওয়ার সময় ট্রাম্পের লিমোজিনে পুতিনের উপস্থিতি, এবং তার আত্মবিশ্বাসী অঙ্গভঙ্গি বিশ্ব কূটনীতিতে রাশিয়ার পুনরাগমনের বার্তা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

প্রাথমিকভাবে হোয়াইট হাউস জানালেও বৈঠকে দুই নেতার একান্ত আলাপ হবে, পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সহকারীসহ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এনপিআর-এর একটি সূত্র জানায়, এই পরিবর্তন একেবারে শেষ মুহূর্তে হয় এবং এর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের দেশে ফেরার সময় লিমোজিনের জানালা দিয়ে উঁকি দেওয়া পুতিনের হাসিমাখা মুখই যেন বলছিল—চুক্তি না হলেও কূটনৈতিক মঞ্চে তিনি জয়ী। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর যিনি ছিলেন একঘরে, তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সম্মান পেয়েছেন, যা রাশিয়ার জন্য এক ধরনের বিজয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এপি, সিএনএন, এনপিআর