সকল খবর ভূমি বিষয়ক খবর

দলিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন: বাড়ছে স্বচ্ছতা, কমবে হয়রানি

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৩-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৫২

২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে দেশের দলিল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সারা দেশে একযোগে দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এতে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে দলিল রেজিস্ট্রেশনের আগে ও পরে বেশ কিছু আইনগত ও প্রক্রিয়াগত শর্ত মানা বাধ্যতামূলক। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলিল যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে, যাতে ভুয়া দলিল, ভুল খতিয়ান বা অবৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর ঠেকানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে দলিল বাতিল বা মালিকানা জটিলতার অন্যতম কারণ ছিল:

ভুল বা জাল খতিয়ান ব্যবহার,
প্রকৃত মালিকের সম্মতি ছাড়া জমি বিক্রি,
পৈতৃক সম্পত্তি হস্তান্তরে সব ওয়ারিশের সম্মতি না থাকা,
জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ বা মালিকানা সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রদান,
স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদানে অনিয়ম,
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সাক্ষীর অনুপস্থিতি।

নতুন ব্যবস্থায় এসব ঝুঁকি এড়াতে সরকারিভাবে অনুমোদিত আইনজীবী ও সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে হালনাগাদ খতিয়ান সংগ্রহ করাও আবশ্যক। দলিলে জমির মালিকের মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করা হলে, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সময়সূচি ও অগ্রগতির তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে।

এছাড়া, কিছু জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন স্থগিত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে:
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমি,
রেভিনিউ স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত জমি,
খাস খতিয়ানভুক্ত জমি,
সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা,
কৃষিজমি যা অন্য কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব নিষিদ্ধ এলাকা সংক্রান্ত তথ্য জমির খতিয়ান ও ম্যাপে উল্লেখ থাকবে, যা সহজেই যাচাই করা যাবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যেই দলিল সংক্রান্ত হয়রানি কমাতে, জমির প্রকৃত মালিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দলিল রেজিস্ট্রেশনের আগে আইনগত সবদিক যাচাই না করলে ভবিষ্যতে দলিল বাতিল হতে পারে এবং জমির মালিকানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই জমি কেনাবেচায় সাবধানতা ও আইনি পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।