সকল খবর দেশের খবর

এইচএসসির ফল বিপর্যয়: পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম!

স্টাফ রিপোর্টার; অনিন্দ্যবাংলা।।

প্রকাশ : ৩১-১০-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৯৩

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩২ হাজার ৯২ জন, যা প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাকেন্দ্র এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। এর মধ্যে ১২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।


মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য-

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম। এ বিভাগে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। অন্যদিকে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন। সব মিলিয়ে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।


নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।


এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ-

গত বছর পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ১৭৬ জন। চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩২ হাজার ৯২ জন।

২০২৫ সালের প্রাথমিক ফলে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পরে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর আরও ৩ হাজার ৭৯ জনের ফল পরিবর্তিত হয়ে জিপিএ-৫ হয়। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২ হাজার ১৭৬ জনে।


ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষামন্ত্রীর-

এবারের ফলাফলকে সন্তোষজনক মনে করছেন না শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার সচিবালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে যে ঘাটতি ছিল, তা এবারের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিখনপদ্ধতিতে ঘাটতি রয়েছে। সামগ্রিকভাবে কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা পুনর্নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। প্রকাশিত ফলে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা পুনর্মূল্যায়নের পর বোঝা যাবে।


আগামী দিনে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে পরীক্ষা গ্রহণ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়। কাউকে যেন অবমূল্যায়ন করা না হয়।


পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই-

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।


এবারের ফলাফল দেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার শিখনপদ্ধতি, পাঠদান, পরীক্ষা প্রস্তুতি ও মূল্যায়নব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের নিম্ন পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির বড় ধরনের পতন শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।


সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে পরীক্ষায় নিবন্ধিত, অংশগ্রহণকারী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে শিক্ষা বোর্ডের মূল ফলাফল বিবরণীর সঙ্গে সংখ্যাগুলো মিলিয়ে নেওয়া উচিত।