শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে খেলার মাঠে চলমান শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং বিক্ষোভ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, স্কুলের খেলার মাঠ সংকুচিত করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের ভেতরে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য পূর্ব থেকেই একটি নির্ধারিত স্থান ও ভিত্তিপ্রস্তর রয়েছে। কিন্তু সেই স্থান ব্যবহার না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে মাঠের ভেতরের একটি অংশে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ জানান।
স্কুলের সাবেক শিক্ষক তাপস কুমারসহ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, তারা একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত স্থানে শহীদ মিনার নির্মাণের অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সেই আপত্তি উপেক্ষা করে মাঠের অংশে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
শনিবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কাজ বন্ধের দাবি জানায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, “এই মাঠ আমাদের আবেগ ও স্মৃতির অংশ। ছোটবেলা থেকে আমরা এখানে খেলাধুলা করে বড় হয়েছি। এখন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে মাঠের জায়গা নষ্ট করা হলে তা আমরা মেনে নেব না।”
তারা আরও বলেন, তারা শহীদ মিনারের বিরোধী নন; বরং যথাযথ সম্মান ও পরিকল্পনার মাধ্যমে শহীদ মিনার নির্মাণের পক্ষে। তবে খেলার মাঠ সংকুচিত করে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণের ঘোর বিরোধিতা করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্কুলের মাঠের জায়গা দখল করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হবে। পাশাপাশি নিকটবর্তী ঐতিহাসিক স্থাপনা আলেকজান্ড্রা ক্যাসেল এর নান্দনিক সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে মাঠের ভেতরে নির্মাণকাজ বন্ধ করে পূর্বনির্ধারিত স্থানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।