ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় প্রাণ গেল কলেজ শিক্ষার্থীর: আদালতে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৬)। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই কিশোর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে শাওন ও তাঁর এক বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে যান। সেখানে একদল কিশোর তাঁদের গতিরোধ করে এবং জেরা শুরু করে। কিশোর দলটি তাঁদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করে মারধর শুরু করলে দুই বন্ধু প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। শাওনের বন্ধুর কাছে স্মার্টফোন থাকলেও শাওনের কাছে ছিল সাধারণ একটি বাটন ফোন।
নদে ঝাঁপ ও করুণ মৃত্যু
পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে শাওনের বন্ধু সাঁতরে নদী পার হতে পারলেও বিপদে পড়েন শাওন। তিনি সাঁতার জানতেন না। কিশোর দলটির সদস্যরা ধাওয়া করলে নিরুপায় হয়ে নদে ঝাঁপ দেন তিনি। নদ খননের ফলে পানি গভীর থাকায় শাওন মুহূর্তেই তলিয়ে যেতে থাকেন। জবানবন্দিতে এক কিশোর জানায়, শাওনকে তলিয়ে যেতে দেখেও তারা উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি, বরং ভয়ে সবাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে শুক্রবার রাতেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেফতার
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোট ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে, যাদের বয়স ১৪ ও ১৫ বছর। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল
"গ্রেফতারকৃতরা দলিত সম্প্রদায়ের শিশু এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে সবাইকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।"
নিহত নূরুল্লাহ শাওনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।