নিহত সোনিয়া আক্তার পিংকি (৩০) মোহনগঞ্জ উপজেলার মামুদপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে এবং খালিয়াজুরির বোয়ালি এলাকার রোমান শেখের স্ত্রী। তিনি মামুদপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পিংকির সঙ্গে রোমান শেখের বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে মায়ান রয়েছে। রোমান ঢাকায় চাকরি করেন। রমজান উপলক্ষে স্কুল বন্ধ থাকায় পিংকি ছেলে ও ছোট ভাই রিয়াদ হাসান (১৯)কে নিয়ে ঢাকায় স্বামীর বাসায় আসেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরি প্রস্তুতের সময় পিংকি গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে আগে থেকে লিক হওয়া গ্যাসে পুরো ঘর ভরে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণধর্মী আগুন ধরে যায়। এতে ঘরে থাকা চারজনই দগ্ধ হন।
আশপাশের লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিংকিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রোমান শেখ (৩৭), শিশু মায়ান (৩) ও রিয়াদ হাসান বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “সোনিয়া জান্নাত একজন মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষিকা ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় কক্ষে জমে ছিল। চুলায় আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
বিকেলে পিংকির মরদেহ মোহনগঞ্জের মামুদপুর গ্রামে নিয়ে গিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।