বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রযুক্তি ও গবেষণা

টেলিটকের ফোরজি সম্প্রসারণ প্রকল্প !

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৫-৩-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৩৭

জনগণকে আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফোরজি মোবাইল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে চীন ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে (জিটুজি) দুই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীন, আর নয়শ কোটি টাকার বেশি অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ। তবে প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা প্রকল্পের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।  

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে টেলিটক এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, ৩০ লাখ ইউএস ডলার টেন্ডার সিকিউরিটি জমা দেওয়া এবং শুধুমাত্র একক পণ্য প্রস্তাব করার বিধান। এছাড়া দরপত্র প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।  

তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সিপিটিছড এবং ইআরডি (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) উভয়ই বলছে, টেলিটক যদি দরপত্রের শর্তাবলিতে কোনো পরিবর্তন চায়, তাহলে সেটা তাদের এখতিয়ার। ইআরডি চীন সরকারের সাথে আলোচনা করে সমাধান চাইবে।  

প্রযুক্তি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম ভঙ্গের কারণে সীমিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় আগে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলো আবার অংশ নিলে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া, এই সীমিত দরপত্র প্রক্রিয়াটি একটি সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  

অংশীজন ও বিশ্লেষকদের মতে, এই বড় বাজেটের প্রকল্পের সার্থকতা নিশ্চিত করতে দরপত্রে আরও যোগ্য ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় গেলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।  

টেলিটকের এই প্রকল্প দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক টেলিযোগাযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সম্ভাব্য সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এর সফল বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া।