সকল খবর দেশের খবর

দেশের সব জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ২১-৮-২০২৫ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০৪২

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সব জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নতুন ‘ফিটলিস্ট’ তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে।

সূত্র জানায়, এই নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, বিতর্কিত অতীত বা গোপন তথ্য বিবেচনায় আনা হবে না। বরং যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সততার ভিত্তিতেই নতুন ডিসি নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।

সিলেটে নিয়োগ পেয়েছেন আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম

এরই মধ্যে সিলেট জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের আলোচিত কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। তিনি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত।

ফিটলিস্ট তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ

নতুন ডিসি নিয়োগের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে ফিটলিস্ট প্রস্তুতের কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছয় ধাপে ২৫তম ও ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।

বর্তমানে মাঠ প্রশাসনে ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১২ জন কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে ২৪তম ব্যাচের ২১ জন সম্প্রতি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেলেও এখনও মাঠ থেকে তাদের প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিতর্কের পুনরাবৃত্তি নয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার আগের মতো বিতর্কিত নিয়োগ যেন না হয়, সে জন্য বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ৬১টি জেলায় ডিসি নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা, মারামারি ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বঞ্চিত দাবি করে বিক্ষোভে নামেন। এবার সে ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ‘ক্লিন প্রক্রিয়া’ বজায় রাখার নীতিতে অটল।

প্রশাসনে অস্থিরতা ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ

শুধু ডিসি নয়, বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদ শূন্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা আনছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অবসরে যাওয়া সাবেক কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রশাসনের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ুবিগত এক দশক আগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বর্তমানে চলমান ডিজিটাল প্রশাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না, ফলে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।”

জনপ্রশাসনের ব্যাখ্যা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) মো. এরফানুল হক বলেন, ুডিসি নিয়োগের বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন। জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুতই এই নিয়োগ দেওয়া হবে।”

সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমান জানান, ুডিসি ফিটলিস্ট থেকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে আমরা এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে চাই, যাদের নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মত

সাবেক সচিব ও প্রশাসন বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ুবর্তমান প্রশাসনের দুর্বলতা স্পষ্ট। সময় থাকতে সরকারকে দক্ষ ও সৎ আমলাদের দিয়ে প্রশাসনের হাল ধরতে হবে। নতুবা নির্বাচনপূর্ব সময়ে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, ুএকটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও স্বচ্ছ আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। এখনো সময় আছে—ডিসি, সচিব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে হবে।”

ডিসি নিয়োগে সিদ্ধান্ত দিচ্ছে বিশেষ কমিটি

ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্ম সচিব এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব। তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন সব গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে।

সরকার আশা করছে, এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া মাঠ প্রশাসনে নতুন গতি আনবে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রস্তুতির একটি শক্ত ভিত তৈরি হবে।