বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল আলম মাসুদ, যাকে সাধারণত
এস আলম নামে পরিচিত, অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্য বিশ্বের কোনও আদালতেই জয়ী হতে
পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা।
এস আলম, যিনি
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা লুট করে পাচার করেছেন,
বর্তমানে নিজেকে সিঙ্গাপুরের
নাগরিক হিসেবে দাবি করছেন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার হুমকি
দিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এস আলমকে সিঙ্গাপুরের আইনের আওতায়
মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
২০২২ সালের ১০ অক্টোবর, এস আলম তার পরিবারের
সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের পাসপোর্ট প্রত্যাহার করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব
গ্রহণ করেন। একইদিন তিনি এবং তার পরিবার বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের জন্য
পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল (পিআর) অনুমোদন পান। এস আলম বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক, যার মধ্যে শপিং মল, হোটেল এবং রিটেইল স্পেস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুরের আইনে দুর্নীতির জন্য মৃত্যুদণ্ডের
বিধান রয়েছে এবং যদি সরকার শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তার
নাগরিকত্ব বাতিল করে তাকে বাংলাদেশের আদালতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা
সম্ভব। তবে, এই লড়াইয়ে রাষ্ট্রকেও প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এস আলমের বিপুল
ক্ষমতা এবং আর্থিক প্রভাব রয়েছে, যা মোকাবেলা করা কঠিন হতে পারে।
এছাড়া,
এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ
ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে ১৮টি গোপন কোম্পানি খুলেছেন এবং তার লুট করা অর্থ
সেখানেই পাচার করেছেন।