ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ ময়মনসিংহ জেলায় স্পষ্টভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে বিএনপি। জেলার ১৩টি উপজেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে একটি করে আসন পেয়েছে ১১ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, আর একটি আসনে জয় পেয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতেই ময়মনসিংহের সব কটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরকারি ফলাফলের কপি গ্রহণ করেন।
হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ–১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হন। এখানে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল এক লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পান এক লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
ফুলপুর–তারাকান্দা (ময়মনসিংহ–২) আসনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ। দলটির প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৪৪ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ–৩) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭৪ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫১৩ ভোট।জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ময়মনসিংহ–৪ (সদর)–এ বিএনপির প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ এক লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কামরুল আহসান এমরুল পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ–৫) আসনে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু এক লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন এক লাখ ৮৭৬ ভোট।
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ–৬) আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা পেয়েছেন ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ–৭) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ৯৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের আসাদুজ্জামান সোহেল পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট।
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ–৮) আসনে বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এক লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট।নান্দাইল (ময়মনসিংহ–৯) আসনে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী এ কে এম আনোয়ারুল হক চাঁন পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ–১০) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪২৪ ভোট।
সবশেষে ভালুকা (ময়মনসিংহ–১১) আসনে বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এক লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।
সার্বিকভাবে ময়মনসিংহে এই ফলাফল বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বিএনপির এই সাফল্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।