সকল খবর দেশের খবর

নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনায় উত্তাল বিভিন্ন জেলা, সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ১৩-২-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০১২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ শেষে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ এলাকায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সবচেয়ে বেশি সহিংসতার খবর এসেছে বাগেরহাট থেকে। নির্বাচন-পরবর্তী হামলা ও সংঘর্ষে বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ৩৫ জন আহত হন। এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে বিএনপি ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩ জন।

নাটোরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২ জন আহত হন এবং একজনকে আটক করে পুলিশ।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চাঁদপুর–৪ আসনে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে চার দফা হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাটে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন।
এদিকে শরীয়তপুর–১ আসনে পরাজিত প্রার্থী জালালুদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়ে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা আতঙ্কে রয়েছেন এবং কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জে বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের আওতাধীন বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর গ্রামে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ও পরাজিত বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা–র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. রাশিদ শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুম খান। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শহীদুল্লাহ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।

অন্যদিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন উজ্জ্বল হোসেন, মাসুদ রানা ও জুয়েল রানা। গুরুতর আহত উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্য দুজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহতদের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা–র পক্ষে কাজ করায় তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। গাংনী উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের প্রধান মাহাবুব বলেন, নির্বাচন শেষে বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উল্লেখ্য, মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নির্বাচিত হন, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।