সকল খবর দেশের খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরমে: সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের সাতটি পরিণতি

অনিন্দ্যবাংলা ডেস্ক:

প্রকাশ : ২৯-১-২০২৬ ইং | নিউজটি দেখেছেনঃ ৫০১০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা চরমে: সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের সাতটি পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলা শুরু হতে পারে-এমন আশঙ্কা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে ধারণা থাকলেও এর পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির বিশ্লেষণে সম্ভাব্য সাতটি পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম সম্ভাবনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, বাসিজ বাহিনী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে সীমিত ও নির্দিষ্ট হামলা চালাতে পারে। এতে বর্তমান শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে, যদিও অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন।

দ্বিতীয় সম্ভাবনায় বলা হয়েছে, তীব্র হামলার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে, তবে নীতিগতভাবে কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হতে পারে। এর মধ্যে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সংযম এবং অভ্যন্তরীণ দমননীতি শিথিল করার বিষয় থাকতে পারে।

তৃতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পর সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগে একটি কঠোর সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে। নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী থাকায় আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চতুর্থ সম্ভাবনায় বলা হয়েছে, ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি-বিশেষ করে বাহরাইন ও কাতারের ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পঞ্চম সম্ভাবনায় হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন পেতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথেই পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ষষ্ঠ সম্ভাবনায় ইরানের ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ কৌশলের মাধ্যমে ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌকা ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে।

সপ্তম ও সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কা হলো, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইরান গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। কুর্দি ও বালুচিসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তা বড় মানবিক সংকট ও শরণার্থী সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই ইরানের বর্তমান শাসনের পতন দেখতে আগ্রহী হলেও প্রায় সাড়ে নয় কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি অরাজকতায় নিমজ্জিত হোক-তা কেউই চায় না। রাজনৈতিক চাপ ও শক্তি প্রদর্শনের ফলে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার শেষ পরিণতি কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র: বিবিসি