বইপত্র পড়তে ভালোবাসেন? তবে আপনার জন্য সুখবর আছে: বেশি দিন বাঁচবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, পড়ুয়া লোকজনের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ কম হয়ে থাকে।
সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মতো বই পড়ার অভ্যাসও মানুষের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ফলে সুযোগ হয় বেশি দিন বেঁচে থাকার।
৫০ বছরের বেশি বয়সী ৩ হাজার ৬৩৫ জনের ওপর ১২ বছর ধরে গবেষণা চালান বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ওই মানুষদের তিনটি দলে ভাগ করেন। প্রথম দলটি একেবারেই বই পড়ে না, দ্বিতীয় দলটি সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পড়ে আর তৃতীয় দলটি সপ্তাহে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বই পড়ে সময় কাটায়।
ফলাফল বেশ চমকপ্রদ: বইবিমুখ মানুষদের চেয়ে পড়ুয়ারা প্রায় দুই বছর বেশি বাঁচতে পারেন। শিক্ষা, আয়, স্বাস্থ্যের অবস্থাসহ পরিবর্তনশীল বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, সপ্তাহে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বই পড়ে অভ্যস্ত দলটির সদস্যদের মৃত্যুঝুঁকি ওই গবেষণাকালীন বইবিমুখ দলটির সদস্যদের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম ছিল।
আর একই পর্যায়ে সপ্তাহে সাড়ে তিন ঘণ্টার কম সময় বই পড়ে কাটানো দলের সদস্যদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বইবিমুখ দলের সদস্যদের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম ছিল।
বই কীভাবে মানুষের সুস্থতা ও আয়ুর ওপর এমন প্রভাব ফেলে, তা অস্পষ্ট। এ-সংক্রান্ত কার্যকারণ ওই গবেষণায় দেখানো হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অন্যান্য গবেষণা বলছে, উপন্যাস পড়লে মস্তিষ্কের সংযোগ সামর্থ্য ও সহানুভূতি সাধারণত বাড়ে। পাশাপাশি বই মানুষের মধ্যে দয়া, বিনয় ও সৃজনশীলতার বিকাশে সাহায্য করে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি-সংক্রান্ত বিদ্যার অধ্যাপক এবং বেকা আর লেভি বলেন, দিনে আধা ঘণ্টা পড়লেও উপকার পাওয়া যায়। এ রকম অভ্যাস থাকলে একদম বইবিমুখ লোকদের চেয়ে কিছুদিন বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির শিক্ষা, সম্পদ, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
ভালো খবর হলো, সামগ্রিকভাবে বই বিক্রি গত কয়েক বছরে বেড়েছে। নিয়েলসন বুকস্ক্যানের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর অন্তত ৬৫ কোটি ২০ লাখ বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে কাগজে ছাপা বই ও ইলেকট্রনিক বই—দুই-ই রয়েছে।
সতর্কীকরণ: উক্ত আর্টিকেলটি লেখকের নিজস্ব চিন্তা ও মতামত। আর্টিকেল বিষয়ে কোন আলোচনা-সমালোচনার জন্য অনিন্দ্যবাংলা সম্পাদক দায়ী নয়।